ঘন চুলের ঘরোয়া টোটকা

চুল নেই মাথায়! দুশ্চিন্তায় আরও ফাঁকা হচ্ছে মাথা, বড় করে তৈরি হচ্ছে গড়ের মাঠ? না বন্ধু! আর দুঃখু নয়। মুশকিল আসান করতে নিজের চুল ঘন করার সিক্রেট শেয়ার করছে  সিক্রেট ডায়রী 
কোমর অবধি চুল না হয়, নাই থাকল। কিন্তু মাথায় তো ক’টা চুল থাকবে, যাতে টাক না দেখা যায়। কিন্তু চুলের এমনই দশা একটু এদিক-ওদিক হাওয়া দিলেই চুল ফাঁক হয়ে টাক বেরিয়ে পড়ে। টেনে চুল আঁচড়াতে গেলে দশবার ভাবতে হয়, সামনের দিকে কপালের উপর ক’টা চুল ফেলে রাখব যাতে, মাথার সামনেটা ফাঁকা না দেখায়। চুল শ্যাম্পু করলে বা আঁচড়ালে তো আর ঘরের মেঝের দিকে তাকাতে ইচ্ছে করে না। মাথায় চুল নেই এদিকে ঘরের চারপাশে থিকথিক করছে চুল। মোদ্দা কথা, র্যাপুনজ়েলের মতো ভাগ্যি তো আর সক্কলের হয় না! তাই নিয়ে সারাদিন বসে-বসে দুঃখু করেও লাভ নেই। তার চেয়ে চলো দেখি আমার শনের নুড়িকে একটু পালিশ করে যদি সিনেমার নায়িকাদের চুলের মতো সুন্দর করতে পারি!

শ্যাম্পুর পরে লেবুর রস
এটা কিন্তু তোমাদের করতেই হবে। সপ্তাহে অন্তত দুদিন চুল ভাল করে শ্যাম্পু করে নেবে। ভলিউম বাড়ানোর জন্য বাজারে অনেক শ্যাম্পু কিনতে পাওয়া যায়। সেই শ্যাম্পু ব্যবহার করতে পারি। কিন্তু যাদের চুল খুব ড্রাই, তারা এই শ্যাম্পু ব্যবহার করবে না। তারা নরম্যাল শ্যাম্পুই ব্যবহার করবে। চুল ভাল করে শ্যাম্পু করা হয়ে গেলে একটা পুরো পাতিলেবুর রস বের করে পুরো চুলে ভাল করে লাগাবে। পাতিলেবুর রস চুলকে খুব ফুরফুরে করে দেয়। চুলগুলো একে অপরের উপর লেপটে পড়ে থাকে না। ফলে পরিমাণে চুল একটু বেশি দেখায়।

হেয়ারকাট
শুধু শ্যাম্পু করেও যদি মন না ভরে, তা হলে হেয়ারকাট তো আছেই। চুলের কাট পালটালেও কিন্তু চুলের ভলিউম বেড়ে যায়। এমনিতেই ছয় সপ্তাহ বাদে-বাদে হেয়ার ট্রিম করানো উচিত। তা হলে চুল এমনিতেই ভাল থাকে। তাছাড়া চুল কাটলে এমনিতেই খানিকটা ভলিউম অ্যাড হয়ে যায়। সেখানে যদি অনেকগুলো লেয়ারে ভাগ করে চুল কাটা যায়, তা হলে চুলের গোছ বেশি মনে হবে। তবে লেয়ারে মুখের চারপাশ ঘিরে অনেকটা চুল থাকে, মুখটা দেখতে ভাল লাগে। কিন্তু চুলের নীচটা খুব সরু হয়ে আসে। চুলের এন্ডটা সরু থাকাটা যদি পছন্দ না হয়, সেক্ষেত্রে ব্লান্ট বা বব (স্মল অর লং) কেটে নিতে পারো। এই কাটে চুলের ভলিউম অবশ্যই বাড়বে।

ব্যাক কম্বিং
এটা আর-একটা দারুণ অপশন, যখন-তখন, যেখানে-সেখানে করা যায়। হঠাত্ ডেটিং বা দু’মিনিটে পার্টির জন্য রেডি হতে হলে এটাই বেস্ট অপশন। মাথাটা পুরো উলটো করে নীচের দিকে ঝুঁকে পিছন দিক থেকে অর্থাত্ ঘাড়ের কাছে থেকে চুলের শেষের দিকে চুল আঁচড়াবে। পুরো চুলটা মাথা নিচু করেই আঁচড়াবে। এবার মাথাট এক ঝটকায় তুলে নেবে। পুরো চুলটা মাথার পিছনে চলে যাবে। সামনের অংশটা ফুলে থাকবে। কিন্তু আর চিরুনি চালাবে না। জাস্ট হাত দিয়ে ঠিক করে নেবে। এবার চাইলে পুরো চুল খোলা রাখো বা ক্লাচ ক্লিপ বা রাবার ব্যান্ড দিয়ে পিছনে বেঁধে নিতে পারো।

কালার
রং কিন্তু চুলের ভলিউম বাড়াতে তোমার বেস্ট ফ্রেন্ড হয়ে যাবে। রং খুব সহজেই ক্যামাফ্লেজ করতে পারে, ফলে টাক দেখা যায় না। তবে সারা মাথায় যে-কোনও একটা রং বুলিয়ে নিলাম আর চুলের ভলিউম বেড়ে গেল, সেটা ভেবো না। প্রত্যেকের গায়ের রং, চুলের কাট অনুযায়ী বিভিন্ন রকম রং মানায়। সেইজন্য তোমাকে কী রং ভাল মানাবে, সেটা বুঝে রং করবে। পুরো চুলে রং না করে রং দিয়ে হাইলাইট করবে। সারা মাথায় ছ’-সাতটা স্ট্রিপ কালার করে নিলে দেখবে মনে হবে, হট করে অনেকটা চুল বেড়ে গেল। তবে কালার্ড হেয়ারের কেয়ারও কিন্তু বেশি নিতে হয়। রং চুল খুব ড্রাই করে দেয়। তাই প্রপার শ্যাম্পু আর কন্ডিশনিং খুব দরকার। রং করা চুলের কেয়ার কিন্তু মাস্ট।

ব্লো ড্রাইং
স্না করে উঠে ভিজে চুল এমনি না শুকিয়ে ব্লো ড্রায়ার দিয়ে চুল হাত দিয়ে সরিয়ে-সরিয়ে শোকালে কিন্তু চুলের ঘনত্ব বেড়ে যায়। চুল শোকানোর সময় চুলের মাঝে ব্লো-ড্রায়ারের হাওয়া খানিকটা করে ঢুকে যায়। ফলে চুল ফুলে-ফেঁপে ওঠে। চুলের ভলিউম অনেক বেড়ে যায়। তবে চুল ব্লো ড্রাই করার পরে চেপে চিরুনি চালাবে না। তা হলে চুল আবার বসে যাবে। তার চেয়ে বরং হাত দিয়ে সেট করে নাও।

কার্লার
বুয়েছি, বুয়েছি! তোমরা বাওয়া কালার, ব্লো-ড্রাইং কোনওকিছুই করতে চাও না। সবেতেই ভয়। তোমরা বরং হাত পা গুটিয়ে, মাথার চুলও গুটিয়ে বাড়িতে বসে থাকো। বুঝলে না? মানে কার্লার কিনে মাথার চুলে গুষ্টির কার্লার লাগিয়ে তিন-চার ঘণ্টা বসে থাকো। ব্যস, কার্লার খুললেই পেয়ে যাবে মাথাভর্তি ঘন চুল। তবে কার্লার খোলার পর কিন্তু আর চিরুনি দেবে না চুলে।

ঘন চুলের প্যাক
সপ্তাহে অন্তত একবার একটা ডিম আর দই দিয়ে প্যাক বানিয়ে মাথায় লাগিয়ে রাখো। আধঘণ্টা পরে শ্যাম্পু করে ধুয়ে নাও। এতে চুলের ভলিউমও বাড়বে, চুলের পুষ্টিও জোগাবে।
অ্যালোভেরা গাছের জেলও চুলের গোড়ায় লাগাতে পার। এতে চুলের গোড়া মজবুত হয় এবং চুলের গ্রোথ বাড়ায়।
ছাঁচি পেঁয়াজ, অর্থাত্ একদম ছোট-ছোট লাল পেঁয়াজ নাও দুটো। এবার পেঁয়াজ দুটো থেঁতো করে তার রস লাগাও চুলের গোড়ায়। পেঁয়াজের রসে কিন্তু মাথায় নতুন চুল গজায়। ফলে এমনিই চুলের গোছ বাড়ে।
পাকা কলা চটকে দই আর মধুর সঙ্গে মিশিয়ে চুলে লাগাতে পার। এতে রুক্ষ চুল হয় মসৃণ।

ব্যস! এটুকু করতে পারলেই চুলের সমস্যা পালিয়ে যাবে।

এবার যত ইচ্ছে কেত মারো চুল নিয়ে।

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top