শিরোনামহীন ভালোবাসা… (পার্ট-২)

প্রীতির সাথে শুভ্র’র দেখা এক বন্ধুর বিয়েতে। শুভ্র ছেলে হিসেবে ইন্ট্রোভার্ট। প্রীতিকে দেখেই ভালোলেগেছে তার, প্রথম দেখাতে মনে হচ্ছিল বর্নিল প্রজাপতি যেন উড়ে বেড়াচ্ছে পুরো ফ্লোর জুড়ে। পাওলো কোহেলো শুভ্র’র খুব প্রিয় লেখক। কোহেলোর ইলেভেন মিনিটস বইয়ে সে পড়েছিল, ভালো লাগলে তা এক্সপ্রেস করতে হয়, জীবনের সুযোগগুলো মিস করতে নেই। কিন্তু বুকে সাহস হয় না, দুর থেকেই দাড়িয়ে দেখতে থাকে শুভ্র, প্রজাপতির ওড়াওড়ি।

মেঘ না চাইতেই বৃস্টির মত প্রীতি’র সাথে পরিচয় করিয়ে দেয় আরাফাত। আরাফাত শুভ্র’র বন্ধু। তারই আজ বিয়ে। ‘ওর নাম প্রীতি, আমার ওয়াইফ এর ফ্রেন্ড’ পরিচয় করিয়ে দেয় আরাফাত, আর শুভ্র আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু। নাইস টু মিট ইউ ভাইয়া বলে শুভ্র’র দিকে হাত বাড়িয়ে দেয় প্রীতি। ”প্রীতি আজকের হলুদে যদি তুমি শুভ্রকে নাচাতে পারো, তোমাকে আমি নগদ ১০ হাজার টাকা দিব”! পাশে থেকে বলে উঠে আরাফাত।

এটা আবার কোনো ব্যাপার-প্রীতি বলে। শুভ্র ভাইয়া ৮ হাজার টাকা আমার আর ২ হাজার আপনার, খুশি? নাচবেন তো আমার সাথে? নাচা-নাচি আমাকে দিয়ে হবে না, শুভ্র বলে। এটা আবার কেমন কথা, একটু লাফালাফি করবেন আমার পাশে, তাইলেই তো হইল। আচ্ছা যান আপনাকে ৩ হাজার দিব। শুভ্র যতই নাচবে না বলে, নাছোড়বান্দা প্রীতি, সেও নাচিয়েই ছাড়বে। সুন্দরী মেয়েরা মনে হয় রিজেকশন নিতে পারেনা। সারাজীবন শুনেছি রাগলে মেয়েদের গাল লাল হয়, আজ প্রথম দেখলাম হলুদ হচ্ছে। সেই দিন আর নাচা হয়নি শুভ্র’র। এটা ছিল প্রীতি-শুভ্র’র প্রথম দেখা। বারান্দায় দাড়িয়ে আনমনে হেসে উঠে শুভ্র। মন খারাপ এবং হাসি পরস্পরবিরোধী, কিন্তু শুভ্র হাসছে। প্রীতি’র কথা মনে হলে আজও তার মন খুশি হয়। এর আগেও সম্পর্কে ছিলো শুভ্র, কখনো এমনটা হয়নি। এবারই প্রথম হচ্ছে ।ভালোবাসার বিপরীত আসলে ঘৃণা নয়, জান বলে-বাচ্চা বলে যাকে কাছে টেনেছেন তাকেই জানোয়ার বলে দুরে সরিয়ে দিলে আসলে ভালোবাসাই ছিল না, ভালোবাসাটা মিথ্যা ছিল, ভালোবাসা কখনও বদলে না, চলে যায় না, একজনের ভালোবাসা আরেকজনকে দেওয়াও যায় না। প্রীতির প্রতি ভালোবাসাটা তাহলে সত্যি ছিলো-ভয়ংকর সত্যি!

সকাল ৯ টা বাজে। অফিসে যাওয়ার সময় হয়েছে। শুভ্র’র অফিস ১০ টা থেকে, গুলশান এর একটা আ্যাড এজেন্সির বড় কর্মকর্তা সে। প্রীতি’র সাথে সম্পর্কের শেষ দিকটায় অফিসও ঠিকমত করতে পারেনি শুভ্র, ওই সময়টায় এমডি তাকে অনেক সাপোর্ট দিয়েছেন, সরাসরি জিজ্ঞাসা করেননি কখনো, কিন্তু বুঝেছেন যে কোনো ঝামেলা চলছে। এমডি তাকে অনেক পছন্দ করে, নিশ্চয় কাজের মানুষ বলেই করে, তবে প্রশ্রয় আছে এই পছন্দে, তার মানে কাজের বাইরেও একটা ব্যক্তিগত ভালোলাগা আছে নিশ্চয়। নিজেকে মাঝেমধ্যে খুব ভাগ্যবান মনে হয় শুভ্র’র। এগুলো ভাবতে ভাবতে অফিসের জন্য রেডি হয় শুভ্র। (চলবে…)

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top