শিরোনামহীন ভালোবাসা…! (পার্ট-১)

শুভ্রর আজ মন খারাপ। সকালবেলা ঘুমটাই ভেঙেছে বুকের মাঝে দুরু দুরু কাপুনিতে। এটা সবসময় হয় না, মাঝে মাঝে হচ্ছে, ইদানিং একটু বেশি। জীবনের সবচেয়ে সুন্দর স্বপ্নময় মুহূর্তগুলো যে সময়ের স্রোতে দুঃস্বপ্ন হয়ে তাড়িয়ে বেড়াতে পারে এটা তো কখনো ভাবেনি শুভ্র।

প্রীতি’র সাথে শুভ্রর সম্পর্ক শেষ হয়েছে তাও বছরখানেক হয়ে গেলো। প্রীতি শুভ্রর ভালোবাসার নাম, একটা সুন্দর স্বপ্নের নাম। বছর পেরিয়ে গেছে তবুও প্রীতিকে মনে পড়ে এখনো, একটা সময় পর্যন্ত মনে করতে চাইত না শুভ্র, পরে বুঝে গেছে চেস্টায় লাভ নেই, সে প্রীতিকে ভালোবাসে, হয়ত নিজের চেয়েও বেশি ভালোবাসে। কাউকে নিজের থেকে বেশি ভালোবাসা যায় এটা ধারণার বাইরে ছিল শুভ্রর, ইদানিং সে এটা বিশ্বাস করে। তাই স্মৃত্মি থেকে মুছে ফেলার চেস্টা আর করে না সে, বরং প্রীতির জন্য সে একটা জায়গা সৃস্টি করেছে হৃদয়ে, সেখানে সে তার প্রীতিকে রেখে দিয়েছে পরম যত্মে, ভালোবাসায়।

প্রীতি-কে সে অনেক ভালোবাসত, এই মেয়েটাকে তার কাছে অক্সিজেনের মত মনে হত। অক্সিজেন ছাড়া কেউ বাচে কিভাবে,প্রতিটা দিন এই মেয়েটাকে না দেখলে অসম্পূর্ণ মনে হত শুভ্র’র। ইদানিং কেউ নেই তার জীবনে। প্রীতি চলে যাওয়ার পর শুভ্র’র বেস্ট ফ্রেন্ড ডায়েরি। তার মনের কথা গুলো সে আর কাউকে বলতে চায় না ইদানিং, একসময় বলত, কিন্তু বললে সবাই সান্তনা দেয়, বলে ঠিক হয়ে যাবে, কিন্তু ঠিক তো হয়না, বছর পেরিয়ে গেছে তবুও হয়নি। আর কবে হবে? শুভ্র বিশ্বাস করে ঠিক আর হবে না…। মন খারাপ নিয়েই হাতে ডায়েরি নেয় শুভ্র। সকালে উঠে কখনো সে ডায়েরিতে লেখেনি, আজই প্রথম লিখছে। মন চাইছে লিখতে…

“কেউ আমাদের জীবন থেকে পুরোপুরি চলে যায় না। স্মৃতি হয়ে রয়ে যায় মনের কোণে। গাড়ির পাশের ফাকা সিটটাতে তার অস্তিত্ব অনুভব করা যায়, তাকে ধরা যায় না, দেখা যায় না, ভালোবাসি বলে জড়িয়ে ধরা যায় না। চ্যাটলিস্টের সবচেয়ে ওপরের নামটি কালো হয়ে থেকে অস্তিত্ব জানান দেয় প্রিয় মানুষটির।অনেক অনেক নতুন মানুষের ভিড়ে কখনো কখনো হারিয়ে যায় এই মানুষগুলো, কিন্তু গভীর রাতে কখনো ঘুমের ঘোরে আর্বিভাব হয় এই মানুষগুলোর, টর্নেডোর মতো হঠাৎ এসে, উল্টেপাল্টে দেয় সবকিছু। পুরনো কোনো গল্পই হারিয়ে যায় না, হারিয়ে যায় মানুষগুলো। সবকিছুই আগের মতই থাকে, শুধু অধিকারটাই থাকে না।”

ডায়েরিটা পাশে রেখে বারান্দায় যায় শুভ্র। বাইরে বৃস্টি। শুভ্র’র বৃস্টি ভালোলাগে, তার মনে হয় আকাশেরও মন খারাপ, আশেপাশের মানুষগুলো সবাই শুনে, কেউ মনে হয় অনুভব করতে পারে না, মন খারাপের দিনগুলোতে ইদানিং বৃস্টি হয় কাকতালীয়ভাবে, আকাশকে তার বন্ধু মনে হয়। যে বন্ধু তাকে বোঝে, আর নিঃশ্বব্দে পাশে থাকে।

এমনই কোনো বৃস্টিস্নাত দুপুরেই কিন্তু শুরু হয়েছিলো তার আর প্রীতির ভালোবাসার গল্প…(চলবে)

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top