ঝেড়ে ফেলুন শরীর থেকে অতিরিক্ত ঘামকে!

সাধারণত খুব বেশি গরম লাগলে, দৌড়াদৌড়ি করলে কিংবা গ্রীষ্মকালে ঘেমে যাওয়াটা খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার। কিন্তু একটু খেয়াল করে দেখুন তো, আর দশজনার চাইতে যথাযথ কোন কারণ ছাড়াই একটু কি বেশিই ঘামছে আপনার শরীর? গরমকাল তো বটেই, শীতকালেও কি পিছু ছাড়ছে না আপনার চিটচিটে ঘামের যন্ত্রণা? তাহলে আর কিছু নয়, বরং হাইপারহাইড্রোসিসে ভুগছেন আপনি।

খটমটে নামটা শুনে ঘাবড়ে গেলেন বুঝি? একদমই ঘাবড়াবেন না। কারণ নামটা খটমটে হলেও সিক্ততায় পরিপূর্ণ এই যন্ত্রণাটি খুব বেশি কঠিন কোন কিছু নয়। খুব সহজেই কিছু উপায় অবলম্বন করে কিংবা ঘরে বসেই দূর করে ফেলতে পারেন আপনি আপনার জীবন থেকে এই হাইপারহাইড্রোসিসের ঝামেলা। তবে সেটা করার আগে চলুন জেনে আসি কি এই হাইপারহাইড্রোসিস।

কোনরকম সঙ্গত কারণ ছাড়াই কিংবা একটু মানসিক চাপ বা গরমেই ঘেমে নেয়ে একাকার হয়ে যাওয়ার প্রবণতার নাম হচ্ছে হাইপারহাইড্রোসিস। মূলত এই রোগটি দিই ধরনের হয়ে থাকে। প্রাথমিক হাইপারহাইড্রোসিস এবং সেকেন্ডারি হাইপারহাইড্রোসিস। প্রাথমিক হাইপারহাইড্রোসিসের বেলায় শরীরের বিশেষ কিছু অংশ, যেমন- হাত ও পায়ের তালু, বগল, মাথা কিংবা মুখ ঘেমে থাকে ব্যাক্তিভেদে। কিন্তু পরের হাইপারহাইড্রোসিসের বেলায় কোন বিশেষ অংশ নয়, বরং ঘামতে থাকে রোগীর পুরো শরীরটাই।

প্রাথমিক হাইপারহাইড্রোসিসকে সাধারণত রোগ হিসেবে দেখা হয়না। তবে পুরো শরীর ঘেমে যাওয়ার প্রবণতা থাকলে চিকিৎসকেরা শারিরীক নানা সমস্যাকে এর জন্যে দায়ী করে থাকেন। আর সমস্যাগুলো হল-

১. থাইরয়েডের সমস্যা

২. বহুমূত্র

৩. গর্ভাবস্থা

৪. রক্তচাপ, মুখের শুষ্কতার অষুধ ও অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ

৫. হতাশা

৬. ক্যান্সার

৭. স্ট্রোক

৮. হার্ট ফেইলিওর ইত্যাদি।

তবে যতটা সমস্যাপূর্ণ ব্যাপারই হোকনা কেন, প্রাথমিক বা দ্বিতীয় ধাপ- দুটোর প্রত্যেকটিকেই নিয়ন্ত্রণে আনতে পারবেন আপনি ইচ্ছে করলে। আসুন জেনে নিই কি করে।

১. ঘাম প্রতিরোধকারী দ্রব্য ব্যবহার

বাজারে লোশন, ক্রিম বা স্প্রের মতন কিছু দ্রব্য পাওয়া যায় যেগুলো খুব সহজেই বন্ধ করে দিতে পারে আপনার জীবনের অন্যতম সমস্যা এই অতিরিক্ত ঘামকে ( টেলিগ্রাফ )। তবে এটা প্রাথমিক পর্যায়ের জন্যেই। খুব অতিরিক্ত ঘাম হলে অবশ্য বেশি একটা কাজ করেনা পণ্যগুলো।

২. চিকিৎসা পণ্য

বোটক্স ব্যবহার করে অনেকে শরীরের অতিরিক্ত ঘাম প্রতিরোধ করেন ( প্রিভেনশন. কম )। কেউবা ব্যবহার করেন এক ধরনের বিশেষ আলোকে। যেটা শরীরের ত্বককে ঘাম উৎপন্ন করতে খানিকটা হলেও প্রতিরোধ করে। তবে এ ক্ষেত্রে আপনি আরো সাহায্য নিতে পারেন ঘাম প্রতিরোধকারী ওষুধের। অ্যান্টিকোলিনারগিকস নামে পরিচিত এই অষুধগুলোকে খুঁজলেই আপনি পেয়ে যাবেন নিকটস্থ চিকিৎসালয়ে। তবে মাঝে মাঝে এ ধরনের অষুধ সেবন মুখের শুষ্কতা বৃদ্ধি করার মতন কিছু বাজে ব্যাপারের জন্ম দিতে পারে।

৩. ভিনেগার

দুই চা চামচ ভিনেগারের সাথে দুই চা চামচ আপেল সাইডার ভিনেগার মিশিয়ে সেটা প্রতিদিন খাওয়ার আগে একবার আর পরে একবার করে পান করুন ( হেলথ ইজ রাইট )। একদিনে মোট তিনবার পান করুন প্রাকৃতিক এই ঘামনিরোধক জিনিসটি। এছাড়াও বগলের ঘাম ও তার দূর্গন্ধকে তাড়াতে চাইলে খানিকটা ভিনেগার তুলোয় মিশিয়ে সেখানে লাগান। বেশ ভালো ফল পাবেন। চাইলে টমেটোর জুসও বানিয়ে পান করতে পারেন। এটিও খুব ভালো কাজ দেয় ঘাম প্রতিরোধে।

৪. আলু

এটি দ্বিতীয় ও অত্যন্ত বেশি পরিমাণে ঘেমে যাওয়া মানুষের জন্যে নয়। বরং প্রাথমিক হাইপারহাইড্রোসিসে ভোগা মানুষেরা নিজেদের অতিরিক্ত ঘামা স্থানগুলোতে আলু বা আলুর রস লাগিয়ে নিলে সেটি খুব ভালোভাবে এবং একদমই ঘরোয়াভাবে অতিরিক্ত ঘাম নামের ঝামেলাটিকে কমিয়ে ফেলতে সাহায্য করে ( হেলথ ইজ রাইট )।

৫. গ্রিন টি

পরীক্ষিতভাবে সত্যি যে, গ্রিন টি শরীরের ঘামকে দ্রুত প্রতিরোধ করতে পারে। সবুজ চা তৈরি করে সেটাকে ঠান্ডা হতে দিন এবং পান করুন। প্রতিদিন এই পানীয়টি গ্রহণ করলে আপনার ঘামের প্রবণতা খুব সহজেই কমে যাবে। কারণ, সবুজ চাতে থাকে ভিটামিন বি আর ম্যাগনেশিয়াম ( হেলথ ইজ রাইট ), যেটি কিনা শরীরের ঘামের গ্রন্থীগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করে আর কমিয়ে দেয় ঘামকে।

 

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top