আমার মেয়ের সহপাঠীরা ওকে নিয়ে প্রচণ্ড হাসাহাসি করত, ক্লাসে যেই ঢুকত সবাই খুব জোরে হেসে উঠত…

প্রশ্নটি আমাদের ফেসবুক পেজে করেছেন : নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন

আমার মেয়ের সহপাঠীরা ওকে নিয়ে প্রচণ্ড হাসাহাসি করত। ক্লাসে যেই ঢুকত সবাই খুব জোরে হেসে উঠত। হয়তো টিচার পড়া ধরছেন, আমার মেয়ে পড়া পারল। তাও সবাই জোরে হেসে উঠল। কখনও কোনও মেয়ে বলত ‘এই ওকে দেখ’, তখন বাকিরা হেসে উঠত। মেয়ে ফার্স্ট ডিভিশনে সায়েন্সে লেটার পেয়ে পাস করেছে অথচ দিনের পর দিন হাসিঠাট্টা সহ্য করতে করতে ওর মধ্যে এক ট্রমার সৃষ্টি হয়েছে। লোকজন আছে, এমন জায়গায় যেতে ওর খুব ভয় করত। খালি কান্নাকাটি করে যে ওকে নিয়ে হাসবে সবাই। তাই জীবন থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছে। লোকজন আছে এমন যে কোনও জায়গায় ও কিছুতেই যেতে চায় না, খুব কান্নাকাটি করে, বলে বেঁচে থেকে কী হবে। ওর কী ধরনের চিকিত্‌সা প্রয়োজন সে সম্বন্ধে বিস্তারিত আলোচনা করেন খুব উপকৃত হব। আমার মেয়ে ক্লাসমেটরা অত্যাচারে তার নিজের জীবনটা নষ্ট করে দিতে বসেছে। বিয়েও করবে না কারণ ও ভয় পায় যে ওর স্বামীও সহপাঠীদের মতোই ব্যবহার করবে। একটা আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে ওর মনের মধ্যে। কীভেব ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবে বুঝতে পারছি না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক

পরামর্শ

কোনওরকম ডায়াগনোসিস করার আগে জানতে হবে, কেন মেয়ের সহপাঠীরা ওকে নিয়ে হাসাহাসি করত। ওর আচরণ কি অদ্ভুত বা ওর কথা বলার ভঙ্গী, বা হাবভাবে কি কোনও অস্বাভিকতা দেখা যায়? ও কি সহজভাবে সহপাঠীদের সঙ্গে মিশতে পারে না? কেউ যদি আর পাঁচজনের থেকে আলাদা হয়, তা হলে অনেক সময় বাকিরা তাকে নিয়ে উপহাস করে। সেটা উচিত, আমি একবারও বলছি না। ছোটবেলায় বন্ধুরা যেমন জীবনের অন্যতম অঙ্গ হয়ে উঠতে পারে, ঠিক তেমনই তাদের খারাপ আচরণের জন্যে মনে গভীর প্রভাব পড়তে পারে। তবে কোনও কিছু নির্দিষ্ট করে বলার আগে জানতে হবে অন্যান্য পরিস্থিতিতে ও কেমন ব্যবহার করে। ছোটবেলা থেকে কি সবার সঙ্গে স্বচ্ছন্দে মিশতে পারে? পাড়ার লোকজন, আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে ওর সম্পর্ক ঠিক কেমন। সেখানেও কি ওর সমস্যা হয়। না কি শুধুমাত্র স্কুলেই এমন হেনস্থার শিকার হতে হয়েছে। আমার প্রাথমিক ধারণা আপনার মেয়ের সোশাল ফোবিয়া বা সোশাল অ্যাংজ়াইটি ডিজ়অর্ডার আছে। এর পিছনে যে সব সময় কোনও ‘ট্রিগার ফ্যাক্টর’ থাকবে তা নয়। হয়তো আপনার মেয়ের মধ্যে আগে থেকেই সোশাল ফোবিয়া ছিল, স্কুলের পরিবেশে তা বেড়ে গেছে। এর সঙ্গে আর একটা জিনিসও মাথায় রাখা জরুরি। ওর সঙ্গে যা হয়েছে তা কি সম্পূর্ণভাবে বাস্তব না কি কাল্পনিক। অনেক সময় কোনও আন্ডারলায়িং সাইকোসিস থাকলে, মানুষ এরকমভাবে ভাবতে পারে। সন্দেহবাতিক হলে, মানুশ সব সময় মনে করে লোকে ওকে নিয়ে কথা বলছে, হাসাহাসি করছে। এই দিকটাও একবার বুঝতে হবে। আমি বলব এখনই কোনও মনরোগ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে পরামর্শ করুন। সামনাসামনি আপনার মেয়েকে না দেখে সবটা বলা সম্ভব নয়। এতে চিন্তার কিছু নেই, সব রোগেরই ট্রিটমেন্ট হয়। তবে হঁ্যা, সোশাল ফোবিয়ার ট্রিটমেন্ট যেরকম হয়, আন্ডারলায়িং সায়কোসিসের তো আর তা হবে না। নিশ্চিতভাবে কিছু বলার আগে আরও কিছু জানতে চাই যেমন এখন আপনার মেয়ে কী করছে, জীবনের কাছে থেকে ওর কী চাহিদা। আর ওর বিয়ের ব্যপারে তো এখন ভাবার কোন প্রয়োজন নেই। আপনার চিঠি পড়ে মনে হচ্ছে ও এখনও পড়াশোনা করছে। সুতরাং সেদিকে মন দেওয়াই ভাল। একটা পরিস্থিতিতে ব্যহ্গ-বিদ্রুপের শিকার হতে হয়েছে বলেই যে সব পরিস্থিিতে হবে, তার কিন্তু মানে নেই। এরকম ভাবতে থাকলে কিন্তু সাইকোসিসের সম্ভবনা একেবারেই উড়িয়ে দেওয়া যাবে না। তাই আমি বলব সবার আগে সঠিক অ্যাসেসমেন্ট করা দরকার। তবেই চিকিত্‌সার ধরন নির্দিষ্ট করা যাবে। তবে হ্যাঁ, যাই হয়ে থাক না কেন, ওষুধ ও কাউন্সেলিং, উভয়েরই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে।

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top