যে লক্ষণগুলো দেখে বোঝা যায় আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম

ইমিউন সিস্টেম আপনার শরীরকে বিভিন্ন ধরণের ইনফেকশন ও টক্সিন যেমন- ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক ও পরজীবী যা চারপাশের পরিবেশ থেকে আসে তা থেকে সুরক্ষা প্রদান করে। বিভিন্ন কারণে আপনার ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হয়ে যেতে পারে। দুর্বল ইমিউনিটির কিছু লক্ষণ সম্পর্কে জেনে নিই চলুন।

১। আপনার শরীরের কোন স্থানে সামান্য আঘাত বা কেটে গেলে যদি এটি পুরোপুরি নিরাময় হতে বেশ কয়েকদিন লেগে যায়, তাহলে এটি আপনার দুর্বল ইমিউন সিস্টেমকেই নির্দেশ করে।

২। পেটের সমস্যা এবং খুব ঘন ঘন ডায়রিয়ায় ভোগা দুর্বল ইমিউনিটিরই নিদর্শন। ডায়রিয়া ছাড়াও যদি আপনার মূত্রনালির ইনফেকশন হওয়ার প্রবণতা থাকে এবং আপনার দাঁতের মাড়ি যদি খুব বেশি সেনসিটিভ হয় তাহলে আপনার ইমিউন সিস্টেম খুব দুর্বল তা বোঝা যায়।

৩। ত্বকে যদি হালকা চুলকানি দেখা দেয় এবং এটা যদি দীর্ঘদিন থাকে তাহলে এটি ছত্রাকের ইনফেকশনের লক্ষণ। ত্বকে ছত্রাকের সংক্রমণ হওয়ার প্রবণতাও দুর্বল ইমিউনিটির নির্দেশক।

৪। অন্যদের তুলনায় যদি আপনার অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া বেশি হতে দেখা যায় তাহলে এটিও দুর্বল ইমিউনিটিরই লক্ষণ প্রকাশ করে। যদিও অ্যালার্জি হওয়া দুর্বল ইমিউনিটিকে প্রকাশ করেনা। মুম্বাই এর ফরটিস হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. প্রদীপ  শাহ বলেন- “কিছু কিছু ক্ষেত্রে অ্যালার্জি অত্যধিক ইমিউনিটি বা অধিক সংবেদনশীলতা প্রকাশ করে। আপনার ইমিউন সিস্টেম আপনাকে সুরক্ষা দিচ্ছে অ্যালার্জির লক্ষণ তাই প্রকাশ করে। কারণ অ্যালার্জি অস্বাভাবিক ইমিউন রেসপন্সের ফলে সৃষ্টি হয়”।

৫। আপনার যদি ঘন ঘন ঠান্ডা, কাশি, গলাব্যথা ও ফ্লু লেগেই থাকে তাহলে বুঝতে হবে যে আপনার ইমিউন সিস্টেম সংকটাপন্ন অবস্থায় আছে। এছাড়াও  ঠাণ্ডা কিছু পান করা ছাড়াও যদি আপনার শ্বসনতন্ত্রের সংক্রমণ হওয়ার প্রবণতা থাকে তাহলে আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা যে খুবই কম তাই নির্দেশ করে। মাংসাশী খাবার এড়িয়ে নিরামিষাশী খাবার যাতে সবুজ শাকসবজি, হলুদ ও ধনিয়া থাকবে তা খাওয়া উচিৎ। কারণ এগুলো ইমিউনিটিকে শক্তিশালী করে।

ইমিউনিটি শক্তিশালী করার কিছু উপায় জেনে নিই এবার :

–   ভালো স্বাস্থ্যের সাথে ভালো খাবারের সম্পর্ক আছে। কিন্তু অসুস্থ হয়ে যাওয়ার পরই এই বিষয়ে সচেতন হতে দেখা যায় বেশিরভাগ মানুষকে। কিন্তু বৈচিত্র্যময় ও সুষম পুষ্টি সব সময়ই গ্রহণ করা উচিৎ। সাইট্রাস ফল স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারি। তাই কমলা, আঙ্গুর, পেঁপে, টমাটো খেতে ভুলবেন না। কম ফ্যাট ও কম চিনি যুক্ত খাবার, চর্বিহীন প্রোটিন ও সবজি খান।

–   ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী করার জন্য, শক্তির পুনরুদ্ধার ও অপরিহার্য কার্যাবলী সম্পাদনের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুম অত্যাবশ্যকীয়।

–   সুস্থতার জন্য পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা অপরিহার্য। খাওয়ার আগে, পোষা প্রাণী ধরার পরে, বাহির থেকে আসার পরে হাত ধুতে ভুলে না যাওয়া। তাছাড়া খাবার তৈরির সময় শাকসবজি, মাছ-মাংস ভালো করে ধুয়া ইত্যাদি কাজ গুলো আপনার ইমিউন সিস্টেমকে সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করবে।

–   স্ট্রেস শুধু এক ধরণের আবেগই নয়, দীর্ঘদিন স্ট্রেসে ভুগলে স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। শরীরে টক্সিন জমা হতে থাকলে ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হয়ে পরে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করুন, নিজেকে ভালবাসুন, আপনি যা পছন্দ করেন তা করার চেষ্টা করুন।

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top