শিশুকে স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ান ৫ উপায়ে

যে শিশুরা টিভিতে মুখে জল আসা জাঙ্ক ফুড গুলোর বিজ্ঞাপন দেখে তাদেরকে স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে উদ্বুদ্ধ করাটা বেশ কঠিন। স্কুলের ক্যান্টিনে ও কলেজের পাশের রেস্টুরেন্টে মজাদার পিজা ও বার্গার পাওয়া গেলে শিশু-কিশোররা সেগুলোই খেতে চাইবে এটাই স্বাভাবিক। ছোটকাল থেকেই শিশুর স্বাস্থ্যকর খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলার দায়িত্ব বাবা-মা ও সমাজের। শিশুর স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলার জন্য বাবা-মা কীভাবে সাহায্য করতে পারেন সে বিষয়ে কিছু টিপস জেনে নেব এই ফিচারে।

১। ঘরে তৈরি খাবার খেতে দিন

স্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে ভালো হচ্ছে ঘরে তৈরি খাবার খাওয়া। শিশুকে যদি ঘরে রান্না করা খাবার খেতে অভ্যস্ত করান তাহলেই তাকে জাংক ফুড থেকে বিরত রাখাটা সহজ হবে। কিন্তু সব সময় শিশুকে বাহিরের খাবার খাওয়া থেকে বিরত রাখাও সম্ভব নয়। শিশু যে খাবারগুলো খেতে পছন্দ করে সেগুলো ঘরেই তৈরি করে দিন। উদাহরণস্বরূপ বলা যায় যদি আপনার সন্তান পাস্তা পছন্দ করে তাহলে মাখন ও বেশি সবজি দিয়ে রান্না করে দিন পাস্তা।

২। বাচ্চাদের জন্য আপনি রোল মডেল হন

আপনি নিজেই যদি প্রতিদিন বাহিরে খেয়ে আসেন আর বাচ্চাদের বলেন ঘরের খাবার খেতে তাহলে তা মোটেই ঠিক হবেনা। আপনি নিজেই যেন আপনার বাচ্চার জন্য রোল মডেল হতে পারেন সে দায়িত্ব আপনার। আপনি যদি স্বাস্থ্যকর খাবার খান তাহলে আপনার বাচ্চারাও স্বাস্থ্যকর খাবার খাবে। আপনি যদি চান আপনার সন্তান কোন নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলুক তাহলে প্রথমে আপনাকে সেই নিয়ম অনুসরণ করতে হবে।

৩। ঘরে স্বাস্থ্যকর পরিবেশ গড়ে তুলুন

যদি আপনি আপনার ফ্রিজে চকলেট বোঝাই করে রাখেন অথবা বাড়ি ফেরার সময় প্রায়ই মিষ্টি নিয়ে আসেন তাহলে আপনার শিশু এই খাবারগুলোর প্রতি আকৃষ্ট হয়ে উঠবে। বাড়িতে স্বাস্থ্যকর খাবার রাখুন এতেও শিশু স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে অভ্যস্ত হয়ে উঠবে। আপনি খাবার কিনতে যাওয়ার সময় আপনার বাচ্চাকেও সাথে নিতে পারেন এবং তাকে নিয়ে ফল ও সবজি কিনুন চিপস, চকলেট বা প্যাকেটজাত খাবার কেনার বদলে।

৪। বাহিরে খাওয়ার সময় ও স্বাস্থ্যকর খাবার নির্বাচন করুন

পরিবারের সবাই মিলে বাহিরে খেতে গেলেও স্বাস্থ্যকর খাদ্য খান। শিশু যদি ভিন্ন কিছু খাওয়ার বায়না করে তাহলে শেফকে বলুন তেল বা পনির কম দিয়ে সবজি বেশি দিয়ে তৈরি করে দিতে। শিশুকে সালাদ খেতে উদ্বুদ্ধ করুন, এজন্য তাকে ফল ও সবজির স্বাস্থ্য উপকারিতার কথা বুঝিয়ে বলুন।

৫। টিফিনে স্বাস্থ্যকর খাবার দিন

স্বাস্থ্যকর ও সুস্বাদু টিফিনের পরিকল্পনা করে রাখুন সপ্তাহের প্রথমেই। বাচ্চার টিফিনের জন্য সব সময় একই খাবার না দিয়ে একেক দিন একেক ধরণের স্বাস্থ্যকর খাবার দিন। এতে বাচ্চার টিফিন খাওয়ার প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পাবে এবং স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার প্রতিও আগ্রহ জন্মাবে। ফাস্ট  ফুডগুলোকে স্বাস্থ্যকর ভাবে তৈরি করে বাচ্চার সামনে উপস্থাপন করুন।

Source: Priyo.com

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top