এই হেমন্তে তারাদের বেড়ানোর গল্প

সবুজ পাতার খামের ভেতর, হলুদ গাঁদা চিঠি লেখে, কোন পাথারের ওপার থেকে,  আনল ডেকে হেমন্তকে? … আনল ডেকে কুয়াশাকে, সাঁঝ সকালে নদীর কূলে। এভাবেই ‘হেমন্ত’ কবিতায় বাংলাদেশের প্রথিতযশা কবি, লেখিকা, ও নারী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ সুফিয়া কামাল হেমন্তের রূপ এভাবেই বর্ণনা করেছিলেন। সময়ের পালাবদল। বছর ঘুরে আবার এসেছে হেমন্ত। ধুসর রঙের হিম কুয়াশা।সকাল-সাঁঝে ঘাসের বুকে শিশির বিন্দু। প্রকৃতি তার রূপ, রং, রসও আর গন্ধে তারই আভাস। মেঘহীন নীলাভ আকাশ। পাকা ধানের মৌ মৌ করা গন্ধ। যেন বলা চলে- হেমন্ত ঋতুর দৃশ্যচিত্র মানব জীবনের ফেলে আসা দিনগুলোর প্রতিচ্ছবি। আলতো হিমহিম হাওয়ায় ঝরঝর করে ঝরে পড়ছে গাছের পাতা। হেমন্ত ঋতুর বাইরের রূপ যেন প্রকৃতির মনোভিরাম পদচারণা। হেমন্তের চিত্রকল্পে রবীন্দ্রনাথও মজেছিলেন-লিখেছেন, ‘তোমার অশ্রুজলের করুণ রাগে, যাও, যাও গো এবার যাবার আগে রাঙিয়ে দিয়ে যাও’। পাঠক এখন সময়টা ঘোরাঘুরির। নেই বৃষ্টির ছায়া। সেই সাথে শীতও। প্রকৃতির রূপের নানা রং মাখানো খেলার মিশ্র এক অনুভূতি। যে যার মত করে দে-ছুট। ‘হাজার বছর ধরে আমি পথ হাঁটিতেছি পৃথিবীর পথে, সিংহল সমুদ্র থেকে আরো দূর অন্ধকারে মালয় সাগরে, অনেক ঘুরেছি আমি। বিম্বিসার অশোকের ধূসর জগতে, সেখানে ছিলাম আমি’। এভাবেই লিখেছিলেন জীবনানন্দ দাশ। আর এতে যোগ হয়েছেন চলচ্চিত্র ও নাটক অঙ্গনের তারাকারা। প্রিয়.কমের সঙ্গে আলাপকালে সম্প্রতি ও বেশ কয়েকদিন আগের ঘোরাঘুরির সেই স্মৃতি জানালেন কয়েকজন তারকা…

ববিতা
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২২০০ ফুট উচ্চে অবস্থান। জায়গাটির নাম নীলগিরি। মেঘমণ্ডিত স্থান। আর এখানে গেলেই আকাশ ছোঁয়া যাবে! এভাবেই নীলগিরি ভ্রমণের অভিজ্ঞতা নিয়ে বলছিলেন বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেত্রী ববিতা। তখন হেমন্ত দরজায় কড়া নাড়ছে। নীলগিরি ভ্রমণে গিয়েছিলেন তিনি। প্রকৃতির রূপে এতটাই মুগ্ধ। উচ্ছ্বাস তার প্রতিটি শব্দে, ‘এত সুন্দর এত অপূর্ব একটি জায়গা বাংলাদেশে আছে তা আমার কখনও বিশ্বাস হয়নি! এছাড়া খুব ভোরে যখন ঘুম ভাঙল তখন দেখলাম বেলকনিতে মেঘেরা খেলা করছে। ইচ্ছে করলেই তাদের ছোঁয়া যাবে!’

শাকিব খান
ছবির শুটিং নিয়েই সবসময় ব্যস্ততা। ঘোরাঘুরির সময় আবার কোথায় পেলাম? যতটুকু তাও আবার কাজের মধ্যেই। এভাবেইতো চলছে জীবন ঘড়ি। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দেশে যাওয়া হয়। সেটা হোক শুটিংয়ে। কিংবা ঘোরাঘুরি। সম্প্রতি একটি ছবির শুটিংয়ে থাইল্যান্ডের একটি কোরাল আইল্যান্ডে গিয়েছিলাম। সেখানে দারুণ সময় কেটেছে। একটু ভিন্ন প্রসঙ্গ বলি-নিজেকে কাজ থেকে বেশখানিকটা সময় দূরে রাখতে চাই। আর এ সময়ে আমেরিকা, ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ঘুরে বেড়াবো। তাই এখন সকাল সকাল শুটিং স্পটে চলে আসি। নিজেকে একটু ভিন্নভাবে দর্শকদের সামনে প্রেজেন্ট করতে চাই।

মোশাররফ করিম
সম্প্রতি আমি বড়গুনার আমতলী গিয়েছিলাম। আর সেখানে একটি গ্রামের নাম বৈঠাকাটা। আর তার পাশ দিয়ে বয়ে গেছে ছোট্ট একটি নদী। যার নাম পায়রা। খুবই সুন্দর। আর তখন শরৎ শেষের পথে হেমন্ত আসি আসি ভাব। সময়টা ছিল ভোরবেলা। তখনও পূব আকাশে সূর্য ওঠেনি। পহাড় দেখে বলা যায়-এটি আঁকাবাঁকা উঁচু। সুমুদ্র দেখে এর ঢেউ আর ছন্দের বর্ণনা করা যায়। তবে সেসময়টার বর্ণনা করা, আমার কাছে মনে হয় ব্যাখাতীত। নদীটির চারিদিক চুপচাপ। নদীটা বয়ে চলছে আপন মনে। যার বয়ে চলা জলের শব্দে কারও ঘুমও ভাঙবে না। আমার কাছে সেসময়টা আসাধারণ লেগেছে। এ দৃশ্য দেখে শুধু এটাই মনে হয়েছে- জীবনানন্দ দাশ বাংলার প্রকৃতির এ ধরনের রূপ ও রহস্য দেখেই এত সুন্দর সুন্দর কবিতা তিনি লিখে গিয়েছেন।

অপু বিশ্বাস
সম্প্রতি আমি ভারতের শিলিগুরি, মেঘালয়, শিলং ঘুরতে গিয়েছিলাম। তিনিটি জায়গাই আসাধারণ। মুগ্ধ করার মত অনেক জায়গা রয়েছে। শুটিংয়ের কারণে ঘোরাঘুরির সময় সেভাবে পাওয়া যায় না। তারমধ্যে সে সময়টা এককথায় দারুণ কেটেছে। আর চাইলেও সব জায়গায় যাওয়া যায় না। তারকা খ্যাতির বিড়ম্বনা ভোগ করতে হয়। আর এছাড়া নিরাপত্তারও একটি বিষয় থাকে। চাইলেনই হুট করে কোথাও যেতে পারিনা। তবে সেসময়টা আসলেই দারুণ কেটেছিল।

মাহিয়া মাহি
হেমন্তের এই সময়টা আসলেই দারুণ। বিশেষ করে ঘুরে বেড়ানোর জন্য উপযুক্ত। গত ২৩ অক্টোবর। সময় রাত ২টার কিছুটা পর। হঠাৎ করেই মাহির মনে হল-সকালে সিলেটে গেলে কেমন হয়? যেই ভাবনা সেই কাজ। বান্ধবী নিশাকে বললেন, চল সকালে সিলেট যাই। আবার এও বললেন, সারারাত ঘুমনো যাবে। তাহলে সকাল সকাল রওনা করতে পারব না। বান্ধবীও তার কথায় সায় দিলেন। খুব ভোরে ঢাকা থেকে রওনা করার পরিকল্পনাও করলেন। কুয়াশার চাদরে মোড়ানো শহর। সেই সাথে রাস্তা বন্দরও। সে এক দারুণ ছবিতা! আর সিলেটে মাহির একটি পছন্দের খাবারের রেস্টেুরেন্ট রয়েছে। আর এর খাবার মাহির খুবই প্রিয়। সেখানে গিয়ে দুই বান্ধবী একসঙ্গে দুপুরের খাবারও খেলেন। আবার বিকেলের মধ্যেই ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিলেন। পাঠক শুনুন মাহির কাছ থেকেই,‘ মাঝেমধ্যে হুট করে সিদ্ধান্ত নিয়ে কোথাও ঘুরতে যেতে ভালই লাগে। এটিও তেমনি একটি বিষয়’।

নুসরাত ফারিয়া
প্রকৃতির রূপে কে না মুগ্ধ হয়? তার প্রেমে কে-ই বা না পরে? আর সেতো হেমন্ত। গত সপ্তাহে আমরা পরিবারের সবাই মিলে বগুড়া গিয়েছিলাম। সেখানে আমার একজন বোন থাকেন। আমরা গাড়িতে করে যাচ্ছিলাম। তখন রাস্তার চারিপাশে কুয়াশার কারণে একটু দূরে কি আছে, তাও দেখা প্রায় অসম্ভব। এরপর আমরা বগুড়া ক্যান্টনমেনট ঘুরে বেড়িয়েছি। আর এ সময়টা না গরম না ঠান্ডা না বৃষ্টি। কিন্তু আবার চারিদিকে যেন কুয়াশারও মেলা বসেছে। সবকিছু মিলিয়ে দারুণ অনুভূতি। আর বছরের এসময়টা ঘুরতে যাওয়ার জন্য খুবই পারফেক্ট।

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top