‘ইয়ো বেবি ইয়ো’

সন্ধ্যাটা কোন এক ক্যাফেতে বসে কফি খেতে খেতে গল্প করা যেত বন্ধু কিংবা প্রেমিকার সঙ্গে। সাথে যদি মান্নাদের সেই চির চেনা গানটি ‘কফি হাউজের সেই আড্ডাটা আজ আর নেই’ মৃদ আওয়াজে শোনা যেত- একেবারে মন্দ হত না। কিন্তু তা আর হলো না। র্যাপ গানে তারুণ্যেরা মুখরিত হয় যে শহরে, ক্ষণিকের জন্য সেই শহরের বাসিন্দা হতে হলো। বলছি বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার কথা।

৩০ জুলাই সন্ধ্যায় বাংলাদেশে প্রথমবারের মত ভিন্নধর্মী এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল ওয়াচেস ওয়ার্ল্ড যার নাম ‘বিডি হিপহপ ফেস্ট’ ২০১৫। বসুন্ধরা আন্তর্জাতিক কনভেনশন হলের প্রধান গেটে পা রাখতেই ভিতর থেকে দর্শকের আওয়াজ কানে এসে বিঁধল। এত চিৎকার কেন? সাথে র্যাপ গানের আওয়াজ ‘ওগো তুমি বুঝোনা, ওগো তুমি বলনা’ সুরের তালে সাথে নেচে পাশে থাকা আরেক জন বলে উঠল ‘ইয়ো বেবি ইয়ো’। পাঁচ জনের এই র্যাপারে দলের নাম ‘নির্ঝর আই এন জি’।

সিলেটি ভাষার এই র্যাপ গানটি শেষ হলে তাকে জিজ্ঞাসা করি ‘গানের সাথে নাচার কি কারণ?’ তিনি বললেন, ‘আপনি আমার সাথে গান ধরেন।’ তার সুরে সুর মিলিয়ে দেখলাম গানের সাথে নাচ এমনিতে চলে আসে। ‘মজা না?’ বললেন নির্ঝর। বেশ মজা নিয়েই আবারও চলে গেলেন স্টেজে। আমিও মজা নিয়ে মন দিলাম গানে।

রাত বাড়ে ধীরে ধীরে, বাড়তে থাকে দর্শকও। তাদের সবার মধ্যে রয়েছে দারুন একটি মিল- তা হলো এরা নাচতে পারেন একই ভঙ্গিতে। একে একে স্টেজে পারফর্ম করতে থাকেন বিডি হিপহপের সব র্যাপার। এরপর একটু বিরতি নিয়ে শুরু হয় ভিন্নধর্মী এক র্যাপ ফ্যাশন শো। এই ফ্যাশেন শোতে অংশ নেন মডেল রুমা, ঝুমুরসহ মোট ছয়জন। অন্যান্য ফ্যাশেন শো থেকে এই ফ্যাশেন শো অনেকটাই ব্যতিক্রম। ওয়েস্ট্রার্ন জামার সঙ্গে রয়েছে সেই র্যাপের নাচ। দৃষ্টি ছুঁয়ে যাওয়া এই ফ্যাশেন শো দেখে পেছন থাকা দর্শকের সিটি শুনে বোঝা যায় তারা ভালোভাবেই গ্রহণ করেছেন মডেলদের।

ফ্যাশন পর্ব শেষ হয়ে আবার শুরু হয় ‘রেকজো’ র্যাপারের গান। এবার পুরান ঢাকার ভাষায় একটি র্যাপ গান করেন ‘মন আমার কাইড়া নিল পাশের বাড়ির মাইয়া’। পুরান ঢাকার যারা দর্শক ছিলেন তাদের কণ্ঠে চিৎকার শুনে আবারও হলটি ভারি হয়ে যায়। গান শুনতে শুনতে ঘড়ির কাঁটা চলে যায় রাত ১০টায়। একমাত্র নারী র্যাপার জেফার মঞ্চে উঠতেই হল্লা ওঠে- গান শেষে ওয়ান মোর প্রতিধ্বনি শুনে বোঝা যায়, র্যাপ গানের জনপ্রিয়তা আমাদের দেশে কম নয়।

প্রধান গেটের দিকে চোখ যেতেই দেখা মিলল কিছু বিদেশি মেহমানের। তাদের মধ্যে বেশির ভাগই হচ্ছেন নারী। গেট পাশ নিয়ে তারা হলের ভিতরে আসেন। খবর নিয়ে জানতে পারি তারা সবাই আমেরিকান অ্যাম্বাসিতে কর্মরত আছেন। তাদের বন্ধু র্যাপার আলফ্রেড আজকের অনুষ্ঠানে পারফর্ম করবেন এবং বাকি সবাই তার আমন্ত্রিত অথিতি। শুরু হয় তার পরিবেশনা।

দর্শকের হইহুল্লরে মনকাড়া পরিবেশন শুরু করেন তিনি। দর্শকের সারি থেকে মাঝে মাঝে দু একজন শূন্যে উড়াল দেয় আবার নেচে ওঠে। এভাবেই তিনটি গান গেয়ে মাতিয়ে রাখেন রাত ১২টা পর্যন্ত। কিছুক্ষণের বিরতি নিয়ে আবার শুরু হয় অনুষ্ঠান। এবারের পর্ব ফায়ার ওয়ার্ক। মনমুগ্ধকর এই পরিবেশনা দেখতে সবাই এবার একটু নড়েচড়ে বসলেন। পরিশেষে আসলেন র্যাপার জ্যাং। ‘এই মামা এই’ এই গানটি গেয়ে তারা কেক কাটেন প্রথম ‘বিডি হিপহপ ফেস্ট’ ২০১৫ এর জন্য।

দীর্ঘ সময় পার করলাম শহরের ভিতরের আরেকটি শহরে। একটি বারের জন্যও মনে হয়নি আমি বাংলাদেশের কোন স্থানে আছি। জানি আমি ছিলাম তারুণ্যের শহরে, হিপহপ ফেস্টে।

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top