৮টি খাবারের মাধ্যমে মোকাবেলা করুন হাইপোথাইরয়েডিজমের সমস্যা

থাইরয়েডের সমস্যা এখন সারা বিশ্বেই একটি সাধারণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সমস্যাটি হয়ে থাকে মূলত থাইরয়েড হরমোনের অপর্যাপ্ত উৎপাদনের কারনে। আর হাইপোথাইরয়েডিজম হচ্ছে এমন একটি অবস্থা যেখানে থাইরয়েড গ্রন্থি কম কার্যকর। এটা দেহের বিপাক ক্রিয়াতে প্রভাব ফেলে। হাইপোথাইরয়েডিজমের কিছু লক্ষণের মাঝে হঠাৎ করে দেহের ওজন বৃদ্ধি পাওয়া, মানসিক চাপ, কোষ্ঠকাঠিন্য, কাজে অলসতা, চুল শুষ্ক হয়ে যাওয়া, চুল পড়া বৃদ্ধি পাওয়া, ভঙ্গুর নখ ইত্যাদি অন্যতম

 

সাধারণত কম আয়োডিন যুক্ত খাবার খাওয়া হাইপোথাইরয়েডিজমের সমস্যা হওয়ার প্রধান কারন। থাইরয়েড গ্রন্থি দেহের বিপাক ক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে। এবং এই বিপাক ক্রিয়া পরবর্তীতে দেহের তাপমাত্রা, হৃদ স্পন্দন ইত্যাদির উপর প্রভাব ফেলে। হাইপোথাইরয়েডিজমের সমস্যা হলে যদিও চিকিৎসার প্রয়োজন তবে এর অনেকটা প্রতিকার ঘরে বসেও সম্ভব। এজন্য প্রয়োজন খাবার তালিকায় অলিভ অয়েল, ক্যানোলা অয়েল, নারিকেল তেল ইত্যাদির মত স্বাস্থ্যকর ফ্যাট যোগ করা। এগুলো দেহে থাইরয়েডের কাজে বাধা দেয় না। এছাড়া খেতে হবে প্রচুর সবজি ও ফল।

 

এখানে খাবারের মাধ্যামে কার্যকর ভাবে হাইপোথাইরয়েডিজমের সমস্যার কিছুটা সমাধান করার কথা জানাচ্ছি-

 

স্ট্রবেরি

স্ট্রবেরি ফলে রয়েছে প্রচুর পরিমান আয়োডিন যা বিপাক ক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। থাইরয়েড গ্রন্থিকে সুস্থ রাখার জন্য উচ্চ মানের আয়োডিন সমৃদ্ধ খাবার খেতে পারেন।

 

পালংশাক

প্রচুর ভিটামিন এবং অমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড সমৃদ্ধ পালংশাক দেহের বিপাক ক্রিয়াকে উন্নত করতে সাহায্য করে এবং হাইপোথাইরয়েডিজমের সমস্যা মোকাবেলা করতে পারে।

 

নারিকেল তেল

নারিকেল তেল দেহের বিপাকক্রিয়া এবং ওজন কমানোর সাথে সম্পৃক্ত। কারন নারিকেল তেলে থাকা ফ্যাটি এসিড বিপাকক্রিয়ার গতি বৃদ্ধি করে এবং ওজন বৃদ্ধিকে তরান্বিত করে। আর বিপাকক্রিয়ার গতি বৃদ্ধি হলে হাইপোথাইরয়েডিজমের সমস্যাও প্রতিরোধ হবে।

 

তিসিবীজ

তিসিবীজে অনেক বেশি পরিমানে অমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড রয়েছে যা থাইরয়েড গ্রন্থি সঠিকভাবে কাজ করার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

 

আদা

আদা হচ্ছে হাইপোথাইরয়েডিজমের সমস্যার একটি অন্যতম ঘরোয়া প্রতিকার। কারন ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়াম এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর আদা হাইপোথাইরয়েডিজমের সমস্যা সমাধানে বিশেষ ভূমিকা রাখে।

 

মাশরুম

সেলেনিয়ামের অভাব হাইপোথাইরয়েডিজমের আরো একটি অন্যতম কারন। তাই উচ্চ মাত্রার সেলেনিয়াম সমৃদ্ধ মাশরুম যদি নিয়মিত খাওয়া হয় তাহলে হাইপোথাইরয়েডিজমের ঝুকি কমানো সম্ভব।

 

হলুদ

হলুদের প্রদাহবিরোধী গুনাগুন এবং এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের কথা প্রথমেই বলতে হচ্ছে। এই মশলাটির রয়েছে অসাধারণ রোগ নিরাময় মূলক গুনাবলি। প্রদাহ নিরাময়, টিউমারের বৃদ্ধি কমানো এবং লিভারের বিষাক্ততা দূর করতে সাহায্য করে এই হলুদ। সুস্থ লিভার সঠিক ভাবে থাইরয়েডের হরমোনের রুপান্তরে সাহায্য করে।

 

কলিজা

কলিজা হচ্ছে থাইরয়েড হরমোনের জন্য সুপার ফুড। এটি অনেকটা প্রাকৃতিক মাল্টি ভিটামিনের মত। এতে থাকে ভিটামিন এ, বি, ডি, আয়রন, জিংক এবং প্রোটিন যা থাইরয়েড হরমোনের সঠিকভাবে কাজ করার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

 

 

লেখিকা

শওকত আরা সাঈদা(লোপা)

জনস্বাস্থ্য পুষ্টিবিদ

এক্স ডায়েটিশিয়ান,পারসোনা হেল্‌থ

খাদ্য ও পুষ্টিবিজ্ঞান(স্নাতকোত্তর)(এমপিএইচ)

মেলাক্কা সিটি, মালয়েশিয়া

 

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top