বুননে বাহার

অাঁচল, কুঁচি, পাড় কিংবা জমিন, নকশা, বুনন—শাড়ি কেনার বেলায় সবগুলোই দেখে নেবেন শৌখিন ক্রেতা। তবে সবকিছুই কি মনের মতো পাওয়া যায়? কোনোবারের ধারা বা ট্রেন্ড থাকে ভারী কাজের আঁচল তো কোনোবার চওড়া পাড়। বুননে বৈচিত্র্য কখনো পাবেন তো কখনো জমিন সাদামাটা। তবে এবার শাড়ির বাজারে বৈচিত্র্য বেশ। ঐতিহ্যবাহী শাড়ি যাঁরা পছন্দ করেন, তাঁদের জন্য আছে পছন্দের প্রচুর সুযোগ। নতুনত্বও আছে। আর ব্লাউজে বৈচিত্র্যের কথা নতুন করে বলার নেই। পয়লা ফাল্গুন, পয়লা বৈশাখ থেকেই তো বাহারি ব্লাউজ চলছে। ঈদের ফ্যাশনেও হেরফের নেই।
এককথায় শাড়ির বাজারের ফ্যাশনের কথা বললে সুতার কাজের কথাই আসবে। পুরোনো সুচের ফোঁড়গুলো নতুনরূপে উপস্থাপন করেছে অনেক ফ্যাশন হাউস। সূক্ষ্ম সুতার কাজের নকশা দেখা যাচ্ছে বেশ। শাড়িজুড়ে সুতার কাজ তো আছেই, শুধু আঁচলে, পাড়ে বা কুঁচিতে একটু নকশা—এমনও চলছে।
সুতার সূক্ষ্ম কাজ শাড়িতেসুতার কাজ নিয়ে সম্প্রতি এক প্রদর্শনী হয়ে গেল ফ্যাশন হাউস বিবিয়ানার আয়োজনে। প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোক্তা ও প্রধান ডিজাইনার লিপি খন্দকার জানালেন, প্রদর্শনী ছাড়াও ঈদবাজারের জন্য তাঁরা সুতার কাজের শাড়ি এনেছেন। পুরোনো ডাল ফোঁড়, চেইন ফোঁড়, ক্রস স্টিচ, নানা রকম ভরাট কাজের নকশা করা শাড়ি আছে। ‘ঈদে তো সবার কথা ভেবেই পোশাকের নকশা করতে হয়। সুতার কাজের প্রাধান্য তো আছেই। অন্যান্য নানা মাধ্যম যেমন ব্লকপ্রিন্ট, অ্যাপ্লিক, মেশিন এমব্রয়ডারিও পাবেন।’ বললেন তিনি।
বর্ষায় ঈদ পড়েছে। তাই শাড়ির রংগুলোও বেশ চড়া হবে বলে মনে করেন তিনি। উজ্জ্বল, নিওন রংগুলো চলবে। কমলা, ম্যাজেন্টা, সবুজ, নীলে চোখ ধাঁধাবে।
আড়ং এবার এনেছে সুতার কাজের বড় সংগ্রহ। পয়লা বৈশাখ থেকেই তাদের শাড়ির সংগ্রহে দেখা যাচ্ছিল সুতার কাজের বাহার। বছরজুড়েই এ নিয়ে কাজ করা হবে বলে জানিয়েছিলেন তাঁরা। ‘সুতার কাজ পছন্দ করেন অনেকেই। তবে সবার সাধ্যের মধ্যে যাতে দামটা থাকে, সে কথাও ভেবেছি আমরা। এ জন্য শাড়ির কোনো একটা অংশ জুড়ে করা হয়েছে কাজ, আবার কখনো শুধু আঁচল বা পাড়ে নকশা করা হয়েছে। এ ছাড়া ভারী কাজের শাড়িও আছে। যে কেউ বেছে নিতে পারবেন নিজের বাজেট অনুযায়ী।’ জানালেন তাঁদের জ্যেষ্ঠ ডিজাইনার শাহীনা রাব্বি।
ছোটখাটো অনুষঙ্গ যোগ করেও শাড়ির নকশায় ভিন্নতা আনা হয়েছে দেখা গেল। আড়ংয়ের শাড়িতে আঁচলে টাসেল লাগানোর চল বেশ দেখা যাচ্ছে। শাড়ির রঙের সঙ্গে মিলিয়ে বা একদম বিপরীত রঙের টাসেল থাকছে। তাতে সাদামাটা শাড়িতেও ফুটে উঠছে বেশ ভিন্নতা।
বুননে বৈচিত্র্য এবারের শাড়িবাজারের বড় আকর্ষণ। থান হিসেবে শাড়িতে নকশা করার চল তো ছিলই। একটু বড় বাজেটের কাজ যাঁরা করেন, তাঁরা এবার মনোযোগ দিয়েছেন বুননে।
হাফউইভিং জামদানি শাড়ি এবারের নতুন আয়োজনফ্যাশন হাউস রঙের ডিজাইনার বিপ্লব সাহা বললেন, ‘বুনন নিয়ে কাজ করতে একটু সাহসই লাগে। বড় বাজেট থাকা চাই। তাঁতে পছন্দমতো শাড়ি বুনে নিতে চাইলে অনেক বড় পরিসরে কাজ করতে হয়। এবার সেই চেষ্টাই করেছি আমরা। শাড়িতে ডিজাইনার ওয়্যারের ধারণা দিতে চাই ক্রেতাদের। তাঁরা যাতে পরে একদমই ভিন্ন আমেজ পান। এ ছাড়া হাতের কাজের সূক্ষ্মতা তো থাকছেই।’
ঐতিহ্যবাহী জামদানি, কাতানের কদর বরাবরই একেশ্রণির ক্রেতাদের কাছে আছে। বাজারচলতি ধারা যা-ই হোক, তাঁরা এই শাড়িগুলোই কেনেন। আড়ং এবার এনেছে হাফসিল্কে পেটানো কাজের শাড়ি। পরতে বেশ আরামদায়ক এই শাড়িগুলো। জামদানিতেও ভিন্নতা এনেছে তারা। গুজরাটি স্টিচের নকশা করা হয়েছে জামদানিতে। হাফউইভ শাড়িও থাকছে। এতে শুধু আঁচল বা শাড়ির একটা নির্দিষ্ট অংশে জামদানি নকশা করা হচ্ছে, বাকি শাড়িটা থাকছে সাদামাটা। টাই–ডাই জামদানিও আছে।
পুরো শাড়িতে সূক্ষ্ম কাঁথা ফোঁড়ের শাড়ি পাবেন ফ্যাশন হাউস অরণ্যতে। তাদের প্রাকৃতিক রঙের শাড়িতেও আছে সুতার কাজ। পাড়ে বা আঁচলে সূক্ষ্ম সুতার নকশা থাকছে।
তাঁতের শাড়ির বেশ জনপ্রিয়তা এখন। নানা হালকা নকশার সুতি শাড়িও বেশ চলছে।
এবার শাড়ির সঙ্গে ব্লাউজ পিসগুলোও করা হয়েছে বাড়তি মনোযোগ দিয়ে। বাজার ঘুরে সে রকমই দেখা গেল। শাড়ির সঙ্গে যে পিসগুলো আছে, তাতেই কন্ট্রাস্ট রং বা নানা রকম কাজ দেখা যাচ্ছে। আগে যা দেখাই যেত না বলা যায়, সাদামাটা রং মেলানো ব্লাউজ পিসই থাকত। সুতি শাড়ির সঙ্গে ব্লাউজের ভিন্নতা এবার বেশ দেখা যাবে। শাড়ির তুলনায় ব্লাউজটা বেশ জমকালো—এবার এমনই চলছে বলে জানালেন লিপি খন্দকার।
তাঁতের সুতি শাড়িও বেশ চলবে

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top