আজকের চেনা ফল/প্রানীগুলো অতীতে ছিল অন্যরকম!

আজকে আমরা যেসব প্রাণী দেখি, যেসব ফল বা সবজি কিনে খাই চিরকালই কিন্তু তারা দেখতে একইরকম ছিল না। সময়ের সাথে সাথে পরিবর্তিত হয়ে অনেকেই বদলেছে আকার, রূপ আর রং। আসুন দেখে নিই কয়েকটি প্রাণী এবং পরিচিত ফল যা আগে ছিল দেখতে একদমই আলাদা।
তরমুজ
আজকের রসালো লাল তরমুজ আগে ছিল একেবারেই ভিন্নরকম। ১৭ শতকের রেনেসাঁর চিত্রশিল্পী Giovanni Stanchi এর চিত্রকর্মে আমরা দেখা পাই সম্পূর্ণ ভিন্ন এক তরমুজের। তার ছবিতে উঠে আসা তরমুজটির ভেতরের মোটেও আমাদের চিরচেনা তরমুজের মত লাল নয়। বরং অনেকটাই সাদা এবং কালো বীচিগুলো বেশ স্পষ্টই চোখে পড়ে। ছবিটি দেখে ধারণা করা হয়, এটি পাকা তরমুজ, কারণ বীচিগুলো বেশ বড় আকারের। কিন্তু হয়ত স্বাদে এটি বর্তমানের তরমুজের মত উপাদেয় ছিল না। তবে সমগ্র বিষয়টিই শুধু ধারণা।
পীচ
চীনে পীচের চাষাবাদ শুরু হয় ৩ হাজার বছর আগে। যারা পীচ খেতে ভালবাসেন তারা অবশ্যই চীনাদের প্রতি কৃতজ্ঞ হবেন তার বর্তমান এই রূপের কারণে। কারণ, চীনারা যদি এই উৎপাদনের দায়িত্ব না নিত তাহলে আমরা এই চমৎকার ফলটি আমরা খেতে পারতাম না। পীচের স্বাদ ছিল মেটে, লবণাক্ত, খাওয়ার অনুপযোগী। চীনের চাষাবাদ প্রযুক্তি বর্তমানে একে করেছে আকারে ছোট, চেরীর মত আর স্বাদে দারুণ।
ফটোসোর্স-www.grunge.com
ভেড়া
শুধু ফল নয় বদলেছে প্রাণীরাও। ‘মাওফ্লন’ নামের এক জাতের পাহাড়ি পশু ছিল, যাদের ভেড়ার মত এত সাদা আর ঘন লোম ছিল না। তাদের লোমগুলো ছিল লালচে বাদামি, ছোট ছোট চুল আর দেখতে অনেকটাই পাহাড়ি ছাগলের মত। এই প্রাণীটিকে গৃহে পালন শুরু হয় ১০ হাজার বছর আগে। সেই রূপ থেকে আজকের লোমস, মাংসল এবং দুগ্ধপ্রদানকারী প্রাণীতে পরিণত হতে এদের লেগেছে শত শত বছর।
গাজর
গাজরের রং কমলা, লম্বা, সরু একটি সবজি। স্বাদে মিষ্টি। চিরচেনা এই সবজিটি মানুষের চাহিদা মত প্রকৃতিকে বদলে ফেলার এক অনন্য নিদর্শন। প্রকৃত বন্য গাজর উৎপন্ন হত পারস্যে এবং এর রং ছিল সাদা বা বেগুনী। শেকড় ছিল কাঁটাযুক্ত। স্বাদ ছিল তেতো! একে খাদ্যউপযোগী করে উৎপাদন করে হল্যান্ড, তারা চাষাবাদের নানান প্রযুক্তি ব্যবহার করে দীর্ঘসময় ধরে বদলে দেয় গাজরের রং এবং স্বাদ! এই গাজরই আমরা চিনি এবং খাই।
ফটোসোর্স-www.grunge.com
ভুট্টা
ভুট্টার পরিবর্তন ভীষণ নাটকীয়। এর চাষাবাদ শুরু হয় ৯ হাজার বছর আগে। আজকের ভুট্টাকে তখন বলা হত ঘাস, নাম ছিল Teosinte। এটি ছিল খুবই শক্ত এবং ভেতরের আলুর মত শাঁস খাওয়ার জন্য পাথর বা এজাতীয় শক্ত কিছু দিয়ে ভাঙ্গার প্রয়োজন হত। তাও বলতে গেলে খাওয়ার অযোগ্যই ছিল। মানুষের চাষাবাদের প্রযুক্তির ব্যবহার এবং আবহাওয়া-জলবায়ুর পরিবর্তন আজকের ভুট্টাকে জন্ম দিয়েছে। ভুট্টা এখন যথেষ্ট রসালো, নানা উপায়ে খাওয়া যায়, স্বাদেও মিষ্টি।
কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top