১০টি লক্ষণে বুঝে নিন আপনার ওজন বেড়ে যাচ্ছে

হঠাৎ করেই দেখা যায় জামা এক সাইজ বড় পড়তে হচ্ছে বা সামান্য একটু কাজ করার পরই কোন অসুস্থতা ছাড়াই অনেক ক্লান্ত লাগছে। যদি এমন হয় তাহলে বুঝতে হবে যে দেহের ওজন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আসলে দেহের বাড়তি ওজন বা স্থূলতা খুব সাধারণ সমস্যা হয়ে দাঁড়াচ্ছে আমাদের জীবনে। অস্থির জীবনধারা, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যভ্যাস, কম ঘুমানো বা সময়মত না ঘুমানো এইসব অভ্যাস আসলে ওজন বৃদ্ধির জন্য দায়ী। এছাড়াও আর অনেক কারণ রয়েছে যার জন্য দেহের ওজন বৃদ্ধি পায়। হয়তো অনেকেই জানেন না যে এই ওজন বৃদ্ধি শরীরের জন্য কতটা খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে।

সাধারণত যখন দেহে চর্বির পরিমান বেড়ে যায় তখনই ওজন বৃদ্ধি পায়। আর এই বৃদ্ধি পাওয়া ওজন তখন বেশ কিছু শারীরিক সমস্যা যেমন উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরল ও রক্তের শর্করার পরিমান বৃদ্ধি পাওয়া ইত্যাদির মত আরো অনেক গুরুতর সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে।এসব সমস্যা হৃদ স্বাস্থ্যকে দুর্বল করে এবং এর ফলে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের মত প্রাণহানীকর বিভিন্ন অসুস্থতার সৃষ্টি করতে পারে।

তাই এসব সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে সব সময় উচিত সতর্ক থাকা এবং ওজন কমানো শুরু করা। তাই প্রথমেই আগে জানতে হবে শরীরের ওজন বৃদ্ধি পাওয়ার লক্ষণগুলো কি কি। অনেক ধরনের লক্ষণই দেখা যায়।তাই প্রথমেই সেগুলো জেনে নিলে ওজন কমানো সহজ হয়।

তবে ওজন যদি একবার বৃদ্ধি হয়েও যায় লজ্জিত বা চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই। তার জন্য প্রয়োজন শুধু নিয়ন্ত্রনের ইচ্ছাশক্তি। প্রতিটি মানুষেরই জীবনের কোন না কোন সময় এমন হতেই পারে। হয়তো অনেক সময় কারণটা জানা নাও থাকতে পারে কিন্তু যদি জীবন যাপনের ধারায় সামান্য কিছু পরিবর্তন আনতে পারেন তাহলে এই ওজন বৃদ্ধির সমস্যা কমানো সম্ভব।তাই আগেই ওজন বৃদ্ধির লক্ষণ গুলো জানা প্রয়োজন। যদি লক্ষণ গুলো আপনার মাঝে প্রকাশ পায় তাহলে অবহেলা না করে সাথে সাথে সতর্ক হোন এবং প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নিন।

ওজন বৃদ্ধি পাওয়ার লক্ষণ গুলো-

অলসতা

ওজন বৃদ্ধি পাওয়ার লক্ষণ গুলো জানতে প্রথমেই আপনার জীবনযাত্রার উপর নজর দিন। যদি অল্প কাজের পরেই আপনি ক্লান্ত বোধ করেন বা অল্প কিছু সিঁড়ি ব্যবহার না করেই লিফট ব্যবহার করতে আগ্রহী হোন বা এই ধরনের যেকোন সামান্য পরিশ্রমের কাজ এড়িয়ে যেতে ইচ্ছে করে তাহলে বুঝবেন যে আপনার শরীরের ওজন বৃদ্ধি পাচ্ছে। শরীর ও মনে অলসতার অনুভূতি ওজন বৃদ্ধি পাওয়ার লক্ষণ।

নাক ডাকা

নাক ডাকা অনেক সময় ওজন বৃদ্ধি পাওয়ার লক্ষণ।হঠাৎ করেই যদি দেখেন যে কেউ নাক ডাকা শুরু করেছে তাহলে বুঝতে হবে যে তার ওজন বৃদ্ধি পেয়েছে।যদিও নাক ডাকাকে ঘুমের ব্যাধিও বলা হয়ে থাকে।অনেক সময় ঘুমের মাঝে নাক ডাকলে কয়েক মুহূর্তের জন্য নিঃশ্বাস বন্ধও হয়ে যায়। কারণ যখন কারো ওজন বৃদ্ধি পায় তখন তার ঘাড়ের চারদিকের ফ্যাট নিঃশ্বাস নিতে সমস্যার সৃষ্টি করে।

কোলেস্টেরল এবং উচ্চ রক্তচাপ

যখন জানতে পারেন যে আপনার কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি বা উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে তখন আপনার চিকিৎসকও আপনাকে নিয়মিতভাবে ব্যায়াম করার পরামর্শ দেন। কারণ ওজন বৃদ্ধি পাওয়া এসব রোগের অনেক কারণের মাঝে অন্যতম।

খুব বেশি ক্ষুধা পাওয়া

ওজন বৃদ্ধি পাওয়ার সবচেয়ে ভালো লক্ষণ হচ্ছে খুব বেশি বা ঘন ঘন ক্ষুধা পাওয়া।এটা অনেক সময় ইটিং ডিজঅর্ডারেরও লক্ষণ। বিশেষ করে রাতে জেগে থাকলে কোন কিছু খাবার ইচ্ছাকে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না।আপনি হয়তো বুঝতেও পারেন না কেন এমন হয়। আর সেই ঘন ঘন খাবার ইচ্ছা হয়তো এমন সব খাবারে হয় যা আপনার ওজন বৃদ্ধি জন্যই দায়ী।যেমন চকলেট, আইসক্রিম, তেলে ভাজা খাবার ইত্যাদি।এই খাবার গুলো শুধু আপনার দেহের ফ্যাটের পরিমান বাড়াতে এবং ওজন বৃদ্ধি করতেই সহযোগিতা করে।

পরিধেয় কাপড়ের টাইট হয়ে যাওয়া

আপনি নিয়মিত যে সাইজের কাপড় পরেন হঠাৎ দেখলেন সেই কাপড় গুলো আপনার টাইট হয়ে যাচ্ছে। এই লক্ষণ আপনার দেহের বাড়তি ওজনকেই ইঙ্গিত করে।

পায়ে ব্যাথা অনুভব

পা হচ্ছে এমন একটি অঙ্গ যা আমাদের দেহের সমস্ত ভার বহন করে। যদি দেহের ওজন বৃদ্ধি পায় তাহলে তা নিশ্চিত ভাবেই পায়ের উপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে এবং সেই চাপে ব্যাথার সৃষ্টি হবে।পা ছাড়াও হয়তো মেরুদন্ড ও নিতম্বেও ব্যাথা হতে পারে। দেহের ওজন যত বেশি বৃদ্ধি পাবে জয়েন্টগুলোতে তত বেশি ব্যাথার সৃষ্টি হবে।এর ফলে একসময় চরম ব্যাথা অনুভূত হতে পারে।

স্ট্রেচ মার্ক

দেহের ওজন বৃদ্ধি পাওয়ার একটি সুস্পষ্ট লক্ষণ হচ্ছে এই স্ট্রেচ মার্ক। যখনি দেহে বাড়তি মেদ জমা হয় তখনই সেই অতিরিক্ত মেদ চামড়ার নিচে জমা হয়ে কোষের প্রসারণ ঘটায়। ফলে এসব স্ট্রেচ মার্কের সৃষ্টি হয়। তাই শরীরের বাড়তি মেদ কম থাকলে এই স্ট্রেচ মার্কও কম থাকবে দেহে।

দমবন্ধ লাগা

কোন ধরনের অসুস্থতা ছাড়াই অল্প পরিশ্রমের কাজেই যদি আপনি হা^পিয়ে উঠেন বা অনেক সময় যদি দমবন্ধ লাগে তাহলে বুঝতে হবে যে আপনার ওজন বৃদ্ধি পাচ্ছে। হৃদসংবহনতন্ত্রে অক্সিজেনের অভাব হলে এমন হয়।ওজন বৃদ্ধি পেলে শরীরের অতিরিক্ত ফ্যাট হৃদসংবহনতন্ত্রের উপর চাপ সৃষ্টি করে।তাই অতিরিক্ত ওজন কমিয়ে নিঃশ্বাস নেয়ার জন্য শরীরের প্রয়োজনীয় অক্সিজেন এর সরবরাহ নিশ্চিত করুন।

হাইপো থাইরয়েডিজম

দেহের ওজন বৃদ্ধি পাওয়ার বেশ গুরুত্বপূর্ণ কারণ হচ্ছে থাইরয়েড সমস্যা।তাই ওজন বৃদ্ধি পাচ্ছে এমন মনে হলেই থাইরয়েডের মাত্রা পরীক্ষা করুন। থাইরয়েডের মাত্রা কম হলে তা দেহের বিপাকক্রিয়ার হারকে ধীর করে দেয় এবং দেহের ওজন বৃদ্ধি করে। যদি এরকম সমস্যা থাকে তাহলে অবশ্যই দেরি না করে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

ওজন মাপা

যদি উপরে উল্লেখিত লক্ষণ গুলো আপনার মাঝে দেখা যায় তাহলে তা পরীক্ষা করার জন্য আজই ওজন মাপুন। তবে কখনো ব্যায়াম করার পরপরই ওজন মাপা ঠিক নয়, তাহলে সঠিক ওজন আসে না।

লেখিকা
শওকত আরা সাঈদা(লোপা)
জনস্বাস্থ্য পুষ্টিবিদ
এক্স ডায়েটিশিয়ান,পারসোনা হেল্‌থ
খাদ্য ও পুষ্টিবিজ্ঞান(স্নাতকোত্তর)(এমপিএইচ)
মেলাক্কা সিটি, মালয়েশিয়া।

ফটো ক্রেডিট: www.imujer.com

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top