শারীরিকভাবে অক্ষম হয়েও যারা বদলে দিয়েছেন বিশ্বকে (পর্ব- ১)

জীবন তাদের সহজ ছিল না। কারও ছিল শারীরিক প্রতিবন্ধকতা, কারও বা পারিপার্শ্বিক সীমাবদ্ধতা। কিন্তু তারা দমে যান নি। নিজেই হয়েছেন নিজের প্রেরণা। নিজেদের কঠিন রোগের সাথে লড়াই করেছেন, লড়াই করেছেন সমাজের সাথে। সফল হয়েছেন, অনুসরণীয় উদাহরণ হয়েছেন বিশ্বব্যাপী সকল মানুষের কাছে। আসুন জেনে নিই, এইসব মানুষের জীবনের কথা, সংগ্রামের কথা।
স্টিফেন হকিং
বিশ্বের সবচেয়ে প্রেরণাদায়ক কোন ব্যক্তিত্বের নাম যদি নিতে হয় তাহলে কোন সন্দেহ নেই যে শুরুতেই আসবে স্টিফেন হকিংস এর কথা। এই অসাধারণ ব্যক্তি মটর নিউরন ডিজিজের শিকার হওয়া স্বত্বেও তার থিওরিগুলো দিয়ে বারে বারে চমকে দিয়েছেন, বদলে দিয়েছেন পৃথিবীকে। তার পা, হাত, কন্ঠ সম্পূর্ণ প্যারালাইজড। হুইল চেয়ারটি একটি কম্পিউটার সিস্টেমের সাথে যুক্ত যা অপারেট করে একটি ‘ব্লিঙ্ক সুইচ’। এই স্বনামধন্য কসমোলজিস্ট এবং রয়েল সোসাইটি অফ আর্টস এর সম্মাণিত সহকর্মী বিশ্বজুড়ে একজন টেক পন্ডিত হিসেবে স্বীকৃত। তিনি কাজ করেছেন গ্রাভিটেশনাল সিঙ্গুলারিটি এবং কৃষ্ণ গহবরের উপর। ‘A Brief History of Time’ তার সর্বোচ্চ বিক্রীত বই।
Nick Vujicic
নিক একটি বিরল অসুখ টেটরা এমেলিয়া সিড্রোমে আক্রান্ত। এই রোগের কারণে নিক জন্ম গ্রহণ করেন ৪ টি অংগ-প্রত্যংগ ছাড়াই। ছোটবেলা থেকেই সমাজের নোংরা মনমানসিকতার সাথে লড়তে হয় তাকে। কিন্তু হাল ছাড়েন নি তিনি। মাত্র ১৭ বছর বয়সেই তিনি একটি এন জি ও খুলতে সমর্থ্য হন, যার নাম ‘Life Without Limbs’। এই বয়সে আমাদের উপমহাদেশে কেউ বড় কিছু করতে পেরেছেন, এমন উদাহরণ বিরল। একাউন্টিং এবং ফাইন্যান্সিয়াল প্লানিং এ স্নাতক করার পর তিনি প্রেরণাদায়ক বক্তা হিসেবে নিজেকে তুলে ধরেন। তার বিষয় হল জীবনের মানে, আশা এবং শারীরিক অক্ষমতা। নিজে যেভাবে নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছেন, হারিয়েছেন শত অক্ষমতাকে তিনি চান তেমনি বিশ্বের সকল মানুষ যেন প্রতিকূলতাকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যায় আলোর দিকে, আশার দিকে।
হেলেন কেলার
হেলেন ছিলেন প্রথম বধির এবং একই সাথে অন্ধ একজন ব্যাক্তি ব্যাচেলর অফ আর্ট এ ডিগ্রী অর্জন করেছিলেন। ভাবতে পারেন, এরকম একজন মানুষের পক্ষে অন্য মানুষদের সাথে সংযোগ তৈরি করা কত কঠিন? আমাদের মত সুস্থ্য মানুষের পক্ষে তা আসলে অনুমান করাও সম্ভব নয়। কিন্তু তিনি শুধু তার পরিবারের সাথে নয়, সারা বিশ্বের সাথে নিজেকে সংযুক্ত করেছেন। যুক্ত হয়েছেন রাজনীতিতে। “দ্যা মিরাকল ওয়ার্কার” সিনেমাটি তৈরি হয় তাকে কেন্দ্র করে। ‘সোশ্যালিস্ট পার্টি অব আমেরিকা’র একজন প্রামাণিক সদস্য তিনি যেখানে তিনি সবার সামনেই ওড্রো উইলসনের রাজনীতির সমালোচনা করেছিলেন। সেই সাহস এবং রাজনীতি বোধ ধারণ করেন তিনি। লেখক হিসেবেও হেলেন সুপরিচিত। লিখেছেন ১২ টি বই। জিতেছেন Presidential Medal of Freedom। হেলেন তার জীবনের শেষ সময় উৎসর্গ করেছিলেন অন্ধদের সেবায়। কাজ করেছেন American Foundation for Blind এ।জীবনযুদ্ধে এই মানুষগুলোর সামনে ছিল একটাই কথা- আমিও পারি। তারা জেনেছিলেন, হার মানা যাবে না কখনো। এই শিক্ষাই হতে পারে আমাদের প্রেরণা, যার হাত ধরে বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে আমরাও হতে পারি সফল একজন মানুষ।

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top