ভীষণ রহস্যজনক ভাবে উধাও হয়ে গিয়েছে যে ১০ জাহাজ! (পর্ব- ১)

ছোটখাটো নৌকা থেকে শুরু করে বড়বড় জাহাজ, কতকিছুই তো সাগরের বুকে চলাচল করে। এদের কোন কোনটা মাঝে মাঝে সম্মুখীন হয় নানারকমের বিপদের। কোন জাহাজ ভেঙে যায়, কোনটা দবে যায় কিংবা ঘটে আরও হরেক রকম দুর্ঘটনা। কিন্তু এমন কিছু নৌযান রয়েছে ইতিহাসের পাতায়, যেগুলো কিনা হঠাৎ করেই উধাও হয়ে গিয়েছে। যাকে বলে রীতিমত ভ্যানিশ! পরবর্তীতে কোন ধরনের চিহ্নও পাওয়া যায়নি এই জাহাজগুলোর, মেলেনি নাবিকদের মৃতদেহ, এমনকি আজও পাওয়া যায়নি রহস্যের কোন কূল-কিনারা। আর এমন কয়েকটি নৌ যানের রহস্যময় উধাও হবার ঘটনা নিয়ে সাজানো হয়েছে আজকের “অমীমাংসিত” বিভাগ।

১. দ্যা ইউএসএস ওয়াস্প শীপ
১৮১৩ সালে তৈরি হয়েছিল আমেরিকার এই জাহাজটি। ২২ টি আগ্নেয়াস্ত্র আর ১৭০ জন মানুষকে দিয়ে সাজানো হয়েছিল এটি। বেশ কয়েকটি অসাধারণ কাজের জন্যে আমেরিকার একটি মূল্যবান সম্পদে পরিণত হয়েছিল ওয়াস্প। এর বেশ কিছুদিন পরের কথা। ১৮১৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর। অন্য জাহাজদের তুলনায় ভালোরকমের সুন্দর আমেরিকার ওয়াস্প ব্রিটিশ জাহাজ আটলান্টাকে দখল করে নেয়। এমনিতে এসব ক্ষেত্রে দখলকৃত জাহাজের সবকিছু নিয়ে ফেলে সেটাকে পুড়িয়ে দেওয়া হত। কিন্তু আটলান্টা বেশ দামী হওয়ায় সেটাকে না পুড়িয়ে কিছু মানুষকে পাঠানো হয় সেটাকে আশে-পাশের কোন বন্ধুসূলভ রাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ার জন্য। কথা মতন সব কাজই হয়। সুইডেনে আটলান্টাকে রেখে নাবিক ব্লেকলি তার অন্য সাথীদেরকে নিয়ে চলে আসে ওয়াস্প যেখানে ছিল সেই জায়গায়। কিন্তু অবাক হয়ে দেখতে পান যে সেখানে কোন জাহাজের নিশানাই নেই। এভাবেই হুট করে হাওয়া হয়ে যায় আমেরিকান সুন্দরী ওয়াস্প। এরপর আর কখনো এর কোন টুকরো কিংবা নাবিকদের দেহ- কিছুই পাওয়া যায়নি।

২. মেরিন সালফার কুইন
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্যবহৃত এই জাহাজটি পরবর্তীতে সালফার বহনকারী হিসেবে কাজ শুরু করে এবং ১৯৬৩ সাল অব্দি সেটাই চালু রাখে। যদিও সালফারের কারণে মাঝে মাঝে এতে আগুন লেগে যেত। তবে সেটা এত বেশি পরিমাণে হত যে শ্রমিকেরাও আস্তে আস্তে ব্যাপারটাকে অবহেলা করতে শুরু করে। ১৯৬৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাস ছিল সেটা। টেক্সাস থেকে সালফার ভর্তি মেরিন কুইন সাধারন একটি বার্তা পাঠায়। কোন সমস্যার নিদর্শন সেই বার্তায় ছিল না। ব্যাস! সেই পর্যন্তই। এরপর আর দেখা যায়নি আ খোঁজ পাওয়া যায়নি এই সালফার রানীর। অনেকে সালফারের ফলে বিস্ফোরন হয়েছে ধারনা করলেও বাকিরা বারমুডা ট্রায়াঙ্গালকে দায়ী করেন এ ঘটনার পেছনে। আসল ঘটনা আজও জানা যায়নি।

৩. এন্ড্রেয়া গ্রেইল
মাঝ ধরা ট্রলার এন্ড্রেয়া গ্রেইলকে তৈরি করা হয় ১৯৭৮ সালে ফ্লোরিডাতে এবং সেখান থেকে ম্যাসাচুসেটসে চলে আসে সে। ৬ সদস্যবিশিষ্ট ট্রলারটি উধাও হবার আগে ১৩ বছর পর্যন্ত মাছ ধরার কাজ চালু রাখে। তবে নিউফাউন্ডল্যান্ডে এক যাত্রাকালীন সময়ে মাঝপথেই হঠাৎ উধাও হয়ে যায় সে। মনে করা হয় মাঝ সমুদ্রে হারিকেনের মুখোমুখি হয়ে ডুবে যায় এটি। তবে খুব বেশি প্রমাণ কিন্তু নেই কারো হাতেই!

৪. দ্যা পোয়েট
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় দ্যা জেনারেল ওমার বান্ডি নামে পরিচিত হলেও পরবর্তীতে ইগুয়ানার ভেতরে এলে এর নাম দেওয়া হয় পোয়েট। সেবার ১৯৭৯ সালে ১৩,৫০০ টন শস্য নিয়ে ফিলাডেলফিয়া থেকে মিশরের পোর্ট সাঈদে রওনা করেছিল পোয়েট। সবটাই ঠিকঠাক ছিল। কেবল সমস্যাটা হয়েছিল যে সেই শস্য আর কখনো মিশরে গিয়ে পৌঁছায়নি। কেন? জানেনা কেউ। ফিলাডেলফয়া থেকে ছাড়ার ছয় ঘন্টা অব্দি জাহাজটি ঠিকঠাক ছিল। কিন্তু এরপর কী হয় আর জানা যায়নি। না কোন বার্তা, না কোন চিহ্ন! মোট এগারো দিন পর খোঁজাখুজি শুরু করে দেশটি। ফলে যদি কিছু পাওয়ার মতনও থাকতো সেটাও অদৃশ্য হয়ে গিয়েছিল এর ভেতরে।

তথ্যসূত্র-
10 Ships That Simply Vanished Without A Trace- listverse.com

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top