ঢাকার রাস্তায় যে ৫ টি ভয়ানক সমস্যার মুখোমুখি হন মেয়েরা

ঢাকার রাস্তায় ছেলেরাও চলাচল করতে বহু সমস্যার সম্মুখীন হয়, আর সেখানে মেয়েদের অবস্থা যে আরও বেশি নাজুক হবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। ঢাকার রাস্তায় বের হওয়া মানে যেন ভয়ংকর কোন এ্যাডভেঞ্চারের সম্মুখীন হওয়া। আসুন ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে জেনে নেই ঢাকার রাস্তায় তারা কী ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হন। কথা বলেছেন নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত বেশ কয়েকজন কর্মজীবী নারী।

নিরাপত্তার অভাব:

“ঢাকায় রাস্তায় বের হলেই মাথায় মধ্যে নিরাপত্তা বিষয়টা কাজ করতে থাকে। কয়েক মাস আগে ধানমণ্ডিতে আমি ছিনতাইয়ের কবলে পড়ি। একটা মোটরসাইকেল তীব্র গতিতে আমার কাছাকাছি চলে আসে। তারপর এক ঝটকায় আমার ব্যাগটা টান দিয়ে নিয়ে যায়। আমি রাস্তার মধ্যে মধ্যে পড়ে যাই। এরপর হাসপাতালে আমাকে প্রাথমিক চিকিৎসা পর্যন্ত নিতে হয়েছে।” কথাগুলো বলছিলেন সাদেকুন নাহার রূপা। তিনি একটি বেসরকারি এনজিও সুশিলনে কর্মরত।

বাসের মধ্যে হয়রানির শিকার:

বাসের মধ্যে মেয়েদের হয়রানি তো নিত্তদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রথমত ভিড় ঠেলে বাসে ওঠাটা মেয়েদের জন্য বড্ড ঝক্কির কাজ। এরপর বাসের মধ্যে ঘটতে থাকে একের পর বিব্রতকর ঘটনা। Allied Coatings and Chemicals Ltd- এ কর্মরত সাদিয়া শারমিন এ প্রসঙ্গে ক্ষোভের সাথে বলেন, “বাসের অনেক সহযাত্রীই মেয়েদের প্রতি কোন শ্রদ্ধা প্রদর্শন করেন না। কেউ কেউ ঘুমের ভান করে গায়ের উপর এলিয়ে পড়েন, কেউ বা শরীরে হাত দেওয়ার চেষ্টা করেন, কেউ ‘লেডিস’, ‘মেয়েছেলে’ বলে টিটকারি মারেন। আর ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকলে তো কথাই নেই। যতটুকু সুযোগ নেওয়া সম্ভব তারা নেন। তবে আমি ঢালাও ভাবে সবার কথা বলছি না। গুটিকয়েক মানুষ আছেন বিকৃত রূচিসম্মন্ন। কিন্তু তারা এতই সরব যে অন্যদের ভালো কাজগুলো তাদের আড়ালে ঢাকা পড়ে যায়।”

টিজিং:

কোন একটি বড় ঘটনা ঘটলে, ইভটিজিং নিয়ে মাঝে মাঝেই বেশ শোরগোল ওঠে। কিন্তু ঢাকার মেয়েরা প্রতিনিয়ত যে নানাভাবে টিজিং শিকার হয়, এটা অনেকেই জানে না। ইভটিজিং যেন অনেকটা ফ্যাশানে দাঁড়িয়ে গেছে। মেয়েদের স্কুলের সামনে, বাস স্ট্যান্ডে, বাজারসহ নানা জায়গায় মেয়েরা ইভটিজিং এর শিকার হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে একটি ইস্ট ওয়েস্ট ভার্সিটির মাস্টার্সের ছাত্রী বিপাশা দেবনাথ বলেন, “ইভটিজিং এখন খুব সাধারণ একটা ঘটনা হয়ে গেছে। আমরাও যেন এর সাথে অনেকটা অভ্যস্ত হয়ে গেছি। কেউ বাজে কিছু বললে এখন গায়ে না মাখিয়ে দ্রুত হেঁটে চলে আসি। আসলে মেয়েদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন না হলে এ সমস্যা কখনই নির্মূল হবে না।”

টয়লেটের সমস্যা:

এ শহরের অনেক মেয়েই ইউরিন ইনফেকশন এবং কিডনি রোগে আক্রান্ত। কারণ তারা প্রয়োজনের সময়ে টয়লেটে যেতে পারেন না এবং এই কারণেই তারা পানি কম পান করেন। টয়লেটের সমস্যা প্রসঙ্গে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ও কেয়ারে কর্মরত এক কর্মজীবি নারী বলেন, “ঢাকার রাস্তায় বের হলে টয়লেটের চিন্তা মাথা থেকে দূর করে ফেলি। পাবলিক টয়লেট তো খুঁজে পাওয়াই যায় না। আর যা দুই একটা আছে তাতে মেয়েদের যাওয়ার কোন অবস্থা নেই।”

বিভিন্ন মানুষ দ্বারা খারাপ আচরণের শিকার:

ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শারমিন জাহান শম্পা কথা বলেন রাস্তায় বিভিন্ন মানুষের খারাপ আচরণ বিষয়ে। তিনি বলেন, “সিএনজি চালক, রিকশা চালক, ফল বিক্রেতা সবার দ্বারাই কম বেশি খারাপ আচরণের শিকার হই। যেখানের ভাড়া ২০০ টাকা, সেখানে অনেকসময় ৩০০-৩৫০ টাকাও দিতে হয়। এর কারণ আমি মেয়ে। এজন্য অনেকে কোন কারণ ছাড়াই খারাপ আচরণ করে বসেন। আমিও অনেক সময় পাল্টা প্রতিবাদ করি। কিন্তু সবার তো আর প্রতিবাদের শক্তি নেই। তাদের কথা চিন্তা করে মায়া হয়।”

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top