জেনে নিন দ্রুত ওজন বাড়ানোর কিছু কৌশল!

পত্রিকা, ওয়েব পোর্টাল, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ- সবকিছুই যেন সবসময় কী করে মানুষের ওজন কমানো যায়, সেই হিসেব কষতেই ব্যস্ত। কিন্তু হিসেবটা তো উল্টোও হতে পারে! পৃথিবীর অনেক মানুষই অতিরিক্ত ওজনের যন্ত্রণায় ভুগলেও যথেষ্ট ওজন নেই এমন রুগ্ন মানুষের সংখ্যাও কম না। আর আপনি যদি তাদেরই দলের একজন হন, তাহলে এই পরামর্শগুলো আপনার জন্যেই। জেনে নিন মাত্র কয়েকদিনেই ওজন বাড়িয়ে ফেলার চমত্কার কিছু কৌশল।

 

১. ক্ষুধা তৈরি করা

ওজন বাড়ানোর প্রথম শর্ত হচ্ছে সঠিক পরিমাণে আর খানিকটা অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়া-দাওয়া করা। এজন্যে প্রথমেই নিজের ভেতরে ক্ষুধাবোধ তৈরি করাটা হবে আপনার অন্যতম কাজ। কিন্তু কী করে তৈরি করবেন এ ক্ষুধাবোধ? প্রতিদিন ৮-৯ ঘন্টা ঘুমান। ঘুম থেকে ওঠার পর শরীরকে আর দশজনার শরীরের মতনই শুয়ে বসে না রেখে কাজে লাগান। দৈনন্দিন কাজই করুন আর কিছু করার না থাকলে। এতে আপনার ক্লান্ত লাগবে, ক্ষুধাবোধ হবে। ইন্ডিয়া টাইমস অনুসারে, ওজন বাড়াতে হলে সঠিক খাবার বড় পরিমাণে গ্রহন করার জন্যে নিজের ভেতরে ভালো রকমের ক্ষুধাবোধ তৈরি করাটা খুবই গুরুত্বপূর্ন। আর এক্ষেত্রে ধুমপান না করাটাই শ্রেয়। কারণ এটি মানুষের ক্ষুধাবোধ কমিয়ে দেয়।

 

২. স্বাস্থ্যসম্মত ক্যালোরি গ্রহন

ক্যালোরির দুটো ধরন হয়। একটি স্বাস্থ্যসম্মত। অন্যটি অস্বাস্থ্যকর। অনেকে দ্রুত ওজন বাড়ানোর জন্যে প্রচুর পরিমাণ ফাস্ট ফুড খেতে শুরু করেন। কিন্তু সত্যি বলতে কি ওটা আপনার শরীরের ওজন বাড়াবার চাইতে আরো দ্রুত ক্ষতি করে বেশি। আর তাই কেবল সেই ক্যালোরিগুলোই নিন যেগুলো স্বাস্থ্যসম্মত। বাদাম, সব্জি, মুরগী, মাছ, ডিম, দুধ, আলু ভর্তা, কলা, প্রাণীস্নেহ, মাখন,খাদ্যশস্য, মাখন, মিষ্টি আর প্রচুর পরিমাণ পানি পান করুন। কিছু না কিছু খেতে থাকুন দিনের পুরোটা সময় জুড়ে।

 

৩. শরীরচর্চা করা

ফিটনেস এক্সপার্ট জিভেশ শেঠী জানান- “ ওজন বাড়ানো বলতে মূলত ক্যালোরি খরচের চাইতে গ্রহনের পরিমাণ বেশি হওয়াকে বোঝায়। “ ( ইন্ডিয়া টাইমস ) । আর তাই অতিরিক্ত শরীরচর্চা না করাটাই ভালো এক্ষেত্রে। তবে বিশেষজ্ঞ অর্ণব সরকার জানান- “ওজন প্রশিক্ষণ ওজন বাড়ানোর সেরা উপায়।” আর এজন্যে তিনি ছোটখাটো শরীরচর্চা যেমন- স্কোয়াট, ডেডলিফটস, বারবেল রো, বেঞ্চ প্রেসেস, ওভারহেড প্রেসেসের কথা উল্লেখ করেন।

 

৪. সাত দিনের কৌশল

ওনলি মাই হেলথ অনুযায়ী, এই ডায়েট প্ল্যানটি অনুসরণ করলে সাতদিন পর গিয়ে আটদিনের মাথায় আপনি নিজের ভিতরে অবশ্যই কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন দেখতে পাবেন। আর প্ল্যানটি হচ্ছে-

-রাতের বেলা ঘুমোতে যাওয়ার সময় ১০ টি আমন্ড পানিতে ভিজিয়ে রাখুন আর দিনের শুরু করুন সেটা চিবিয়েই। সকালের নাশতায় পাকা কলার জ্যুস পান করুন এক গ্লাস। সাথে রাখুন পর্যাপ্ত সব্জি ওটস , দুই টুকরো রুটি আর মুরগীর মাংস।

-সকালের নাশতা আর দুপুরের খাবারের মাঝামাঝি একটা পুরো ফল খান আপনার পছন্দমতন। সাথে পানীয় হিসেবে লাচ্ছি কিংবা ডাবের পানি পান করুন।

-দুপুরের খাবারে ২ থেকে ৩ টি চাপাতি অথবা সমপরিমাণ ক্যালোরির ভাত আর সাথে এক বাটি সব্জি, পনির আর দই খাওয়ার চেষ্টা করুন।

-বিকেলের নাশতায় কলার জুস, ২ টি বিস্কুট আর একটা স্যান্ডউইচ খান।

-রাতের খাবারে ২ থেকে ৩ টি চাপাতি কিংবা সমপরিমাণ ক্যালোরিযুক্ত ভাত, এক বাটি সব্জি, ডাল এবং দই অথবা মিষ্টিজাতীয় কিছু খান।

-ঘুমোবার ঠিক আগে আগে এক গ্লাস দুধে এক চিমটি হলুদ কিংবা এক টেবিল চামচ মধু মিশিয়ে পান করুন।

-খাবারের এই পরিকল্পনার সাথে যোগ করুন পর্যাপ্ত পানি পান করা আর ঘুমোবার অভ্যাস। অতিরিক্ত শরীরচর্চাও বন্ধ করুন। দেখুন কতটা দ্রুত কাজে লাগে এই কৌশলটি। তাও মাত্র সাত দিনে।

 

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top