যে ৪টি খাদ্য “ফুড অ্যাডিকশন” তৈরি করে

বেশির ভাগ মানুষই এমন অনেক খাবার খেয়ে থাকেন যা তাদের খাওয়া উচিত নয়। Natural  Gourmet  Institute  এর  প্রতিষ্ঠাতাও ন্যাচারাল হেলথ এবং হোলিস্টিক মেডিসিনের অধ্যাপক ও প্রখ্যাত লেখক Annemarie  Colbin   এর মতে, কিছু ক্ষুধা বা তীব্র আকাঙ্ক্ষার প্রতি আমাদের সাড়া দিতে হবে। এটা হচ্ছে আমাদের শরীরের একটি সংকেত, কারণ শারীরিক কাজ গুলো সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য পুষ্টির প্রয়োজন হয়। আমরা প্রায়ই আমাদের শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় নয় বরং ক্ষতিকর এমন কিছু খাদ্যের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ি। খাদ্যের প্রতি আসক্তি সৃষ্টি করতে সাহায্য করে যে উপাদান গুলো তা হল চিনি, ময়দা, চকলেট, কফি এবং অ্যালকোহল। এগুলো শরীরে বেশি মাত্রায় প্রবেশ করলে অস্বস্তিকর মাথা ব্যথা, খাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা, বিষণ্ণতা ও দুশ্চিন্তা ইত্যাদি সমস্যাগুলো সৃষ্টি হয়। এই আসক্তি থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য আপনাকে সচেতন ভাবে প্রচেষ্টা চালাতে হবে। সবচাইতে বেশি আসক্তি সৃষ্টিকারী খাদ্য ও এই আসক্তিকে দমন করার উপায় গুলো জেনে নিই আসুন।

১। ফ্রেঞ্চ ফ্রাইস

কেন আপনি এর প্রতি আসক্ত হন : আলুর গ্লিসামিক ইন্ডেক্স অনেক বেশি। আলু খুব দ্রুত রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বৃদ্ধি করে। আলু মস্তিষ্কের রিওয়ার্ড সেন্টার বা পুরষ্কার কেন্দ্রকে উদ্দীপিত করে। আপনি বড় এক প্লেট ফ্রেঞ্চ ফ্রাই খাওয়ার পর আরো ক্ষেতে চান। ক্যান্ডি বার ও উচ্চ গ্লিসামিক ইন্ডেক্স যুক্ত খাবার। যখন হঠাৎ করেই রক্তে চিনির মাত্রা বেরে যায় তখন আপনার অগ্নাশয়কে অতিরিক্ত ইনসুলিন নিঃসরণের জন্য বেশি কাজ করতে হয়। ইনসুলিন তখন জেগে উঠে এবং রক্ত থেকে চিনিকে শরীরের বিভিন্ন কোষে পরিবহন করে নিয়ে যায়। উচ্চ গ্লিসামিক খাদ্য খাওয়ার এক ঘন্টার মধ্যে ইনসুলিন এই কাজটি সম্পন্ন করে ফেলে, এর ফলে রক্তের সুগার লেভেল কমে যায়। তাই আপনি মাত্র এক ঘন্টা আগে খাওয়ার পরও ক্ষুধা অনুভব করেন।

ফ্রেঞ্চ ফ্রাই দারুণ মজা, কারণ এতে প্রচুর লবণ থাকে। চিনির মতই লবণ ও মস্তিষ্কের  স্টিমুলেট রিসেপ্টর যা এই বার্তা বহন করে যা, “হুম, এই খাবারটি মজা”।

কীভাবে এই চক্র থেকে বেড়িয়ে আসবেন : আলু খোসাসহ খান। খোসায় যে অতিরিক্ত ফাইবার থাকে তা হজমে সময় লাগে এবং রক্তের সুগার লেভেলের ভারসাম্য রক্ষা হয়। সবচেয়ে ভালো হয়, সাদা আলুর পরিবর্তে মিষ্টি আলু খান। এতে গ্লিসামিক ইনডেক্স কম থাকে এবং উচ্চমাত্রার মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট থাকে। লবণ যোগ করার পরিবর্তে মসলা ও সবজি দ্বারা স্বাদ বৃদ্ধি করুন।

২। পিজা

কেন আপনি এর প্রতি আসক্ত হন : পিজা প্রক্রিয়াজাত খাবার। প্রক্রিয়াজাত শস্যের গ্লিসামিক ইন্ডেক্স অনেক বেশি থাকে। যে প্রক্রিয়ায় শস্যকে তুষ ও জীবাণু মুক্ত করা হয় তার ফলে শস্যের ত্বক হজমের জন্য সহজ হয় এবং এর ফলে ব্লাড সুগার লেভেল বৃদ্ধি পায়।

কীভাবে এই চক্র থেকে বেড়িয়ে আসবেন : ১০০% আস্ত শস্যদানার খসা দিয়ে তৈরি পিজা বা স্টার্চ দিয়ে তৈরি পিজা যে সমস্ত রেস্টুরেন্ট সরবরাহ করে, কেবল তাদের কাছ থেকে পিজা খান। আপনি বিশেষ ভাবে অর্ডার দিয়ে তৈরি করে নিতে পারেন এবং এটা তৈরিতে স্বাস্থ্যকর উপাদান যেমন- ফুলকপি ব্যবহার করতে পারেন। এবং প্রচুর সবজি যোগ করুন।

৩। আইসক্রিম

কেন আপনি এর প্রতি আসক্ত হন : আইসক্রিমের ক্রিম আমাদের মস্তিষ্কে সন্তুষ্টির বার্তা পাঠায়। এটা রক্তে চিনির পরিমাণ ও বৃদ্ধি করে।

কীভাবে এই চক্র থেকে বেড়িয়ে আসবেন : প্রাণীজ চর্বির পরিবর্তে উদ্ভিজ চর্বি গ্রহণ করুন। অ্যাভোকাডো ও অলিভ অয়েল উদ্ভিজ চর্বি চমৎকার উৎস। লো ফ্যাট আইসক্রিমের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকুন। কারণ অনেক প্রস্তুতকারকই ফ্যাট এর পরিবর্তে অনেক বেশি চিনি ও অ্যাডেটিবস যোগ করে থাকে।

৪। কোমল পানীয়

কেন আপনি এর প্রতি আসক্ত হন : কোমল পানীয় ও সোডাতে যে চিনি থাকে তা আমাদের মস্তিষ্কে রিওয়ার্ড সিস্টেমকে উদ্দীপিত করে। এবং সময়ের সাথে সাথে এই পর্যায়ের সন্তুষ্টি লাভের জন্য আপনাকে আরো বেশি পরিমাণে পানীয় পান করতে হয়। বিবেচনা করে দেখুন যে, ১২ আউন্স সোডায় ১২ টেবিল চামচ চিনি থাকে যা আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন নির্ধারিত দৈনিক চিনি গ্রহণের মাত্রাকে ছাড়িয়ে যায়। কৃত্তিম মিষ্টি কারকের মধ্যে চিনির চেয়ে বেশি মিষ্টি উপাদান থাকে। এরা মিষ্টির প্রতি আসক্তিকে আরো উৎসাহিত করে।

কীভাবে এই চক্র থেকে বেড়িয়ে আসবেন : কার্বোনেটেড ড্রিঙ্কের পরিবর্তে পানি পান করুন। চা বা কফিতে চিনি যোগ করা বাদ দিন।

২০% মানুষ ফুড অ্যাডিকশন ভুগছেন। স্থূল ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই অনুপাত আরো অনেক বেশি। ড্রাগ এডিক্টরা যেমন ড্রাগের প্রতি আসক্ত থাকে তেমনি ফুড এডিক্টরাও খাদ্যের প্রতি আসক্ত থাকে।

সবশেষে এটাই বলা যায় যে, আপনার খাদ্যের প্রতি আসক্তিকে দমানোর জন্য প্রসেসড ফুড এড়িয়ে চলুন। গ্লিসামিক ইনডেক্স কম এমন আস্ত খাবার খান যা আপনাকে ফ্যাট, চিনি ও লবণ গ্রহণের মাত্রা কমাতে সাহায্য করবে।

 

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top