জার্মান তরুণীর বুকফাটা কান্না

রবিবার ইতালির রোম শহরটি ঘুরে ফিরে দেখতে এসেছিলেন জার্মান তরুণী অ্যানি। পুরো নাম বললে বলতে হবে অ্যানিকা। রোমে মুগ্ধ হতেই হবে পর্যটকদের। অ্যানিও নিজের গাড়ি একটা পার্কিং লটে রেখে ঘুরে বেড়ালেন। সারাদিন ধরে রোমের সৌন্দর্য দেখলেন। মুগ্ধ হলেন, কখনওবা বিস্ময়ে চোখ কপালে তুললেন। কিন্তু তখনও জানতেন না অ্যানির জন্য আরও বিস্ময় অপেক্ষা করছে।

ইতালির এই শহর নিরাপদ হলেও একটা শ্রেণির জন্য শহরটি সব সময় নিরাপদ থাকে না। সারাদিন ঘুরেফিরে যখন নিজের গাড়ির কাছে ফিরলেন তখন শুধু বিস্মিতই হলেন না, নিমিষেই বুকে ফেটে চলে এলো কান্না। নিজেকে ধরে রাখতে পারলেন না। হাউমাউ করে সকলের সামনে কান্না শুরু করে দিলেন অ্যানি। তখন তাঁর খেয়াল নেই তিনি অন্য দেশে এসেছেন।

অ্যানি ফিরে দেখেন তাঁর গাড়ির কাচভাঙা। চোররা গাড়ির কাচ ভেঙে সব নিয়ে গেছে। শুধু ইউরোও নিয়ে যায়নি চোর, নিয়ে গেছে অনেক প্রয়োজনীয় জিনিস। বুকফাটা কান্নায় অ্যানি কাউকে বোঝাতেও পারছিলেন না যে তাঁর কি ক্ষতি হয়ে গেছে। খোয়া গেছে পাসপোর্ট, ইউরো, লাইসেন্সসহ আরো অনেক প্রয়োজনীয় জিনিস। যেগুলো শুধু অ্যানিই জানে কত ক্ষতি হয়েছে তাঁর। কতটা ঝামেলার মধ্য দিয়ে যেতে হবে তাঁর। হয়তো খোয়া গেছে অ্যানির বছরজুড়ে জমানো সম্বল যেটা নিয়ে তিনি সামারের ছুটি কাটানোর জন্য বেরিয়েছিলেন।
জার্মান তরুণীর বুকফাটা কান্না
প্রবাসী বাংলাদেশি তরুণী মিতু তাঁর ফেসবুকে লেখেন, ‘জার্মানির এই মেয়েটার মতো ২০০৬ এ আমিও এমন বিপদে পড়েছিলাম। কাজে যাওয়ার সময় মেট্রোর মধ্য আমার ব্যাগ কেটে পাসপোর্ট সহ টাকা, চেইন আরো অনেক পেপার্স নিয়ে যায় রোমানিয়ান চোররা। কি যে ঝামেলায় পড়েছিলাম সমস্ত পেপারগুলো আবার নতুন করে ঠিক করে আনতে! সময়ের কথা আর বললাম না থাক।’

হয়তো মিতুর মতো এই জার্মান তরুণীকেও এখন অনেক কষ্ট পোহাতে হবে। অনেক ঝামেলার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। কিংবা নিজ দেশে গিয়ে মানুষের কাছে মানুষের কাছে, আত্মীয়ের কাছে ইউরো ধার চাইতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা নিজ দেশে ফেরটাই এখন সবচেয়ে ঝামেলার হয়ে দাঁড়ালো কি না কে জানে। হয়তো এই চুরি তারচেয়েও বড় কোনো ক্ষতি করে গেল তাঁর জীবনে। না হলে সবার সামনে প্রকাশ্যে এইভাবে কান্নায় কেন ভেঙে পড়বেন এই জার্মান তরুণী।

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top