সিজনাল অ্যালার্জি থেকে রেহাই পাওয়ার উপায়

চোখ টলমল করা, চুলকানো এবং হাঁচি আসা কিন্তু হাঁচি না দিতে পারা ইত্যাদি উপসর্গগুলো সিজনাল অ্যালার্জি হলে দেখা যায়। এসব মজা করার মত কোন বিষয় না। গবেষণায় দেখা যায় যে, এই বিরক্তকর উপসর্গগুলো ছাড়াও কারো কারো ক্ষেত্রে ক্লান্তি ও বিমর্ষতায় ভুগতেও দেখা যায়। অ্যালার্জি সৃষ্টিকারী পরাগ রেণু যখন আমাদের নাসিকা পথের রিসেপ্টরে এসে বসে তখন শরীরকে হিস্টামিন নিঃসরণের জন্য সতর্ক করে। আমাদের শরীরে হিস্টামিন প্রাকৃতিকভাবেই উৎপন্ন হয়।

শরীরে অবাঞ্ছিত কোন আগন্তকের প্রবেশ থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য সিরিজ আকারে প্রতিক্রিয়া শুরু করে হিস্টামিন। সমস্যা সৃষ্টি হয় তখন যখন অ ক্ষতিকর পদার্থের বিরুদ্ধে শরীর অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়াশীল হয়ে যায়। এর ফলশ্রুতিতেই চোখে অনবরত চুলকানি ও নাক দিয়ে পানি পড়া বা সর্দি শুরু হয়। কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এই প্রতিক্রিয়া ক্রমবর্ধমান ও বিরক্তিকর হয়ে উঠে এবং কিছু মানুষের ক্ষেত্রে শ্বাস কষ্টের সমস্যা হতেও দেখা যায়। আসুন আমরা এমন কিছু পন্থা জেনে নেই যা দ্বারা সিজনাল অ্যালার্জিকে দমন করা যায় ঔষধের ব্যবহার ছাড়াই।

১। নাক ধোয়া বা নেটি পট ব্যবহার করা

নেটি পট ব্যবহার এর কথা আগেও আমরা জেনেছি। নেটি পট দিয়ে নাক ধুয়ে ফেললে অ্যালার্জি সৃষ্টিকারী উপাদান চলে যায়। International Archives of Allergy  and Immunology  তে প্রকাশিত Italian  গবেষকদের একটি গবেষণা পত্রে পাওয়া যায় যে, শিশুদের সিজনাল অ্যালার্জির চিকিৎসায় নাসিকা পথ পরিপূর্ণ ভাবে পরিষ্কার করা একটি হালকা ও কার্যকরী পন্থা। এর ফলে অ্যান্টি হিস্টামিন ব্যবহারের পরিমাণও লক্ষণীয় ভাবে কমে আসে। সিজনাল অ্যালার্জির সময় দিনে দুইবার নেটি পট ব্যবহার বিশেষত সকালে এবং বাইরে থেকে ফিরে নেটি পট ব্যবহার করে নাক পরিষ্কার করুন। নেটি পট ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বন করুন। প্রথমবার ব্যবহারের সময় কিছুটা অদ্ভুত লাগতে পারে।

২। স্থানীয় কাঁচা মধু

সিজনাল অ্যালার্জি প্রতিকারে সবচাইতে কার্যকরী ও জনপ্রিয় উপাদান হচ্ছে স্থানীয় কাঁচা মধু। এটি ব্যবহারের ফলে অনেকদিন পর্যন্ত অ্যালার্জির সমস্যা হ্রাস করে থাকে। আপনি যদি জানেন কি কারণে অ্যালার্জি হয় তাহলে নির্দিষ্ট উদ্ভিদ উৎস থেকে সংগৃহীত মধু খেলে আপনার শরীরের সহনশীলতা বা সহ্য শক্তি তৈরি হয়। আপনার জন্য কোন মধুটি উপযুক্ত তা আপনি পরীক্ষা করে নির্ধারণ করুন। আপনার এলাকার মার্কেটের মধু চাষিদের সাথে যোগাযোগ করে নির্দিষ্ট উৎসের মধু সংগ্রহ করতে পারেন।

৩। কোয়ারসেটিন

কোয়ারসেটিন এমন একটি অ্যান্টি অক্সিডেন্ট যা ফ্ল্যাভনয়েডের মধ্যে থাকে। লাল, সাদা বা মিষ্টি পেঁয়াজ, আপেল, জাম জাতীয় ফল, সবুজ শাক এবং এমনকি গ্রিনটিতেও ফ্ল্যাভনয়েড থাকে। কোয়ারসেটিন হিস্টামিন নিঃসৃতকারী মাস্ট কোষকে স্থির করে হিস্টামিন নিঃসরণ বন্ধ করতে সাহায্য করে। এই অ্যান্টি অক্সিডেন্ট প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। একটি লাল পেঁয়াজ পাতলা করে কেটে ৪ কাপ পানিতে ৮-১২ ঘন্টা ভিজিয়ে রাখুন। এই মিশ্রণটি দিনে এক বা দুই বার পান করুন। এই মিশ্রণটি ফ্রিজে রাখলে ৪ দিন ভালো থাকবে। মিশ্রণটি পান করার সময় সামান্য মধু মিশিয়ে নিতে পারেন।

৪। সাইট্রাস ড্রিংক

সাইট্রাস ড্রিংকে প্রচুর ভিটামিন সি থাকে যা শরীরে পুষ্টি সাধন করে এবং খুব দ্রুত সিজনাল অ্যালার্জি দূর করে। তাই যদি আপনার কোন রকমের অ্যালার্জির সমস্যা থাকে তাহলে কোন রকম দ্বিধা না করে এই শক্তিশালী ও টেস্টি পানীয়টি পান করুন। সাইট্রাস ড্রিংক প্রস্তুতের জন্য ২টি কমলার রস, ১ টেবিল চামচ স্থানীয় অরগানিক মধু ও অর্ধেক লেবুর রস প্রয়োজন হবে। তাজা কমলার রস ও লেবুর রস মিশ্রিত করে কয়েক ঘণ্টা রেখে দিন। পান করার পূর্বে মধু ও আইস কিউব যোগ  করুন। দিনে একবার এই পানীয়টি পান করুন।

টিপস:

  • আপনার কাপড় শুকানোর বিষয়ে সতর্ক হন। বাতাসে ভাসমান পরাগ রেণু আপনার কাপড়ে আটকে থাকতে পারে, এমনকি আপনার শরীরেও লেগে থাকতে পারে।
  • অ্যালার্জির সমস্যায় যা আক্রান্ত হন বেশি তাদের ঘরের জানালাটি সারাদিন খোলা রাখবেন না। কারণ অ্যালার্জি সৃষ্টি কারী বিভিন্ন উপাদান যেমন- পরাগ রেণু, ধুলাবালি ও ভাসমান জীবাণুরা আপনার গৃহের ভিতরে প্রবেশ করবে।
  • দিনের শেষে ঠান্ডা পানি দিয়ে আপনার হাত মুখ ও ত্বক পরিষ্কার করে নিন।
  • আপনার বিছানাটি সব সময় পরিষ্কার রাখুন।
  • জার্মান এক গবেষণায় দেখা গেছে যে, যারা ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড সমৃদ্ধ খাবার খান তাদের সিজনাল অ্যালার্জি হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়।
  • প্রক্রিয়াজাত খাবার, পাস্তুরিত দুগ্ধ জাতীয় খাদ্য এড়িয়ে চলুন।
  • প্রোবায়োটিক সমৃদ্ধ খাবার খেলে ইমিউন সিস্টেম শক্তিশালী হয় এবং সিজনাল অ্যালার্জির হওয়ার সম্ভাবনা কমায়।

 

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top