সর্বপ্রথম চীনের মহাপ্রাচীর হেঁটে পাড়ি দেন যে তিনবন্ধু

চীনের মহাপ্রাচীরের গল্প ছোটবেলায় শুনেনি এমন মানুষ খুব কমই আছে। যে প্রাচীর পাথর ও মাটি দিয়ে তৈরি। প্রাচীরটি প্রায় ৫ থেকে ৮ মিটার উঁচু এবং লম্বা প্রায় ৮ হাজার ৮৫০ কিলোমিটার। এটি শুরু হয়েছে সাংহাই পাস থেকে এবং শেষ হয়েছে লোপনুর নামে স্থানে।

মহাকাব্যিক এই প্রাচীর ১৯৮৫ সালে সর্বপ্রথম পায়ে হেঁটে পরিভ্রমণ করেন তিনবন্ধু। তাদের একজন হলেন ইয়াহুই দোং। সম্প্রতি তার মুখোমুখি হয়েছে বিবিসি।

ইয়াহুই দোং বলেন, চীনের পূর্ব উপকূল সংসাই পাস থেকে ১৯৮৪ সালের ৪ মে আমরা যাত্রা শুরু করি। ভ্রমণ শেষ করতে সময় লাগে ৫০৮ দিন।

এ সময় তারা চীনের ইয়ান ও তাইহ্যাংয়ের মতো বিখ্যাত কিছু পর্বতের ওপর দিয়ে হেটেঁ যান। দেশের উত্তরাঞ্চলের সম্পন্ন অংশই পায়ে হেঁটে শেষ করেন তারা। আশির দশকের শুরুর দিকে তিনি হাই ভোটেজ বিদ্যুৎ লাইনের ইলেকট্রিশিয়ান ছিলেন। তবে অবসর সময়ে তিনি কবিতা ও প্রবন্ধ লিখতেন।

ইয়াহুই দোং বাড়ির পাশ থেকেই মহাপ্রাচীর দেখা যায়। তিনি প্রায়ই বিদ্যুৎ লাইনে কাজ করতেন। অবসর সময়ে প্রাচীর পাশে গিয়ে ভাবতেন- কীভাবে এই প্রাচীর তৈরি হলো?

তিনি জানান, প্রাচীরের পুরাতন অংশের বয়স ২ হাজার বছরের বেশি। আর নতুন অংশের বয়স ৫শ’ অথবা ৬শ’ বছর। দেশটির উত্তরাঞ্চল বর্হিশক্রর আক্রমণ থেকে রক্ষার জন্য এই মহাপ্রাচীর নির্মিত হয়। যার ইতিহাস পস্তুকে আছে।

‘তাই আমার একটি ধারণা ছিল। যদি আমি এই প্রাচীর দিয়ে হাঁটতে পারতাম এবং প্রতিটি পদক্ষেপের দলিল তৈরি করতে পারতাম। যা হত আমাদের ইতিহাসের জন্য বিরাট অবদান’- যোগ করেন ইয়াহুই দোং।

এমন ধারণা থেকে হার্ট বিট বাড়তে থাকে দোংয়ের। এক পর্যায়ে তার স্কুলের সেরা বন্ধু উয়ো ডিয়োকে সঙ্গে নিয়ে তাদের দুঃসাহসিক অভিযানের পরিকল্পনা করলেন। পরে তাদের সঙ্গে যুক্ত হন আরেক বন্ধু ঝাং ইউয়ানহুয়া।

উয়ো ডিয়ো কাব্যিক ও শৈল্পিক ভাবাপন্ন মানুষ। আর ইউয়ানহুয়া ছিলেন সৈনিক। তাদের মত পার্থক্য থাকলেও অবশেষে তারা পায়ে হাঁটার অভিযান শুরু করেন। এ সময় তারা পানির সংকটে পড়েন। অনেক বিপদ-শংকূল পথ পাড়ি দেন। কিছু-কিছু জায়গা আছে অত্যন্ত ভয়ংকর। যার নিরাপদ রুট কেবল স্থানীয়রা জানেন। প্রাচীর সংলগ্ন অসংখ্য গ্রাম তাদের পাড়ি দিতে হয়েছে। অবশ্য স্থানীয়রা তাদের এই অভিযানের জন্য সমর্থন জানিয়েছেন।

‘প্রাচীর ভ্রমণ শেষে প্রত্যেকে আমাদের ‘মহানয়ক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন, যা আমাদের জন্য বড় অর্জন’- বলেন প্রচীর বিশেষজ্ঞ ও প্রথম মহাপ্রাচীর পদব্রজকারী ইয়াহুই দোং।

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top