বখশিস দিতে অভ্যস্ত? তাহলে সাবধানে থাকুন এই দেশগুলোতে!

কোন দেশে ঘুরতে যাওয়ার মানে কেবল সেখানে থাকা, প্রকৃতি দেখা আর ফিরে আসা নয়। আপনি যদি একটি দেশকে সত্যিই নিজের ভেতর দিয়ে অনুভব আর উপভোগ করতে চান তাহলে কেবল সৌন্দর্যই নয়, আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে সেখানকার মানুষ, সংস্কৃতি, পরিবেশের কথাও! পৃথিবীতে রয়েছে অনেকগুলো দেশ। যাদের প্রত্যেকেই একে অন্যের চাইতে আলাদা। প্রত্যেকটি দেশেরই রয়েছে কিছু নিজস্ব নিয়ম-কানুন। আর অনেক বড় বড় ব্যাপার থেকে শুরু করে সেই নিয়মটা রয়েছে খাওয়া দাওয়া করে বা গাড়ি থেকে নেমে খানিকটা টিপস বা বখশিশ দেওয়ার ভেতরেও!

এমন অনেক দেশ আছে যেখানে টিপ দেওয়াটা অনেক বেশি প্রীতিকর। হয়তো বাংলাদেশে অতটা চলন নেই, তবুও হোটেলে খাওয়ার শেষে ওয়েটারকে বাড়তি কিছু টাকা দেওয়াটা অনেকটাই ভালোভাবে নেওয়া হয় এখানে। কিন্তু অদ্ভুত হলেও সত্যি যে এমন অনেক দেশ রয়েছে যেখানে টিপস দিতে গেলে সাধুবাদ তো নয়ই, পড়বেন আরো ঝক্কির ভেতরে। আর তাই জেনে নিন কোন দেশগুলোতে টিপস দেওয়াটা মোটেই প্রীতিকর নয় আর মিলিয়ে নিন আপনার ভ্রমণের তালিকায় থাকা পরবর্তী দেশটি সেটিই কিনা!

১. চীন

চিনে সাধারণত বখশিস দেওয়ার কোন নিয়ম নেই। কেউ দেয়ও না। তবে প্রচন্ডরকম কম টাকা পাওয়ায় পর্যটনব্যবস্তার সাথে জড়িত গাড়ির চালকেরা বখশিশ নিয়ে থাকে।

২. ফ্রেঞ্চ পলিনেশিয়া

সাধারণত এখানেও বখশিস দেওয়ার কোন নিয়ম নেই। তবে দিয়ে দিলেও সেটাতে কেউ রাগ করেনা। বরং বিনীতভাবে ফিরিয়ে দেয়। আর অনেক খাবার দোকানের সামনে তো লিখেই দেওয়া হয় যে এখানে বখশিস দেওয়া নিষিদ্ধ!

৩. জাপান

জাপানে বখশিশ দেওয়াটাকে অনেক বেশি বাজে ব্যাপার হিসেবে মনে করা হয়। কারণ সেখানে ভালো ও মানসম্মত কাজটা সবসময়ই করা উচিত বলেই মনে করা হয়। তবে ট্যুর ড্রাইভারেরা টিপস নিয়ে থাকেন। তাও সেটা খামে করে বিনীতভাবে দিতে হবে।

৪. কোরিয়া

কোরিয়াতেও টিপস দেওয়াটা গ্রহনযোগ্য নয়। তবে কিছু কিছু হোটেল ১০ শতাংশ টাকা নিজেরা রেখে দেয়। আর ট্যাক্সির ক্ষেত্রে চালকেরা বখশিস রাখে যদি সেটা খুবই সামান্য টাকা হয়।

৫. হংকং

জাপানের মতন এখানেও বখশিস দেওয়াটা বাজে ব্যবহার হিসেবেই মনে করা হয়। তবে কিছু রেষ্টুরেন্টে আগে থেকেই খানিকটা টাকা কেটে নেওয়া হয় কৃতজ্ঞতা হিসেবে।

৬. সুইজারল্যান্ড ও বেলজিয়াম

এই দুইটি দেশে সব পণ্য ও সেবারই দাম প্রকাশিত থাকে। বেতনও দেওয়া হয় যথেষ্ট। আর তাই আলাদা করে বখশিশ দেবার প্রয়োজন পড়েনা। তবে ছোট আকারের বখশিস দেওয়া যেতে পারে।

৭. ব্রাজিল ও ইংল্যান্ড

ব্রাজিলে টিপস দেওয়া খুব একটা ভালোভাবে নেওয়া হয়না। তে তারপরেও খানিকটা বখশিশের সাথে এখন ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হয়ে উঠছে সবাই। অপরদিকে ইংল্যান্ডের অবস্থাও প্রায় একইরকম। এখানে কখনোই বখশিস দেওয়াটাকে অতটা ভালো চোখে না দেখে হলেও বর্তমানে সেটার চল শুরু হয়েছে।

তথ্যসূত্র-
Hate Tipping? Here Are 12 Countries Where You Don’t Have To – businessinsider.com

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top