নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করলো যে ছবি

মাত্র একটি ছবিও বদলে দিতে পারে পৃথিবী? হ্যাঁ সত্যিই তাই ঘটেছে। জেনিফার লোপেজের একটি ছবি ইন্টারনেটের দুনিয়ায় নতুন এক ইতিহাস সৃষ্টির জন্য প্রেরণা হয়ে কাজ করেছে। এটি জেনিফার লোপেজের ‘ভাসাসি ড্রেস’ পরে তোলা ছবি।
আজ থেকে ১৫ বছর আগে গুগলের ইমেজ সার্চ তৈরির পেছনে লোপেজের একটি ছবিই হয়ে উঠেছিল অনুপ্রেরণা। ছবিটি চোখ ধাঁধিয়ে দিয়েছিল গুগলের প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজ, সের্গেই ব্রিন আর গুগলের কর্মকর্তা এরিক স্মিডকে। এ কথা নিজে স্বীকার করেছেন গুগলের নির্বাহী চেয়ারম্যান এরিক স্মিড।
সম্প্রতি মেইল অনলাইনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আমরা এখন গুগলে ছবি অনুসন্ধান করলে কোটি কোটি ছবি দেখি। কিন্তু জেনিফারের ওই ছবিটির কল্যাণেই এই গুগল ইমেজ সার্চ সুবিধাটি তৈরি করেছিলেন গুগলের দুই প্রতিষ্ঠাতা। ওই পোশাকটি ২০০০ সালে গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডসের সময় পরেছিলেন বর্তমানে ৪৫ বছর বয়সী এই শিল্পী।
গুগলে মানুষ কী সার্চ করে? গুগলের চেয়ারম্যান এরিক স্মিডের ভাষ্য, ‘আমরা দেখেছিলাম সবচেয়ে জনপ্রিয় সার্চ বিষয়ের মধ্যে ছিল জেনিফারের ওই ছবিটি। ওই ছবিটি দেখে গুগল কর্তৃপক্ষ অনুপ্রাণিত হয়। মানুষ যাতে সহজে এ ধরনের ছবি খুঁজে পায় সে লক্ষ্য থেকে ইমেজ সার্চ তৈরি করে গুগল।’

এরিক সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘কিম কারদাশিয়ানের আগে ইন্টারনেটের দুনিয়াকে মন্ত্রমুগ্ধ করে দিয়েছিল জেনিফার লোপেজের ওই পোশাকটি। যখন গুগল চালু করা হল মানুষ মুগ্ধ হয়ে গেল। কম্পিউটারে মাত্র কয়েকটি শব্দ টাইপ করেই সবকিছু খোঁজ করা যায়, এটা তাঁদের মুগ্ধতা বাড়িয়েই চলল। কিন্তু গুগলের দুই প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি ও ব্রিন শুধু টেক্সট সার্চ নিয়েই খুশি ছিলেন না। মানুষ যেহেতু টেক্সট সার্চের চেয়েও বেশি কিছু চাইতে শুরু করল তখনই ছবি নিয়ে কাজ শুরু করলেন তাঁরা।’
প্রজেক্ট সিন্ডিকেট ডটকমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্মিড আরও বলেন, ‘২০০০ সালের গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডসের পরে ল্যারি আর ব্রিন নিশ্চিত হলেন যে তাঁদের কী করা দরকার। কারণ ওই অনুষ্ঠানে জেনিফার লোপেজ যে নীল রঙের পোশাক পরেছিলেন তা সারা বিশ্বের নজর কেড়েছিল। ওই সময়ে মানুষ অনলাইনে সবচেয়ে বেশি খোঁজ করত জেনিফারকে। এত বেশি মানুষের কৌতূহল আমরা আগে কখনো দেখিনি। মানুষ আসলে অনলাইনে কী খুঁজতে চাই সে বিষয়টি নিয়ে আমরা নিশ্চিত ছিলাম না। জেনিফার ওই পোশাকটি পরলেন। গুগলের ইমেজ সার্চের জন্ম হয়ে গেল।’
গুগলের ইমেজ সার্চ তৈরির আগে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা একটি টেক্সট পেজের মাধ্যমে সার্চ করার সুবিধা পেতেন যে পেজে ১০টি নীল রঙের লিংক দেখানো হতো। এর অর্থ হচ্ছে, জেনিফারের ওই ছবিটি খুঁজতে অনলাইন ব্যবহারকারীদের এই লিংকগুলোতে ক্লিক করতে হতো।
২০০১ সালের জুলাই মাসে যখন গুগল ইমেজ সার্চ উন্মুক্ত করে গুগল তখন এখানে মাত্র ২৫ কোটি ছবি ছিল। দশ বছরের ব্যবধানে সেখানে ছবির সংখ্যা হাজার কোটি ছাড়িয়ে গেছে। নির্দিষ্ট পোশাক নিয়ে অনলাইন বিশ্বকোষ উইকিপিডিয়ায় যে অল্পসংখ্যক অনুচ্ছেদ লেখা হয়েছে সেখানে জেনিফারের এই পোশাকটিও রয়েছে।

যে পোশাক ইতিহাস সৃষ্টি করেছে তার খবর কী জেনিফার পাননি? স্মিডের দেওয়া সাক্ষাৎকারে তাঁর পোশাকের ইতিহাস গড়ার কাহিনি শুনে উচ্ছ্বসিত জেনিফার টুইটারে টুইট করেছেন। টুইটে জেনিফার লিখেছেন, ‘হু নিউ, #ওয়ান পারসন ক্যান চেঞ্চ দ্য ওয়ার্ল্ড#ওয়ানড্রেসক্যানচেঞ্জ দ্য ওয়ার্ল্ড#জেলো+ভারসেস=হিস্টোরি#পজিটিভ চেঞ্জ #ফান ফ্যাক্টস লোল’
গুগল কর্তৃপক্ষ এখন কী ভাবছে? গুগলের চেয়ারম্যানের ভাষ্য, ইমেজ সার্চকে আরও উন্নত করার কথা ভাবছে গুগল কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি গুগলের প্রকৌশলীরা গুগলইনেট নামের একটি ছবি শ্রেণিভুক্ত ও শনাক্তকরণ এলগরিদম তৈরি করেছে যা ছবি খুঁজতে ব্যবহারকারীকে আরও উন্নত সুবিধা দেবে।

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top