প্রসেনজিৎ, দেবের নায়িকা হতে চান জয়া

এছাড়াও ঋত্বিক চক্রবর্তী, পরমব্রত চ্যাটার্জি এবং শাশ্বত চ্যাটার্জির সঙ্গে কাজ করার ইচ্ছা রয়েছে জয়ার।

জয়া এখন ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী নির্মাতা সৃজিত মুখার্জির ‘রাজকাহিনি’ সিনেমার শুটিংয়ে ভারতে অবস্থান করছেন। এরই ফাঁকে তিনি মুখোমুখি হয়েছিলেন ভারতীয় দৈনিক টাইমস অফ ইন্ডিয়ার।

জয়া বলেন, “এখানে নিজের প্রতিভা খুব সহজে প্রমাণ করা মুশকিল। সবে মাত্র ক্যারিয়ার শুরু করেছি এখানে। আমাকে এখন নিজেকে প্রমাণ করতে হবে। মাত্র শুরু করেছি, আমাকে অনেক দূর যেতে হবে। নিজেকে প্রমাণ করার জন্য আমি একটা চ্যালেঞ্জিং চরিত্রের অপেক্ষায় আছি।”

জয়া বলছিলেন, ‘আবর্ত’ সিনেমাটি মুক্তির পর বেশ কটি সিনেমায় একই ধরনের চরিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব পেয়েছিলেন তিনি। একটি ভালো সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন। সেই সুযোগ এলো সৃজিত মুখার্জির ‘রাজকাহিনি’র মাধ্যমে।

“সৃজিত একটি দুর্দান্ত চরিত্রের প্রস্তাব দিলেন। আমি সেটা লুফে নিলাম। দর্শকরা দেখার পর তাদের রায় দেবেন, জয়া আহসান আসলেই অভিনেত্রী কি না! আমি বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে অভিনয় করতে চাই, আমার অভিনয়কে নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে চাই।”

“বাংলাদেশের পরিচালকরা আমাকে দিয়ে বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে কাজ করান, আমার ওপর তাদের সেই আস্থাটা রয়েছে। কয়েক দিন পরেই বাংলাদেশে আমার একটি ছবি মুক্তি পাবে, সেখানে আমি সার্কাসে কাজ করা এক মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করেছি। আরেকটি ছবিতে নারী সুপারহিরো চরিত্রে অভিনয় করেছি।”

কি ধরনের সিনেমায় কাজ করতে চান এমন এক প্রশ্নের জবাবে জয়া জানান, স্বাধীন ও বিকল্প ধারার সিনেমাই তার পছন্দ। তবে অর্থপূর্ণ বাণিজ্যিক সিনেমায় অভিনয়ের চ্যালেঞ্জ নিতেও তিনি প্রস্তুত ।

টালিগঞ্জের সঙ্গে বাংলাদেশের সিনেমার তুলনা করতে গিয়ে জয়া বলেন, “ইন্ডাস্ট্রি হিসেবে টালিউড অনেক বেশি পেশাদার। হয়তো আপনাদের সিনেমার বড় বাজার এবং কাঠামোর কারণে এই পেশাদারিত্ব এখানে গড়ে উঠেছে। আমাদের দেশে সিনেমা হলগুলো নিয়ে আমরা বড় ধরনের সমস্যায় রয়েছি। প্রজেকশন ব্যবস্থা এবং পোস্ট প্রোডাকশন সুবিধা সেখানে খুবই অপ্রতুল। আবার একই সঙ্গে সিনেমার প্রতি আমাদের প্রবল ভালোবাসা রয়েছে, এই ভালোবাসার কারণেই আমাদের সব ত্রুটি আড়াল হয়ে যায়।”

তিনি আরও বলেন, “প্রতিবছর বাংলাদেশে বেশ ভালো কিছু সিনেমা নির্মিত হয়। সরকারও সিনেমার উন্নয়নে বেশকিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। পরিচালক এবং শিল্পীদের একটা নতুন প্রজন্ম কাজ করছে। যাদের গল্প বলার ধরন অসাধারণ এবং সিনেমার প্রতি প্রচণ্ড ভালোবাসা রয়েছে।”

যৌথ প্রযোজনার সিনেমা নির্মাণের উদ্যোগ নিয়ে একটি প্রশ্নের জবাবে জয়া বলেন, “আমরা সবাই আসলে খুব চেষ্টা করছি। বুম্বাদা (প্রসেনজিৎ) ও গৌতম দা (গৌতম ঘোষ) দুজনেই খুব চেষ্টা করছেন এবং আমাদেরও বেশ কয়েক জন নির্মাতা তাঁদের সঙ্গে কাজ করতে রাজি হয়েছেন। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, কিছু কারণে দুই দেশের মানুষেরই এ বিষয়ে আপত্তি রয়েছে। তারা বুঝতে চান না পৃথিবীর মানচিত্রে সাড়ে ৩০ কোটি বাঙালি রয়েছেন এবং তারা আমাদের দর্শক।”

টালিগঞ্জে থিতু হতে চাওয়া এই অভিনেত্রী ওপার বাংলার মানুষদের প্রশংসা করতেও ভুললেন না।

“এখানকার (পশ্চিমবঙ্গের) লোকেরা আমাকে যথেষ্ট আন্তরিকতার সঙ্গে গ্রহণ করেছেন। তাদের ব্যবহারে আমার মনে হচ্ছে, আমি বাইরের কেউ নই। আমি তাদেরই একজন। কৃতজ্ঞ টালিউডের কাছেও। দর্শকরা আমার ব্যাপারে আগ্রহী হয়ে উঠছেন,আমার কাজ পছন্দ করছেন। আমার মনে হয় এটা শুভ লক্ষণ।”

‘গেরিলা’ এবং ‘চোরাবালি’ সিনেমার জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়া জয়া এখন অভিনয় করছেন সাফিউদ্দিন সাফি পরিচালিত ‘পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেমকাহিনী-২’ সিনেমাতে। হাতে রয়েছে সামুরাই মারুফের ‘মেসিডোনা’ ও মাহমুদ দিদার পরিচালিত সরকারি অনুদানের সিনেমা ‘বিউটি সার্কাস’।

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top