একসাথে লাঞ্চের পর প্রেমিক তাঁর ফ্ল্যাটে যেতে বলে…

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কিশোরী জানিয়েছেন নিজের সমস্যার কথা।

“আমার বয়স ১৬ বছর। আমি নবম শ্রেণীতে পড়ি। আমার পরিবারে আমি বড়। আমার একটা ছোট ভাই আছে ৭ বছর। আমাদের আর্থিক অবস্থা মোটামুটি ভালো। আমি সপ্তম শ্রেণীতে থাকতে একজন আমাকে প্রপোজ করে। প্রথমে রাজি না হলেও পরে বান্ধবীদের কথায় রাজি হই। সব ভালই চলছিল। কিন্তু আমার মনে সবসময় এমন ইচ্ছা ছিলো যে আমি যতই যা করি কিন্তু আব্বু-আম্মুর পছন্দমত বিয়ে করবো। এর জন্য ওর প্রতি ও এত্ত সিরিয়াস ছিলাম না এবং এর জন্য অনেক ছেলেদের সাথেই কথা বলতাম ফোনে। যাই করতাম আম্মুর সাথে শেয়ার করতাম। আম্মুও বাধা দিতো না। আম্মু বলতো ১০০ জন এর সাথে চল, তারপর বুঝো কে ভালো কে খারাপ। আমি তোমাকে বাঁধা দিবো না। তাই অনেক কিছুই করতে পারতাম। বাসা থেকে বের হওয়ার জন্য কোনো অজুহাত এরও দরকার হতোনা।  যখন তখন বের হতে পারতাম।

যে ছেলেটার সাথে আমার সম্পর্ক ছিলো ওদের আর্থিক অবস্থা অনেক ভালো ছিলো। ও আমাকে অনেক সন্দেহ করতো। কারণ অনেক ভালো বাসতো।  আম্মুর সাথেও কথা হয়েছিল। ও BBA তে পড়তো তখন। তারপর হঠাৎ আমার ফেসবুকের  আইডি হ্যাক হয়ে যায়। হ্যাকার আমার নম্বরও পেয়ে যায়। হ্যাকার বলে ও নাকি আমাকে পছন্দ করে।  আমার আইডি আমাকে দিয়েও দেয়। হ্যাকার প্রপোজ করলে আমি রাজি হয়ে যাই এবং যার সাথে আমার সম্পর্ক ছিলো ওকে মিথ্যা বলি  যে আমার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে। সে তাঁর আম্মুকে দিয়ে আমার আম্মুকে রাজি করাতে চাইলে আমার আম্মু না করে দেয় আমি ছোট বলে। ওর সাথে আমার অনেক ঝগড়া হতো, ছোট ছোট ব্যাপার নিয়েও। আমি ফেসবুকে অনেক ছেলেদের সাথেই ম্যাসেজিং করতাম। তাই ঝগড়া হতো। তারপর হ্যাকার এর প্রপোজে রাজি হয়েছি জানতে পেরে ব্রেকআপ করে দেয়, আমিও করে দেই। হ্যাকার এর বাসা ছিল চিটাগাং আর আমার বাসা নারায়নগঞ্জ। হ্যাকার ওর পড়ালেখার সুবাদে উত্তরাতে চলে আসে। এর মাঝেও আমার অনেক ছেলেদের সাথে ফোনে কথা হয়। হ্যাকার এর সাথে অনেক দিন পর পর কথা হতো। তারপর আমি জানতে পারি হ্যাকারের একটি  মেয়ের সম্পর্ক ছিলো।  ওটা অবশ্য হ্যাকারই বলেছিলো।

হ্যাকারের জম্মদিনে দেখলাম ওর এক্স সাথে ও একটা পিক দিয়েছে। আমি ফোনে অনেক রাগারাগি করি, ও আমাকে অনেক কাহিনী বুঝায়। তারপর পিকটা ডিলিট করে দেয়। ও উত্তরায় আসার পর ও আমাকে অনেক রিকুয়েস্ট করে আমি ওর সাথে যেন দেখা করতে উত্তরায় যাই। আমি নাইনে পড়ি, আম্মু একা যেতে দিবেনা অনেক কিছু বলি। কিন্তু ও অনেক রিকুয়েস্ট করে। আমারও ওর সাথে দেখা করার ইচ্ছা ছিলো তাই আম্মুকে অনেক কষ্টে রাজি করিয়ে যাই ১০ই জুন ২০১৫। যাওয়ার পর দেখলাম ও অনেক বেশি সুন্দর। আমি জার্নি করে যাওয়াতে আমাকে পচাই লাগছিল। কিন্তু দেখলাম ওর ব্যবহার অনেক ভালো। ওর সাথে ওর বন্ধুরাও ছিল, ১টা মেয়ে ২টা ছেলে। আমরা লাঞ্চ করি সবাই মিলে। তারপর ও বলে ওদের ফ্ল্যাটে গিয়ে ফ্রেশ হওয়ার জন্য। প্রথমে রাজি হই নাই, তারপর দেখলাম ওর মেয়ে বন্ধুটাও যাবে তাই গেলাম।  ফ্ল্যাটে ওর বড় ভাই আর ও থাকে। আর বাকি সবাই চিটাগাং  থাকে। ওদের বাসা দেখে এবং ওর বন্ধুদের কথা শুনে বুঝলাম ওদের আর্থিক অবস্থা অনেক ভালো। কিন্তু ও কখনও ওদের আর্থিক অবস্থা  নিয়ে কথা বলতো না। তারপর ফ্রেশ হওয়ার জন্য ও বলে। আমি ওর রুম এর ওয়াশরুমে যাই আর ওর বন্ধুরা সব অন্য রুমে ছিল।  তারপর সে ওর রুমে আসে এবং লক করে দেয়। আমি বের হতে চাইলে বলে কিস করবে জাস্ট। আমি না করলেও কিস করে এবং শারীরিক সম্পর্ক করতে চায়। আমরা ফোনে অনেক ফ্রি ছিলাম তাই সামনে এই কথা গুলা বলতে লজ্জা লাগে নাই।  আমি না করলেও একপর্যায় রাজি হই, অবশ্য বেশি কিছু হয় নাই। এটাকে শারীরিক সম্পর্ক বললেও ভুল হবে। কেউ কিছু করতে পারি নাই।  তারপর বাসায় চলে আসি। ওর কেয়ার একটু বেড়ে যায় আমার প্রতি। কিন্তু তবুও আমাদের অনেক দিন পর পর ফোনে কথা হয়। ও বলে ব্যস্ত থাকে।

এখন আবার দেখা করতে চাচ্ছে ও। আমি কি যাবো আপু?  ও কেমন জানি বেশি আধুনিক আপু।  ও শারীরিক সম্পর্কের  জন্য বলে আপু। আমি এখন কি করব বলুন আপু। ও কি আসলেই আমাকে ভালোবাসে?”

পরামর্শ:
তুমি কোনভাবেই যাবে না আপু। কোনভাবেই না। আমি আবারও বলছি, কোন অবস্থাতেই যাবে না। তুমি কি বুঝতে পারছো না যে আগের ডেটিং পুরোটাই একটা ফাঁদ ছিল? সে ডেকেছিল কেবলই শারীরিকভাবে ঘনিষ্ঠ হবার জন্য। বন্ধুদের নিয়ে আসা, সবাইকে নিয়ে ফ্ল্যাটে যাওয়া সবই ছিল নাটক। সেদিন অনেক বড় বিপদ থেকে তুমি রক্ষা পেয়েছ, ওইদিন তুমি ধর্ষিত হবার মত ভয়াবহ ঘটনাও ঘটতে পারত। ওর সেই বান্ধবী একটি ব্যাচেলর ছেলের ফ্ল্যাটে কিছু ছেলের সাথে রাজি হয়েছি বলেই যে ভালো ভালো মেয়ে বা তুমিও যেতে পার, এমন কিন্তু নয়। তুমি সেইদন ওই ফ্ল্যাটে গিয়ে গুরুতর একটি ভুল করে ফেলেছ। অনেক বড় বিপদের ঝুঁকি নিয়েছিলে। পরের বাড় গেলে যে ওই ছেলেটি বা ছেলেগুলো মিলে তোমার একটা ক্ষতি করে দিবে না, তার কি গ্যারান্টি? একটা কথা জেনে রাখো মেয়ে, যে ছেলে তোমাকে ভালবাসবে, সে তোমাকে নিয়ে ফ্ল্যাটের নির্জনতায় যাবে না। ঘরের মাঝে ঢুকে দরজা লক করে দিবে না ফ্রেশ হওয়ার নাম করে।

এই ছেলে তোমাকে ভালোবাসে না। ভালোবাসা মানে কেয়ার করা, ব্যস্ততার অজুহাতে এড়িয়ে যাওয়া না। আমি নিশ্চিত যে এই ছেলের তোমার মত অনেক মেয়ের সাথেই সম্পর্ক আছে, সেসব মেয়েদের নিয়ে সে ফ্ল্যাটেও যায়। এই ছেলে তোমাকে ভালোবাসে না। শুধু আমি নই, যেই এই কাহিনী শুনবে তাঁরই মনে হবে ছেলেটির ভালোবাসা খাঁটি নয়।

আমি জানিনা তোমার আম্মু তোমাকে এসব কাজ করার পারমিশন কীভাবে দেন। কিন্তু আমি মনে করি একাদিক মানুষের সাথে প্রেম করা, ফোনে কথা বলা, ফেসবুকে প্রাম চালিয়ে যাওয়া এগুলো মোটেই ঠিক নয়। বরং এক ধরণের মানসিক অসুস্থতা। তুমি আমার সন্তান হলে এসব করার পারমিশন আমি একেবারেই দিতাম না। এখন লেখাপড়ার সময়। জীবনে প্রেম থাকবে না কেন, থাকবে। কিন্তু সেটা একজন মানুষের সাথে। একসাথে অসংখ্য মানুষের সাথে নয়। প্রথম ছেলেটির সাথে তুমি যা করেছ, সেটা মোটেও ঠিক করো নি। আর ক্লাস সেভেনে প্রেমে জড়িয়েও ঠিক করনি।

এখনো সময় আছে আপু, নিজেকে সামলে নাও। নতুবা নিজের এইসব ভুলের কারণে জীবনে মারাত্মক সব সমস্যায় পড়বে তুমি।

 

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top