যেমন যাচ্ছে পিয়ার এই সময়

র‌্যাম্প মডেল ও অভিনেত্রী জান্নাতুল পিয়া। সুদীপ্ত সরকার পরিচালিত যৌথ প্রযোজনার ছবি ‘প্রেম কি বুঝিনি’তে অতিথি চরিত্রে অভিনয় করেছেন। আগামী ৭ অক্টোবর মুক্তি পাচ্ছে ভারতীয় তারকানির্ভর ও বাংলাদেশ-ভারত যৌথ প্রযোজনার ছবিটি। এতে জুটি বেঁধেছেন ওপার বাংলার নায়ক ওম ও নায়িকা শুভশ্রী। ‘প্রেম কি বুঝিনি’ পিয়ার ক্যারিয়ারের চতুর্থ ছবি। রেদওয়ান রনির ‘চোরাবালি’র মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় তার। এ ছাড়া তার অভিনীত ‘স্টোরি অব সামারা’ আর ‘গ্যাংস্টার রিটার্নস’ ছবি দুটিও মুক্তি পেয়েছে।

‘ভাল কিংবা মানসম্মত চলচ্চিত্রে অভিনয় করা আর দর্শকদের কাছে সে ছবিটি গ্রহণযোগ্য হওয়া আসলেই ভাগ্যের ব্যাপার। আমার ক্যারিয়ারে হয়তো ‘চোরাবালি’র পর ভাগ্য এখনও অতটা সুপ্রসন্ন হয় নি। তবে আমার ‘প্রেম কি বুঝিনি’ ও পরবর্তী চলচ্চিত্র ‘ছিটমহল’ এ আমাকে দর্শক একটু ভিন্নভাবে দেখতে পাবেন। দর্শক এখন আমাকে কিভাবে নেয় এখন এটিই আমার দেখার পালা। কিন্তু আমি যদি কিছুর হাল ধরি শেষ পর্যন্ত দেখে ছাড়ি।’ নতুন ছবি ‘প্রেম কি বুঝিনি’ নিয়ে আলাপ করার সময় কথাগুলো বললেন জান্নাতুল পিয়া।

এদিকে পিয়া অভিনীত ‘ছিটমহল’ ছবিটিও মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। ছিটমহলের নাগরিকদের দুঃখ-দুর্দশা, জীবনপ্রবাহের টানাপোড়েন নিয়ে এইচ আর হাবিব নির্মাণ করেছেন এটি। এতে আরও আছেন মৌসুমী হামিদসহ প্রমুখ। ‘ছিটমহল’ ছবিটি নিয়ে পিয়া বলেন, ‘এ ছবিটি আমার ক্যারিয়ারের দারুণ একটি টানিং পয়েন্ট। ছিটমহলের নাগরিকদের দুঃখ-দুর্দশা, জীবনপ্রবাহের টানাপোড়েন গল্প নিয়ে ছবিটি নির্মিত হয়েছে। এইচ আর হাবিব পরিচালনা করেছেন এটি।’

আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা ক্যারিয়ারের শুরুতেই পিয়ার ঝুলিতে এসে জমে। দেশের বাইরে গিয়ে ভিনদেশি এজেন্সির সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতাও আছে তাঁর। আর গেল বছরের শেষ দিকে ভারতের একটি মডেলিং এজেন্সির সঙ্গেও কাজ করেছেন তিনি। এদিকে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ম্যাগাজিনের ভারতীয় সংস্করণের অক্টোবর সংখ্যায় ‘কাভার গার্ল’ হয়েছেন তিনি।

জান্নাতুল পিয়া’ই প্রথম কোন বাংলাদেশি মডেল হিসেবে আন্তর্জাতিকমানের এই ফ্যাশন ম্যাগাজিনের মডেল হয়েছেন। ভোগ ম্যাগাজিনের নবম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে এ আয়োজন করা হয়। ২৯ জুলাই মুম্বাইয়ের মেহবুব স্টুডিওতে পিয়ার ছবি তোলেন ভারত শিখা। পুরো বিষয়টির দায়িত্বে ছিলেন ভোগের ফ্যাশন এডিটর আনাইতা আদাজানিয়া। আর হেয়ার স্টাইলে ছিলেন প্যারিসের প্রখ্যাত ফ্যাশন ডিজাইনার সাইরিলে।

বাংলাদেশের বাইরে বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক মডেলিং এ বাংলাদেশি বংশোউদ্ভূত অনেকেই অংশগ্রহণ করেন। কিন্তু সেটি অন্য দেশের নাগরিক হিসেবে। তাদের নিয়ে অনেক বেশি মাতামাতি হয়। অথচ তাদের পাসপোর্ট বাংলাদেশি নয়, মন্তব্য করে ক্ষোভের সুরে পিয়া বলেন, ‘আমি যেখানেই কাজ করেছি সেখানে বাংলাদেশি পরিচয়েই কাজ করেছি। ভোগ এর যখন ম্যাগাজিনটা বের হবে সেখানে কিন্তু শুধু মডেলিং করতে গিয়েছি তা কিন্তু নয়। বাংলাদেশি হিসেবেই পিয়া আসবে। এটা আমার জন্য বড় ধরনের একটি বিষয় বটে। প্রতিনিয়ত চেষ্টা করছি ভাল কিছু করার জন্যে।’

এদিকে বাংলাদেশে মডেলিং এর জায়গাটা ততটা বিস্তৃত নয় পিয়ার চোখে। আন্তজার্তিক মডেলিং এর যে বিষয়গুলো-সেখানে জিনগত, ধর্মীয়, অর্থনৈতিক ও চাহিদার দিক থেকেও বিভিন্ন কারণে কাজের ক্ষেত্রে অনেকটাই বাংলাদেশ পিছিয়ে। পিয়া বললেন, ‘কোন রকম বাংলাদেশের ডিজাইনার, কিংবা সরকারের সহযোগিতা ছাড়াই নিজ উদ্যোগে নিজস্বভাবে যতটুকু ভালো করা সম্ভব সেই চেষ্টাটাই করছি।’

পেশাগত দিক থেকে তখনিই মডেলিং এর অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে যখন সেই পেশার লোক আন্তজার্তিকভাবে কাজ করার অভিজ্ঞতা রাখবে বলে মন্তব্য করে পিয়া বলেন, ‘কিন্তু এটা আমি এখানকার দোষ দিই না। বরং তার চেয়ে বলব যে একটু একটু করে সামনের দিকে আমাদের মডেলিং এর জায়গাটা সামনের দিকে এগুচ্ছে। আমি সব সময় চেষ্টা করি পেশাগত জায়গাটা ঠিক রাখতে। সেটি যত অপেশাদার হাউজ কিংবা যেখানেই কাজ করি না কেন?’

বাংলাদেশে আন্তজার্তিক মানের সাজগোজের একটি স্কুল হবে এমনটাই স্বপ্ন দেখেন পিয়া। কারণ হিসেবে বললেন, ‘বাংলাদেশে যারা গ্রুমিং করান তারা বেশিরভাগই কর্মক্ষেত্রে অতটা অভিজ্ঞ নন।’ তাই পিয়া সিদ্বান্ত নিয়েছেন ভবিষ্যতে কাজের পাশাপাশি একটি মডেলিং এজেন্সি প্রতিষ্ঠা করবেন।  সম্প্রতি এ বিষয়ে মিটিংও করেছেন। পিয়ার কাছে প্রশ্ন ছিল, অভিনয় ও পেশাগত কাজের জায়গার সমন্বয় করেন কিভাবে? তিনি বলেন, ‘আমি চেষ্টা করি প্রতিটা জায়গায় ব্যালেন্স রাখতে। সেটি আমার ব্যক্তিজীবনেও। প্রত্যেকটি জায়গা আমার কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ। আর সবগুলাকে ঠিক রাখার জন্যে প্রতিনিয়ত দৌড়াই।’

পিয়া বর্তমানে ড. কামাল হোসেন অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটস এ ইন্টার্ন হিসেবে কাজ করছেন। সেই সাথে শোবিজ এর কাজ নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন। পিয়া এখন নেপালে রয়েছেন। সেখানে জিটিভির জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘হলিডে প্ল্যানার’ এর শুটিং হচ্ছে। যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আকর্ষণীয় ট্যুরিস্ট স্পটগুলো তুলে ধরা হয়। এশিয়া, আফ্রিকা, ইউরোপ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন আকর্ষণীয় স্থানে অনুষ্ঠানটির বিভিন্ন পর্বের শুটিং করা হয়েছে। ছুটির দিনগুলো বিশ্বের কোথায়, কীভাবে মনোরম পরিবেশে উপভোগ করা যায়, তা জানা যাবে এতে। শুটিং শেষে ২৭ সেপ্টেম্বর দেশে ফিরবেন তিনি।

ছবিঃ প্রিয়

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top