ধেয়ে আসছে ফণী, সকল স্কুল বন্ধ ঘোষণা

দানবীয় রূপ নিয়ে ক্রমশ এগিয়ে যাচ্ছে ঘূর্ণিঝড় ফণী। বঙ্গোপসাগরে গত ৪৩ বছরে এপ্রিল মাসে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়গুলোর মধ্যে ‘ফণি’ সবচেয়ে শক্তিশালী বলে জানিয়েছে ভারতীয় আবহাওয়া অধিদপ্তর। বঙ্গোপসাগরে উষ্ণতার কারণে অনেকটা অস্বাভাবিকভাবে সৃষ্ট এবং উপকূলে আঘাত হানতে দীর্ঘ সময় নেওয়ায় ঘূর্ণিঝড়টি ক্রমশ শক্তিশালী হচ্ছে। উত্তাল হয়ে উঠছে সাগর।

বৃহস্পতিবার সকালে ওড়িশা উপকূল থেকে ঘূর্ণিঝড়টি মাত্র ৪০০ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থান করছে।

শুক্রবার ওড়িশা উপকূলে ঘণ্টায় প্রায় ২০৫ কিলোমিটার গতিতে আছড়ে পড়বে এই শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়। এরপর ফণীর অভিমুখ হবে পশ্চিমবঙ্গের দিকে। শক্তিশালী এই ঘূর্ণিঝড়টি ওড়িশায় আছড়ে পড়ার পর এর গতিবেগ কিছুটা কমে যাবে।

তবে শক্তি কমলেও এটি ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১১৫ কিলোমিটার বেগে পশ্চিমবঙ্গে আঘাত হানতে পারে। সে কারণে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে রাজ্যের সব স্কুলে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ওয়ান ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী তিনদিন ওড়িশার সব স্কুল-কলেজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

উপকূলের কাছাকাছি এলাকায় যেখানে ফণীর জন্য সতর্কতা জারি করা হয়েছে, সেখানে ছুটি দেওয়া হয়েছে নিরাপত্তার খাতিরে। যেখানে সতর্কতা নেই, সেখানে এই ছুটি বর্ধিত গরমের ছুটি হিসেবে ধরা হবে। অর্থাৎ সরকারি ও সরকার অনুমোদিত স্কুলে কাল থেকেই গরমের ছুটি শুরু হচ্ছে। প্রয়োজনে শেষের দিকে ছুটির মেয়াদ কমিয়ে দেওয়া হবে। পশ্চিমবঙ্গ থেকে এমনটাই জানানো হয়েছে।

দুর্যোগ-পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলায় ইতোমধ্যে পশ্চিমবঙ্গে এসে পৌঁছেছে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবেলা বাহিনীর সেকেন্ড ব্যাটালিয়ন। পূর্ব মেদিনীপুরের রামনগর ২ নম্বর ব্লকে মোতায়েন হয়েছে এনডিআরএফ-এর একটি দল। গতকাল থেকেই দিঘায় পর্যটক ও বাসিন্দাদের সতর্ক করার জন্য প্রচারণা চালাচ্ছেন এনডিআরএফ কর্মীরা। এছাড়া এই মুহূর্তে রাজ্যে বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে রয়েছে এনডিআরএফ-র ৬টি টিম।

ঝাড়গ্রামের সাঁকরাইল, পশ্চিম মেদিনীপুরের নায়ারণগর, খড়গপুর, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার কাকদ্বীপ, উত্তর চব্বিশ পরগনার ধামাখালী ও হাসনাবাদে রয়েছে বাকি দলগুলো। ফণী আছড়ে পড়ার সময় ও তার আগে-পরে কী কী সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে হবে তা গ্রামবাসীকে বোঝাচ্ছেন তারা। চলছে লাগাতার প্রচারণা। পরিস্থিতি মোকাবেলার রণকৌশল স্থির করতে আজ নবান্নে আপতকালীন বৈঠক করেছেন এনডিআরএফ-এর কর্মকর্তারা।

অপরদিকে ১৯৭৬ সালের পর ভারতীয় মহাসাগরীয় অঞ্চলে এত শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের মুখোমুখি হয়নি ভারত।

ভারতের দ্য হিন্দুর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতীয় আবহাওয়া অধিদপ্তরের মতে, দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় ফণী আগামীকাল শুক্রবার ভারতের ওডিশা রাজ্য উপকূলে আছড়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। আছড়ে পড়ার সময় ঘণ্টায় প্রায় ২০৫ কিলোমিটার গতি থাকবে এই ঘূর্ণিঝড়ের। গত চার দশকেরও (৪৩ বছর) বেশি সময়, অর্থাৎ ১৯৭৬ সালের পর ভারত মহাসাগরে এত শক্তিশালী ঝড়ের মুখোমুখি হয়নি দেশটি। ঘূর্ণিঝড় ফণী বর্তমানে তামিলনাড়ুর বিশাখাপট্টনমের পূর্ব উপকূল থেকে ৬০০ কিলোমিটার ও পুরী থেকে ৮০০ কিলোমিটার দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। ১৯৭৬ সালের (গত ৪৩ বছরে) পর এখন পর্যন্ত এপ্রিলে বঙ্গোপসাগরে যত ঘূর্ণিঝড় হয়েছে, তার কোনোটি কখনই এত শক্তিশালী আকার ধারণ করেনি।

ঘূর্ণিঝড় ফণীর বিষয়ে সতর্কতা জারি করে রেখেছে ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর। ওডিশায় এরই মধ্যে হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ ও অন্ধ্র প্রদেশের উত্তর উপকূল দিয়েও বয়ে যেতে পারে প্রবল ঘূর্ণিঝড় ফণী। এ ঘূর্ণিঝড়কে সামাল দিতে এরই মধ্যে অন্ধ্র প্রদেশ, ওডিশা, তামিলনাড়ু ও পশ্চিমবঙ্গের জন্য ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার ১ হাজার ৮৬ কোটি রুপি আগাম বরাদ্দ দিয়েছে। কাল দুপুরে ঘণ্টায় ১৭৫ থেকে ২০৫ কিলোমিটার বেগে ঝড় বইবে বলে জানিয়েছে দেশটির আবহাওয়া বিভাগ।

কমেন্টসমুহ
BD Life BD Life

Top