দেহের অতিরিক্ত লবণ কমাবে যে খাবারগুলো

লবণ আমাদের খাবারের একটি মৌলিক উপাদান। এটা খাবারের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে স্বাদ বাড়াতে সাহায্য করে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে খাবারে কখনোই খুব বেশি লবণ যোগ ঠিক না কারণ এটা বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার সৃষ্টি করে। সাধারণত আমাদের দেহের তরলের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে খুব কম পরিমান লবণই প্রয়োজন।

তাই যদি খাবারের মাঝে বেশি পরিমান লবণ দেয়া হয় তাহলে রক্তনালীতে বেশি পরিমান তরল জমা হবে। এই অতিরিক্ত তরল ধমনীতে রক্তের পরিমান বাড়িয়ে দেয় যার ফলে উচ্চ রক্তচাপ হয়।আর উচ্চ রক্তচাপ সনাক্ত হওয়া মানেই বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যা যেমন হৃদরোগ, স্ট্রোক, প্রেসারের সমস্যা, স্থূলতা ইত্যাদিকে স্বাগত জানানো। তাই সবচেয়ে ভালো হয় যে লবণ খাওয়ার পরিমান কমিয়ে দেয়া আর চেষ্টা করা দেহের অতিরিক্ত লবণ বের করে দেয়ার।

এখানে কিছু স্বাস্থ্যসম্মত এবং ভালো খাবারের কথা উল্লেখ করা হচ্ছে যা দেহ থেকে অতিরিক্ত লবণ বের করে দিতে সাহায্য করবে-

মটরশুঁটি

যদি দেহে লবণের পরিমান বেশি হয় তাহলে প্রোটিন জাতীয় খাবার প্রতিদিনের খাবার তালিকায় রাখুন। আর মটরশুঁটিতে থাকা প্রোটিনের মাত্রা ১০% পর্যন্ত লবণের মাত্রা কমাতে পারে।

দই

দেহের অতিরিক্ত লবণের পরিমাণ কমানোর আরো একটি উপায় হলো দই খাওয়া। দইও প্রোটিনের একটি ভালো উৎস। তাই এটি দেহের অতিরিক্ত লবণের পরিমান কমাতে সাহায্য করে।

মাছ

৩ আউন্স মাছ সাধারণত পটাসিয়ামের দৈনিক চাহিদার ১০% পূরণ করতে পারে যা দেহের অতিরিক্ত লবণের পরিমাণ কমাতে পারে। তবে অবশ্যই স্যামন এবং টুনামাছ ছাড়া।

বেক করা আলু

উচ্চ পটাসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার যেমন খোসাসহ বেক করা আলু দেহের অতিরিক্ত লবণের পরিমাণ কমাতে পারে। কারণ মধ্যম আকৃতির বেক করা আলু পটাসিয়ামের দৈনিক চাহিদার ২৬% পূরণ করতে সক্ষম।

কিশমিশ

শুকনো ফল পটাসিয়ামের ঘনীভূত উৎস। তাই দেহের অতিরিক্ত লবণের পরিমান কমাতে কিশমিশ খাবার তালিকায় যুক্ত করতে পারেন। তবে যাদের দেহের ওজন বেশি তাদের জন্য এটা প্রযোজ্য নয়।

অ্যাপ্রিকট

শুকনো অ্যাপ্রিকটও ঘনীভূত পটাসিয়ামের বেশ ভালো একটি উৎস যা দেহের অতিরিক্ত লবণ কমাতে সাহায্য করে। যদি রক্তচাপ বেশি থাকে তাহলে একটি শুকনো অ্যাপ্রিকট চিবিয়ে খান।

কলা

বেশ কিছু ফল রয়েছে যা থেকে উচ্চ মাত্রা পটাসিয়াম পাওয়া সম্ভব। যার মাঝে কলা অন্যতম। এছাড়া অ্যাভোকাডো, কমলার জুস ইত্যাদিও পান করতে পারেন যখন রক্তচাপ বেশি থাকে। এগুলো রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে।

উচ্চ আঁশযুক্ত খাবার

বেশ কিছু খাবার যেমন ওটস, ভুষিসহ গমের আটার রুটি, সবজি ইত্যাদিও দেহের অতিরিক্ত লবণ কমানোর ক্ষমতা রাখে। এসব খাবারের উচ্চ মাত্রার আঁশ লবণের পরিমান কমাতে সাহায্য করে আর এভাবে বিপাকক্রিয়া হারও বাড়ানো সম্ভব।

কিছু মশলা

প্রতিদিনের খাবারে কিছু উপকারি মশলা যেমন হলুদ, আদা, রসুন, গোল মরিচ, জিরা ইত্যাদি যোগ করুন যা দেহের লবণের পরিমান কমানোর সাথে সাথে বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা সমাধানেও সাহায্য করবে। কারণ এসব উপকারি মশলা উচ্চ রক্তচাপ এবং হৃদরোগের জন্য বেশ উপকারি।

লবণ বাদ দেয়া

যখন দেহে লবণের পরিমাণ অতিরিক্ত বেড়ে যায় তখন যদি খাবারে লবণ যোগ করা বাদ দেয়া যায় তাহলে সেটা খুবই উপকারি। যদিও কাজ টা বেশ কঠিন। তবে সবারই উচিত ধীরে ধীরে খাবারে লবণের পরিমান কমিয়ে আনা। সময় নিয়ে কমিয়ে আনলে ধীরে ধীরে অভ্যাস হয়ে যায়।

সতর্কতা- তবে যাদের কিডনির সমস্যা রয়েছে তারা অবশ্যই উচ্চ পটাসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খাবেননা।

 

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top