রমজানে ১৮০ টাকার নাশপাতি বিক্রি হচ্ছে ৪৫০!

রমজান উপলক্ষে বিশ্বের অনেক দেশে খাদ্যপণ্য কম দামে বিক্রির হিড়িক পড়ে যায়। ব্যবসায়ীরা অন্যান্য মাসে লাভ করলেও এ সময়টায় দিতে চান শুধু সেবা। তবে এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান পুরো বিপরীত। রমজানে বাংলাদেশে পাল্লা দিয়ে বাড়ে পণ্যে দাম।

বাংলাদেশে সকল ধরণের ব্যবসায়ীরা রমজান উপলক্ষে পণ্যের দাম বেশি নেয়। শাক-সবজী, ফল, মাংস থেকে শুরু করে সকল পণ্যের দাম এমনভাবে বৃদ্ধি করা হয়, সাধারণ মানুষ পড়ে যায় খুবই বিপদে।

বর্তমানে প্রায় সব ফলের দামে আগুন। দাম বৃদ্ধি পেয়ে কোনো কোনো ফলের দাম কেজিতে বেড়েছে দ্বিগুণ। আবার প্রায় তিনগুণও হয়েছে কয়েকটি ফলের দাম।

ইফতারের গুরুত্বপূর্ণ ফল নাশপাতিতে দামটা এমনই দেখা গেলো। রমজানকে কেন্দ্র করে বর্তমানে ১৮০ টাকার নাশপাতি বিক্রি হচ্ছে ৪৫০ টাকা কেজি। রমজানের আগে চীন থেকে আসা এক কেজি নাশপাতির দাম ছিল ১৮০ টাকা। অথচ রমজান আসার মাত্র কয়েকদিনের মধ্যে এই নাশপাতিই কেজি ৪৫০ টাকা।

শনিবার (১১ মে) বিকেলে রাজধানীর মিরপুর গোল চত্বরের ফলের দোকানে ৪৫০ টাকা দরেই বিক্রি হতে দেখা গেছে নাশপাতি।

মিরপুরের ফল বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, রমজানের আগে নাশপাতির কেজি ছিল ১৮০ টাকা, এখন ৪৫০ টাকা। আমাদের কিছু করার নেই। আমরা মোকাম থেকে কিনে বেচি। এ ছাড়া সব ফলের দামই বাড়তি।

রাজধানীর আরও কিছু স্থানে ঘুরে দেখা গেছে, সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে ফল। প্রতি কেজি আপেল এখন ২১০ থেকে ২২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অথচ রমজানের আগে ১৬০ টাকা দরে ফলটি বিক্রি হয়েছে। একইভাবে প্রতি কেজি কমলা ১০০ টাকা বেড়ে ২৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

প্রতি কেজি লাল আঙুর ৫০০ ও সাদা আঙুর ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি মাল্টা ১৮০, পেয়ারা ১০০, বেদানা ২৮০ ও আম ১৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

সর্বনিম্ন প্রতি কেজি দাপাস খেজুর ২৫০ ও সর্বোচ্চ কামরাঙা খেজুর দুই হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। রমজান উপলক্ষে সব ধরনের ফলের দাম দ্বিগুণ হওয়ায় ফল কিনতে ক্রেতারা অস্বস্তিতে।

এ দিকে পাইকারি ফল বিক্রেতাদের দাবি, বিগত পাঁচ মাসে অধিকাংশ ফল বিক্রেতা লোকসান করেছেন। যে দামে বিদেশ থেকে ফল আমদানি করা হয়েছে, সে দামে বিক্রি করতে পারেননি তারা। রমজানেও লোকসানের বোঝা গুনতে হতে পারে সেই ভয়ে ফল আমদানি কম করছেন পাইকাররা। ফলে বাজারে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় ফলের দাম বাড়তি।

কমেন্টসমুহ
BD Life BD Life

Top