ওজন কমাতে ও বিষণ্ণতা দূর করতে সাহায্য করবে যে ১০টি খাবার

ওজন কমানোর সাথে মানসিক অবস্থার একটি জোরালো সম্পর্ক রয়েছে। যদি দেহের ওজন কমাতে চান তাহলে তবে এর মূল চাবিকাঠি হচ্ছে নিজেকে যতটুকু সম্ভব দুর্ভাবনাহীন রাখা। কারন যখনই নিরুদ্বেগ অবস্থায় থাকবেন তখন যেকোনো কাজই নিশ্চিত ভাবে করতে পারবেন। তবে এই ব্যাপারটা লক্ষণীয় ভাবে দেখা গেছে যে যখনই কেউ ওজন কমাতে মনস্থির করে কিন্তু মানসিক অবস্থা চাপের মাঝে থাকে তাহলে ওজন না কমে বাড়তে শুরু করে। এর কারণ কী?

এর কারণ হচ্ছে পরিপূর্ণ ভাবে শিথিল হতে না পারায় তার ওজন কমানোর খাদ্য তালিকাও ব্যর্থ হয়। যখনি কেউ বিষণ্ণতায় ভোগেন তখন সে বেশি খাওয়া শুরু করে এবং সেটা তার খাবারের প্রতি আসক্তি বাড়িয়ে দেয়। এর সবচেয়ে বড় এবং মূল কারন হচ্ছে কর্টিসল নামক হরমোনের নিঃসরণ। কারন দেহ যতো বেশি মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করে তখন এই কর্টিসল হরমোন তত বেশি নিঃসৃত হয়। এতে খাবার ইচ্ছেটাও বেড়ে যায় এবং সেই সাথে ওজন ও বৃদ্ধি পায়। আমাদের দেহে এই কর্টিসল হরমোনের অতিরিক্ত নিঃসরণের সবচেয়ে খারাপ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হচ্ছে ক্ষুধা বেড়ে যাওয়া কারন মানসিক চাপ সামাল দেয়ার জন্য অতিরিক্ত শক্তির প্রয়োজন। অনেকেই চান না খেয়ে ওজন কমাতে। কিন্তু না খেয়ে থাকাও যে কারো স্বাস্থ্যের জন্য বিপদজনক। এর ফলে কর্টিসল সরাসরি ওজন বৃদ্ধি করে এবং তখন তা হিপ বা অন্য কোথাও না জমে পেটে গিয়ে জমা হয়। যা হৃদরোগ এবং স্ট্রোকের ঝুঁকিও বাড়িয়ে দেয়।

সারাদিনের কাজের শেষে পরিশ্রান্ত অবস্থায় ক্ষুধা মেটাতে গিয়ে দেখা যায় তাৎক্ষণিকভাবে অস্বাস্থ্যকর খাবার অনেক বেশি পরিমানে খেয়ে ফেলা হয়। এভাবে বেশি খাওয়া কোনোভাবেই অনুমোদিত নয়। তাই পরিশ্রান্ত অবস্থায় দেহকে শিথিল করার জন্য প্রয়োজন স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া। অস্বাস্থ্যকর খাবার হয়তো কিছু সময়ের জন্য সাময়িকভাবে তৃপ্তিদায়ক হলেও পরবর্তীতে এগুলো অনুশোচনাবোধ, বিষণ্ণতা এবং মনঃপীড়ার কারন হয়ে দাড়ায়। তাই মানসিক চাপ দূর করতে সাহায্য করে এমন কিছু খাবারের কথা এখানে উল্লেখ করা হলো যেগুলো খেলে মানসিক চাপ কমে এবং সেই সাথে ওজন বৃদ্ধিও হ্রাস পাবে।

১) স্যামন বা এই ধরনের সামুদ্রিক মাছ

এসব সামুদ্রিক মাছে থাকে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড যা মানসিক অবস্থা ভাল করার সাথে যুক্ত। তাই গরু বা খাসীর মাংস না খেয়ে স্যামন বা এই ধরনের সামুদ্রিক মাছ গুলো খান।

২) পালংশাক

উচ্চ মাত্রার ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ এই পালং শাক। যদি প্রতিদিনের খাবারে এই গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পদার্থটি কম খাওয়া হয় তাহলে ক্লান্ত ও খিটখিটে অর্থাৎ মানসিক অবস্থার উপর প্রভাব ফেলবে। এছাড়া এই শাক ভিটামিন এ, বি, সি এবং আয়রনের চমৎকার উৎস। সেই সাথে এতে থাকা প্রোটিন দেহের শক্তির মাত্রা বৃদ্ধি করে। একটি গবেষণায় জানা যায় যে পালংশাক মিষ্টি জাতীয় খাবার এবং অতিরিক্ত লবনের খাবার ইচ্ছা কমিয়ে ওজন কমাতে সাহায্য করে।

৩) টুনা মাছ

এই মাছটি আমাদের দেশে খুব সহজলভ্য না হলেও পাওয়া যায়। ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড সমৃদ্ধ এই মাছটি দিয়ে লাল আটার পাউরুটির স্যান্ডউইচ তৈরি করে খেলে তা মন মেজাজ ভাল রাখতে সাহায্য করে। এই খাবারটি মানসিক অবস্থা ভাল করার হরমোন সেরেটোনিন নিঃসরণ করতে সাহায্য করে। ভুষিসহ এসব শস্য জাতীয় খাবার অনেকক্ষণ পেট ভরা থাকার অনুভুতি দেয় ফলে অতিরিক্ত খাওয়া থেকে নিজেকে দূরে রাখা যায়।

৪) ব্লুবেরি

ব্লুবেরির বেগুনি রঙটা আসে অ্যান্থোসিয়ানিন নামক একটি উপাদান থেকে যার রয়েছে মেজাজ ভালো করে দেয়ার ক্ষমতা। এই ফলটি পানি এবং খাদ্য আঁশে ভরপুর যা খেলে অনেকক্ষণ পেট ভরা থাকে যার ফলে ওজন ও কমবে।

৫) ডার্ক চকলেট

এক আউন্স পরিমান ডার্ক চকলেটই মন মেজাজ ভালো করে দেয়ার জন্য এবং স্বাস্থ্যের উপকারিতা পাওয়ার জন্য যথেষ্ট। ডার্ক চকলেটে থাকা পলিফেনল মানসিক অবস্থা ভাল করে। এছাড়া এটা রক্তচাপ কমাতেও সাহায্য করে। কমলা বা মালটা- ভিটামিন সিতে ভরপুর টক জাতীয় ফলে থাকে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা দ্রুত মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। আর মানসিক অবস্থা ভালো থাকলে খাবার খাওয়ার মাঝেও নিয়ন্ত্রণ আনা সম্ভব খুব সহজেই।

৬) সেলারি

সেলার‍িতে এমন একটি উপাদান আছে যা রক্তে স্ট্রেস হরমোনের ঘনত্ব কমাতে সাহায্য করে এবং সংকীর্ণ রক্তনালীকে শিথিল করতে সাহায্য করে।

৭) গ্রিক দই

দই খাওয়ার পর তা মস্তিষ্কে ডোপামিন এবং নোরিপাইনেফ্রিন নামক দুইটি রাসায়নিক উপাদান নিঃসরণ করে যা মানসিক অবস্থা ভাল করতে সাহায্য করে। এটি সচেতনতা এবং শক্তির মাত্রাও বৃদ্ধি করে। ক্রিম জাতীয় দুধের তৈরি খাবার ওজন কমাতেও সাহায্য করে। ১৮ আউন্স গ্রিক দই নিয়মিত খেলে তা ওজন কমায়।

৮) চেরি টমেটো

এই ফলটি উচ্চ লাইকোপিন সমৃদ্ধ যা বিষণ্ণতা এবং অলসতার সাথে সম্পর্কিত উপাদানের উৎপাদনকে ধীর করে। এই ফলটি কম ক্যালরিযুক্ত তাই ওজন কমানোর ক্ষেত্রে বেশ কার্যকর।

৯) রোজমেরি

এটি একটি সুগন্ধি ভেষজ উদ্ভিদ। অনেক খাবারেই এটা ব্যবহার করা হয়। এটি রক্তের প্রবাহ বাড়ায় এবং প্রদাহ বিরোধী হিসেবে কাজ করে সেই সাথে স্মৃতিশক্তি উন্নত করতে সাহায্য করে।

১০) তিসিবীজ

এটি ওজন কমাতে সহায়ক একটি খাবার।আস্ত তিসিবীজের চেয়ে গুঁড়ো খাওয়া হজমের জন্য ভালো। লিগনানের চমৎকার একটি উৎস এই তিসিবীজে থাকা উদ্ভিদ ইস্ট্রোজেন বিক্ষিপ্ত মেজাজ ভাল করতে এবং অতিরিক্ত খাওয়া কমাতে সাহায্য করে।

লেখিকা শওকত আরা সাঈদা(লোপা)

জনস্বাস্থ্য পুষ্টিবিদ

এক্স ডায়েটিশিয়ান,পারসোনা হেল্‌থ

খাদ্য ও পুষ্টিবিজ্ঞান(স্নাতকোত্তর)(এমপিএইচ)

মেলাক্কা সিটি, মালয়েশিয়া

তথ্যসূত্র: www.healthdigezt.com

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top