ওজন কমাতে চাইলে রান্নাঘরের এই অভ্যাসগুলো গড়ে তুলুন অবশ্যই

রান্নাঘর শুধু খাবার তৈরির জায়গাই নয়, বরং এখানে কিছু অভ্যাসের চর্চা করলে সেগুলোই ঠিক করে দেবে আপনার স্বাস্থ্য ভালো থাকবে নাকি খারাপ। বিশেষ করে যারা ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে চান তাদের জন্য রান্নাঘরের এসব অভ্যাস খুবই গুরুত্বপূর্ণ। খাবারের পরিমাণ থেকে শুরু করে খাবার রান্না এবং ফ্রিজে তুলে রাখা পর্যন্ত স্বাস্থ্যকর কিছু অভ্যাস আপনার অনেক উপকারে আসতে পারে। দেখে নিন স্বাস্থ্যের জন্য কার্যকরী কিছু টিপস।

১) ক্ষুধা লাগলে যেন হাতের কাছে ফল ও সবজি পাওয়া যায় সে ব্যবস্থা করুন। আমরা সাধারণত ক্ষুধা লাগলে এক প্যাকেট চিপস অথবা বিস্কুটের দিকে হাত বাড়াই কারণ এটা একেবারেই রেডি মেইড। কিন্তু ফল বা সবজি খাওয়ার জন্য সেটাকে ধুতে হবে, খোসা ছাড়াতে হবে, কাটতে হবে এমনকি লবণ বা মশলা মাখাতে হবে। এতো কাজ করতে হবে সেই ভয়েই অনেকে খান না ফল ও সবজি। কিন্তু আপনি যদি আগে থেকেই ফল ও সবজি কেটেকুটে বাক্সে পুরে ফ্রিজে রেখে দেন তাহলে ক্ষুধা পেলে সেটাকে বের করে খেয়ে নিলেই হলো।এমনভাবে প্রসেস করে রাখুন ফল ও সবজি যাতে চিপসের মতো সহজেই তাকে খাওয়া যায়।

২) মেজারিং কাপ এবং স্পুন রান্নাঘরে এমন জায়গায় রাখুন যাতে দরকারের সময়েই ব্যবহার করা যায়। পরিমাণমত না খাওয়ার কারণেই বেশীরভাগ মানুষ ওজন কমাতে পারে না। হাতের কাছে রাখলে এগুলো ব্যবহার করতে আপনি ভুলে যাবেন না এবং ওজন নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারটাও আপনার মাথায় থাকবে।

৩) আগে থেকেই তৈরি করে রাখুন কিছু স্ন্যাক্স। আপনি ডায়েট করুন আর না করুন, দিনে দুই-একবার স্ন্যাক খাওয়ার প্রয়োজন হতে পারে এবং এ সময়ে অনেকেই পুরো এক প্যাকেট চিপস অথবা বিস্কুট খেয়ে ফেলেন। এই কাজটা যেন করতে না হয়, তার জন্য আগে থেকেই কিছু স্ন্যাক্সের প্যাকেট আলাদা করে রাখুন এবং মেপে মেপে ১০০ বা ১৫০ ক্যালোরি পরিমাণে পপকর্ন, বাদাম এবং ফলের মিশ্রণ করে রাখতে পারেন। একেকটা প্যাকেট বা বক্স শেষ করে ফেললে স্ন্যাক্স খাওয়াও হবে আর বেশি ক্যালোরিও গ্রহণ করা হবে না।

৪) আপনার ফ্রিজার থাকলে ফল ও সবজি ফ্রিজ করে রাখুন। পাইকারি হারে ফল ও সবজি কিনে তা ফ্রিজারে জমিয়ে রাখতে পারেন। এতে একদিন দিয়ে টাকা খরচ কম হবে। আবার সঠিক উপায়ে ফ্রিজ করলে আপনি দরকারের সময়ে শুধু বের করে নিয়ে খাবার তৈরিতে ব্যবহার করতে পারেন।

৫) আপনি যদি স্মুদি পান করে থাকেন, তবে আপনি নিশ্চয়ই জানেন স্বাস্থ্যকর স্মুদি তৈরি করা কতো ঝামেলার ব্যাপার। অনেকগুলো উপকরণ আলাদা করে মেপে নিয়ে তারপর স্মুদি তৈরি করতে হয়। এক্ষেত্রে সময় বাঁচাতে দুটো কাজ করতে পারেন। স্মুদি তৈরি করে সেগুলোকে মাফিন বা কাপকেক টিনে জমিতে নিতে পারেন ফ্রিজারে রেখে, এরপর এগুলোকে আবার প্লাস্টিক ব্যাগ অথবা বক্সে সংরক্ষণ করতে পারেন। দরকারের সময়ে দুই তিনটা জমানো স্মুদির বরফ ব্লেন্ড করে নেবেন। অথব একগ্লাস স্মুদি তৈরির সব উপকরণ মেপে একসাথে একটা ব্যাগ বা বক্সে ফ্রিজে রেখে দিতে পারেন এবং দরকারের সময়ে শুধু ব্লেন্ড করে নিতে পারেন।

৬) অস্বাস্থ্যকর খাবার বাড়িতে রাখবেন না। হয়তোবা আপনি ভাবছেন আপনার বাচ্চা খেতে চাইতে পারে, এই জন্য এক প্যাকেট চকলেট বা চিপস রাখা হয়েছে কোনো কৌটায়। কিন্তু ক্ষুধা লাগলে দেখা যাচ্ছে আপনিই সেটা খেয়ে ফেললেন। এতে আপনারই ক্ষতি। নিজে খাওয়ার পাশপাশি বাচ্চাদেরকে এবং পরিবারের অন্যদেরকেও স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে অনুপ্রাণিত করুন। বাসা থেকে সরিয়ে ফেলুন অসব অস্বাস্থ্যকর খাবার।

৭) ছোট আকৃতির প্লেট ব্যবহার করুন। আমরা বাঙালিরা সব সময় প্লেট ভরে ভাত খেতে স্বাসচ্ছন্দ্যবোধ করি। সুতরাং প্লেটের আকৃতি ছোট হলে আপনার খাওয়ার পরিমাণও কম হবে বলে ধরে নেওয়া যায়।

৮) বাড়তি খাবার উঠিয়ে রাখুন খাওয়া শুরু করার আগেই। আপনার যতটুকু খাওয়ার কথা, ততটুকু খাবার প্লেটে নিয়ে বাকি খাবারটা ফ্রিজে রাখুন বা বক্সে আটকে রেখে দিন। নয়তো আপনার আরও খেতে ইচ্ছে করবে।

৯) প্লাস্টিক বা কাঁচের জারে লাঞ্চ তৈরি করে রাখুন। এটা হতে পারে ওটমিল অথবা সালাদ। এতে বাইরে খাওয়ার ইচ্ছেটাকে দমন করতে পারবেন।

 

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top