যে বৈশিষ্ট্যটি সব সফল উদ্যোক্তাদের মাঝেই উজ্জ্বল

ধরুন, একটি কক্ষে এক দল মানুষ বসে রয়েছেন। এরা সবাই সম্ভাবনাময় এবং সফল উদ্যোক্তা। তাদের যদি প্রশ্ন করা হয়, আপনাদের কাদের ক্যারিয়ার গড়তে দারুণ সংগ্রাম করতে হয়েছে? জবাব একযোগে সবাই হাত তুলবেন। এদের দক্ষতা, প্রতিশ্রুতি, অর্থব্যবস্থা, কৌশলি পদ্ধতি উদ্ভাবন ইত্যাদি ক্ষেত্রে একেক জনের একেক ধরনের বৈশিষ্ট্য চোখে পড়বে। একেক জন একেক দিক থেকে অনন্য ও বৈচিত্র্যপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, এদের সবার মাঝে একটি বিষয় সাধারণভাবে চোখে পড়বে। এটি সব সফল উদ্যোক্তার মাঝেই দেখা যায়। তা হলো, হাল না ছাড়ার প্রবণতা।

অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে যেখানে অধিকাংশ উদ্যোক্তা এমন সব ব্যর্থতার সম্মুখীন হয়েছেন যা ক্যারিয়ার ধ্বংসের জন্যে যথেষ্ট। তারা মানসিক, দৈহিক এবং অর্থনৈতিকভাবে পুরোপুরি ধসে পড়েছেন। কিন্তু লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত থেমে থাকেননি তারা।

উদ্যোক্তরা সব সময় গতানুগতিক পদ্ধতি বদলাতে থাকেন। নতুন খাত খুঁজে বের করা, নিরাপত্তাহীনতার মাঝেও শক্ত অবস্থান নেওয়া, প্রচলিত ধারাকে প্রয়োজনে এড়িয়ে যাওয়া ইত্যাদি কাজে দক্ষ তারা। চলতি ধারার সঙ্গে নিজের উদ্ভাবনী ধারাকে মিলিয়ে নতুন কিছু করেন তারা। যন্ত্রণাদায়ক পরিবেশ এবং সংগ্রামের পথ এড়িয়ে যান না তারা। বরং এ পথে হেঁটে লক্ষ্য অর্জনে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থাকেন।

ইউকে-ভিত্তিক বিজনেস গ্রুপ ‘অ্যাপ্রুভড ইনডেক্স’ এক গবেষণায় জানায়, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের জনসংখ্যার ভিত্তিতে উদ্যোক্তর সংখ্যা এবং তাদের নানা ব্যবসার তথ্য তুলে ধরা হয়। এ কাজ করতে গিয়ে অদ্ভুত এক তথ্য বেরিয়ে আসে। উগান্ডার মতো একটি দেশ এ তালিকার শীর্ষে চলে আসে। সেখানকার ২৮ শতাংশ জনগণ আত্মনির্ভরশীল। অর্থাৎ তারা ব্যবসা করেন। স্বৈরশাসনের হাত থেকে সম্প্রতি মুক্তি মিলেছে তাদের। উগান্ডার পেছনেই রয়েছে ভিয়েতনাম। তারা বিভিন্ন সময় আর্থ-সামাজিক সমস্যার মধ্য দিয়ে গিয়েছে। ২০১৩ সালের মধ্যে ভিয়েতনাম মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়। বর্তমানে সে দেশের ১৩.৩ শতাংশ মানুষ উদ্যোক্তা।

একটি দেশের গোটা চিত্র বদলে দিতে পারেন সেখানকার উদ্যোক্তারা। এমনকি তারা দেশের আর্থ-সামাজিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করেও এগিয়ে যেতে পারেন। প্রতিনিয়ত বেড়ে যাওয়া সমস্যার মুখোমুখি থেকেও সফল উদ্যোক্তারা বাধা থেকে বেরিয়ে আসেন। এর পেছনে তাদের অদম্য মনোভাবে একমাত্র অবলম্বন। তারা সবাই একই ধরনের সমস্যায় জর্জরিত। কিন্তু যারা শেষ পর্যন্ত হাল ছেড়ে দেন তারাই ব্যর্থতার চেহারা দেখেন। নেতিবাচক পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে সব সময় ইতিবাচক থাকেন তারা। আর এ বিষয়টি সব সফল উদ্যোক্তার মাঝেই দেখা যায়। সূত্র : বিজনেই ইনসাইডার

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top