মুরগির খোঁয়াড়ে মাকে রেখেছিল সন্তানরা, ঈদ করেছেন বৃদ্ধাশ্রমে!

শাহেরা বেগম ( ছদ্ম নাম)। বয়স আনুমানিক ৯৫ বছর। স্বামী ছিলেন এক সময়ের সাবেক ক্ষমতাশালী পুলিশ সুপার (এসপি)। স্বামী সন্তানদের নিয়ে খুব ভালোভাবেই চলছিল শাহেরার সংসার। সন্তানদের উচ্চশিক্ষিত করে সুন্দর ভবিষৎ গড়ে দিয়েছিলেন মা-বাবা। বেশ কয়েক বছর আগে স্বামী চলে গেছেন না ফেরার দেশে। এরপর থেকেই সংসারে বোঝা হয়ে গিয়েছিলেন মা শাহেরা বেগম। সন্তানদের কাছে এতটাই অবহেলিত ছিলেন মা শাহেরা যে, সন্তানেরা তাকে মুরগির খোঁয়াড়ে রেখেছিল। মুরগীর সঙ্গে থাকা-খাওয়া, ঘুমানোই ছিল শাহেরার জীবন। এখন তার আশ্রয় হয়েছে একটি বৃদ্ধাশ্রমে।

রাজধানীর কল্যাণপুর এলাকায় অসহায় ও আশ্রয়হীন বৃদ্ধদের জন্য ‘চাইল্ড এন্ড ওল্ড এইজ কেয়ার’ নামে একটি বৃদ্ধাশ্রমে কয়েক মাস যাবত থাকছেন শাহেরা বেগম। এবারের ঈদও বৃদ্ধাশ্রমেই কাটালেন শাহেরা বেগম। বয়সের ভারে অসুস্থ এই নারীর সব রকমের দেখাশোনা করছে প্রতিষ্ঠানটি। এই বৃদ্ধাশ্রমের মূল পরিচালক মিল্টন সমাদ্দার।‘নার্সিং এজেন্সি’ নামে একটি এজেন্সি রয়েছে মিল্টনের। বাড়ি বাড়ি গিয়ে অসুস্থ বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের সেবা দেয়াই সেই প্রতিষ্ঠানের কাজ। আর ওই প্রতিষ্ঠানের আয়ের টাকাতেই চলে মিল্টনের বৃদ্ধাশ্রমটি। সেখানে তাকে সব সময় সহযোগিতা করেন স্ত্রী মিঠু হালদার।

শাহেরা বেগম সম্পর্কে মিঠু হালদার বলেন, ‘এই মা হলেন একজন সাবেক এসপির স্ত্রী। কিন্তু স্বামী মারা যাবার পরে, তার সন্তানরা তাকে এমনভাবে রেখেছিল যা আসলে বর্ণনা করে বলা যায় না। তাকে মুরগি রাখার খোঁয়াড়ে রেখেছিল। সেখানেই মুরগির ময়লা , বিষ্ঠার মধ্যেই থাকতেন তিনি। বিক্রমপুর এলাকায় তাদের বিশাল এক বাড়ি। কিন্তু বাড়ির কোনো ঘরেই জায়গা হয়নি এই মায়ের।’

মিঠু হালদার আরও বলেন, ‘আমরা যখন এমন একটি খবর পেলাম, তখন আমরা ঢাকা থেকে তিনটা গাড়ি নিয়ে ওই বাড়িতে যাই। আমাদের যাওয়ার খবর পেয়ে বাড়ির সবাই পালিয়ে ছিল। কারণ তারা ভেবেছিল তিনটা গাড়ি নিয়ে মনে হয় সঙ্গে পুলিশও এসেছে। এই ভয়ে কেউ বাড়িতে ছিল না। আমরা পরে স্থানীয় মানুষ ও প্রশাসনের সহায়তায় তাকে আমাদের বৃদ্ধাশ্রমে নিয়ে এসেছি। আমরা এখানে এনে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছি। এখন তিনি মোটামুটি সুস্থ আছেন।

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top