“কিছু কিছু কথা থাকে কাউকেই শেয়ার করা যায় না…”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জানিয়েছেন নিজের সমস্যার কথা।

“আমি আমার বাবা মায়ের একমাত্র মেয়ে। এক দাদাও আছে। ছোট বেলা থেকেই ভালো ছাত্রী ছিলাম। এখন আমি দেশের বাইরে স্কলারশিপ নিয়ে পিএইচডি করছি ইনভাইরোমেন্ট সায়েন্স নিয়ে। আমি যখন বিএসসি পড়ি তখন ফাইনাল ইয়ারে থাকাকালীন সময় আমার বিয়ে হয়। প্রেমের বিয়ে ছিলো। ছেলে অস্ট্রেলিয়াতে একই বিষয়ে পিএইচডি শেষ করে তখন। ভয়ানক ভালোবাসি তাকে। আমার বাসায় কিছুটা অমত ছিলো কিন্তু পরে সবাই মেনে নেয়। সমস্যা শুরু হয় আমার বিয়ের পরেই।

আমার স্বামী খুব ভালো মানুষ, কোন বাজে নেশা নেই, খুব ভালো ছাত্র এবং একমাত্র ছেলে। ওর বাবা মারা গেছেন। সমস্যা হল ও ভীষণ রাগী। মানে যেন তেন না। রেগে গেলে বাজে ভাষায় গালি দেয়। আমি যে পরিবার থেকে এসেছি সেখানে এগুলো খুবই বাজে ব্যাপার কারণ আমার বাবা, দাদা দুজনই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। প্রথম প্রথম মানিয়ে নিতাম কিন্তু এখন যত দিন যাচ্ছে তত খারাপ হচ্ছে। কোন দিন গায়ে হাত তুলেনি কিন্তু অত্যন্ত বাজে ব্যবহার করে। কিন্তু আমার পড়াশোনা নিয়েও তার কোন সমস্যা নেই। সব রকম সহযোগিতা করে। কিন্তু ও ঘরের কিছু আমার সাথে শেয়ার করেনা। আমার বন্ধু বা পরিবারের কারো সাথে কথা বলা পছন্দ করেনা। আমার রান্না নাকি খুবই খারাপ তাই প্রতি মাসে একবার করে ঝগড়া হয়। আর, কোন কিছুতে স্যরি বললেও শুনতে চায়না। মনে হয় আমার উপর তার বহু জনমের রাগ। অথচ গভীর প্রেম দিয়েই আমাদের সম্পর্কের শুরু হয়েছিলো।

আমি খুব কষ্টে আছি। যাকে জীবনে সাথী ভেবে বিদেশে একা একা চলে এসেছি সে এমন করলে কেমন লাগে? বাসায় বললে সবাই বলে মানিয়ে নাও। আমি তাই-ই করি। কিন্তু আজ অব্দি বিয়ের পর সে কোনদিন আমার সাথে ভালোভাবে কথাও বলেনি। উল্লেখ্য আমাদের আর্থিক অবস্থা ভালো। অস্ট্রেলিয়াতে গাড়ি বাড়ী সব আছে। কিন্তু আমি এসব চাইনা। একজন বন্ধু চেয়েছিলাম যে আমাকে বুঝবে। আমাদের বিয়ে হয়েছে ৪ বছর হল, এখনও সন্তান নেইনি। আমার বয়স এখন ২৫ বছর। পিএইচডি শেষ হলে সন্তান নিবো। কিন্তু ভয় হয়। ও যেমন রাগ দেখায়, বাজে ব্যবহার করে তাতে কি কোনদিনও সুখী হব? আমি খুব পজেটিভ মাইন্ডের আর ওকে ভীষণ ভালোবাসি। তাই অনেকবার জঘন্য কিছু হবার পরও ভাবিনি সম্পর্ক শেষ করে দিবো। আমি সেটা চাইও না। কিন্তু এই কষ্ট আর সহ্য করতে পারছিনা। কিছু কিছু কথা থাকে যা কাউকেই শেয়ার করা যায় না। বাইরে থেকে মনে আমরা ভয়ানক সুখী। কোন কিছুর অভাব না থাকলেও মন থেকে মন হয় হেরে যাচ্ছি।”

পরামর্শ:

আপু, একটু অবাক হচ্ছি চিঠি পড়ে যে বিয়ের আগে কেন বুঝতে পারলেন না যে মানুষটা এমন অসম্ভব রাগী? আপনার চিঠি পড়ে মনে হচ্ছে আপনার স্বামীর স্বভাবটাই এমন। একজন মানুষ রাগী বলেই যে তিনি খারাপ মানুষ, বিষয়টা তেমন নয়। তবে হ্যাঁ, যে স্বামী স্ত্রীকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন এবং স্ত্রীর সামাজনিক জীবনে বাঁধা তৈরি করেন, তিনি আর যাই হোক খুব বড় মাপের মানুষ নন। তিনি স্ত্রীকে নিজের সম্পত্তি মনে করেন এবং তাঁর ইচ্ছার বাইরে কিছু হলেই ক্ষেপে যান। অন্তত আপনার চিঠি পড়ে আমার তাই মনে হচ্ছে। ব্যাপারটা যদি তাই হয়ে থাকে, তাহলে সন্তান নেয়ার পরও আপনারা সুখি হতে পারবেন না। বরং আপনার বাচ্চারা এই ভদ্রলোকের পাল্লায় পড়ে সারাজীবন যন্ত্রণা ভোগ করবে। আপনি যেভাবে বললেন যে বিয়ের পর একদিনও ভালো করে কথা বলেন নি, ব্যাপারটা আসলেই গুরুতর।

যেহেতু আপনি তাঁকে ছাড়বেন না, সেহেতু করার দুটি মাত্রই কাজ আছে। সেটি হচ্ছে মানিয়ে নেয়া এবং একজন মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেয়া। যেহেতু আপনারা বাইরে থাকেন, আশাকরি এইসব ব্যাপারে আপনাদের গোঁড়ামি নেই। আর যেহেতু আপনার স্বামী উচ্চ শিক্ষিত, হয়তো তিনি ব্যাপারটা বুঝবেন। আপনি যা করবেন, তিনি রাগ দেখালে পাল্টা রাগ দেখাবেন না। বা নিজে আগ বাড়িয়ে ঝগড়া করতে যাবেন না। এভাবে কিছুদিন যাওয়ার পর আপনি তাঁর সাথে খুব সুন্দর করে একদিন কথা বলুন। তাঁকে বলুন যে আপনি তাঁকে কতটা ভালোবাসেন, কিন্তু তাঁর এই রাগের কারণে আজকাল তাঁকে ভয় পেতে শুরু করেছেন। আপনি ভয়ে তাঁর কাছে যেতে পারছেন না, প্রতিদিন কষ্ট পাচ্ছেন, আপনাদের বিয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। অতিরিক্ত রাগ থাকাও একটি মানসিক সমস্যা, মানুষ নিজেই নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। দুজন মিলে একজন মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ অথবা একজন ম্যারেজ কাউন্সিলরে কাছে গেলে আপনাদের সম্পর্কটা যদি স্বাভাবিক হোক, আপনি একটা চেষ্টা করে দেখতে চান। কারণ এভাবে চলতে থাকলে আপনাদের দাম্পত্য শেষ হয়ে যাবে।

এভাবে বুঝিয়ে বলুন ও অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞের সাহায্য নিন। হয়তো আপনার স্বামীর রাগ নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।

 

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top