আকর্ষণ ও আবেদনে উৎসবের ট্যাটু (পর্ব-০১)

শখ, ফ্যাশন কিংবা নিজেকে আলাদা করে উপস্থাপনের জন্যই শরীরে অাঁকা হয় ট্যাটু- এটাই চলতি ধারণা। তবে এই ট্যাটু এঁকেই গিনেজ বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ড করেছেন এক ব্যক্তি- ৭০ বছর বয়সী হরপ্রকাশ নামের এক ভারতীয় নাগরিক শরীরে ৩০৫ টি দেশের পতাকার ট্যাটু এঁকে স্থান করে অর্জন করে নিয়েছেন এই সম্মাননা। শুধু তাই নয়- ট্যাটু প্রকাশ করতে পারে বিশেষ গোষ্ঠি, মতাদর্শ, বিশ্বাস এবং ধর্মীয় মতবাদ। তাই ট্যাটুকে শুধুমাত্র ফ্যাশন অনুসঙ্গ ভাবলে ভুল হবে। এই ট্যাটু নিয়ে প্রিয়.কম তৈরি করেছে একটি সিরিজ প্রতিবেদন। আজ প্রকাশ হলো এর প্রথম পর্ব।

বিশ্বব্যাপী ট্যাটুর জনপ্রিয়তা মূলত যুবসমাজে। বিখ্যাত মানুষ, তারকা, খেলোয়াড়, গায়ক কিংবা আদর্শ- অনুসরণ করেও ট্যাটু আঁকছেন সকলে। প্রিয় মানুষ, পোষ্যপ্রাণী, নাম, বাক্য, কথা কিংবা তারিখ- শরীরে ধারণ করছেন সকলেই। পাশ্চাত্য সংস্কৃতি কিংবা পাশের দেশ ভারতীয় তারকাদের দিকে তাকালেই বোঝা যাবে ট্যাটুর জনপ্রিয়তা। জার্মানির এক রিসার্চ সংগঠন বিশ্বব্যাপী জরিপ চালিয়ে বলেন, বিশ্বের প্রতিটি ৩৫ জন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের একজনের গায়ে আঁকা আছে ট্যাটু। তবে আমাদের দেশে ট্যাটুর জনপ্রিয়তা এখনও প্রশ্নবিদ্ধ।

তথাকথিত ‘ইয়ো’ ছেলেমেয়েদের শরীরে থাকে ট্যাটু- এমন ধারণাই প্রচলিত আমাদের দেশে। ডিজে, বড়লোকের বিগড়ে যাওয়া সন্তান, মিডিয়াতে কাজ করে এমন অভিনেতা কিংবা অভিনেত্রী, মডেল, বডি বিল্ডার, ওরাই শরীরের নানা স্থানে ট্যাটু করে- এমন নাক উঁচু মন্তব্য কিছুদিন আগে পর্যন্ত শোনা যেত। তবে দিন পাল্টে গেছে। নিজেকে আকর্ষণীয় করে উপস্থাপন করতে আজকাল সাধারণ ছেলেমেয়েরাও নির্ভর করছে রঙিন কিংবা সাদাকালো ট্যাটুর উপর। দেশে কিংবা বিদেশে- সুযোগ পেলে এঁকে নিচ্ছেন ছোট্ট বা মাঝারি মাপের ট্যাটু।

নারী শাড়ীতেই সুন্দর- এ কথার দ্বিমত করবে না কোন বাঙালি। তবে রমনীয় সৌন্দর্য্যে বাড়তি আবেদন যোগ করে ট্যাটু। শাড়ির ফাঁকে উঁকি দেয়া কোমড়, পেট কিংবা নাভির ট্যাটুটি যেকোন নারীকেই করে তুলতে পারে অনন্যা। ব্লাউজের কাট বুঝে ঘাড়ে, গলায় কিংবা বুকের আলতো ট্যাটুর আকর্ষণ আগ্রাহ্য করা কঠিন। শুধু শাড়ি কেন? সালোয়ার কামিজ, ফতুয়া, শার্ট, টিশার্ট- যে কোন পোশাকেই ট্যাটু আলাদা মাত্রা যোগ করে। হাতের কবজি, বাহু, কানের নিচে এমনকি চোখের কোনে মানানসই ট্যাটুর মাধ্যমে নিজের স্বতন্ত্র উপস্থাপন খুব সহজ। পায়ের বিভিন্ন স্থানে ট্যাটু আঁকছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নারীরা। তবে রক্ষণশীল সামাজিকতায় পায়ের নিচের দিকে গােড়ালি, অ্যাংকেল কিংবা পায়ের পাতায় ট্যাটু মোটেও কঠিন নয়। লেগিংস, পাজামা কিংবা স্কার্ট- পায়েল কিংবা নূপুর- ট্যাটুর আবেদনে ঘাটতি নেই।

ট্যাটুর ক্ষেত্রে পুরুষদের অবশ্য ছাড় অনেকটা। বাহু, কবজি, পিঠ, ঘাড়, বুক, পা কিংবা পেটে আঁকতে পারেন পছন্দের ট্যাটু। রঙিন কিংবা সাদাকালো ট্যাটু সহায়তা করে ‘ম্যানলি’ লুকে। অবশ্য ট্যাটু করতে গেলে সইতে হবে নিদারুণ যন্ত্রণা- এ কথা আর খাটে না। কারণ স্থায়ী ট্যাটুর পাশাপাশি আজকাল স্বল্পকালীন ট্যাটু কিংবা স্টিকার ট্যাটুর চলটাও বেশ। ইচ্ছা হলেই ২০/২৫ দিনের জন্য এঁকে ফেলা যায় ট্যাটু। আবার পছন্দের ট্যাটু স্টিকার কিনে এনে শরীরে লাগিয়ে যেকোন বিশেষ দিন বা উৎসবে নিজেকে করে তোলা যায় অন্যদের চেয়ে আলাদা।

ট্যাটু দেখতে সুন্দর কিন্তু আঁকা খুব সহজ নয়। ট্যাটু আঁকার সবচেয়ে প্রচলিত পদ্ধতি হলো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সুচের সাহায্যে শরীরের মধ্যে অতিসূক্ষ্ম ছিদ্র করা হয়। এভাবে ছিদ্র করে একটি আকৃতি এঁকে নেয়া হয়। তারপর সেখানে অমোচনীয় কালি বা রং বসিয়ে ট্যাটুকে ফুটিয়ে তোলা হয়। ট্যাটু অংকন অত্যন্ত ব্যথা দায়ক কাজ, যা সবাই সহ্য করতে পারে না। বর্তমান বাজারে ট্যাটু আঁকার মেশিনও রয়েছে। শরীরে ট্যাটুর আঁকার অনেক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও রয়েছে। ট্যাটুর ফলে ত্বকে বিভিন্ন রোগ সৃষ্টি হতে পারে, এমনকি এইডস ও ক্যানসারের ঝুঁকিও রয়েছে। তবে ক্ষতিকর প্রভাব এড়াতে ক্ষণস্থায়ী ট্যাটুও আঁকা যায়, এতে সুচ দিয়ে শরীরে ছিদ্র করার কোনও ভয় থাকে না। আর স্টিকার ট্যাটু! দোকান থেকে পছন্দের ট্যাটু কিনে এনে শরীরের নির্দিস্ট স্থান লাগিয়ে নিলেই হল।

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top