এই কদিন সুস্থ থাকুন

ছুটির সময়ে দৈনন্দিন খাওয়াদাওয়া, ঘুম আর বিশ্রামের স্বাভাবিক রুটিনে কিছুটা পরিবর্তন হয়। শরীরের ওপর কিছুটা হলেও এর প্রভাব পড়ে। যাত্রাপথ, গাড়ি, গ্রামের বাড়ি ইত্যাদি নতুন পরিবেশে খাপ খাইয়ে নিতে সবার কিছু সমস্যা হতে পারে। ভ্রমণের সময় বাসে, ট্রেনে বা লঞ্চ-স্টিমারে বমি বা বমি ভাব হতে পারে। এ বিষয়ে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিনের সহযোগী অধ্যাপক ডা. গোবিন্দ চন্দ্র রায় বলে, পুরো ছুটির সময়টাতে ডায়রিয়া, আমাশয়, হাইপার অ্যাসিডিটি এবং অন্যান্য সংক্রমণ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। সুতরাং গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে যাত্রা করা থেকে শুরু করে সেখানে থাকা এবং সেখান থেকে ফিরে আসা পর্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে।
কী কী রাখতে পারেন আপনার সঙ্গে?
চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী ওষুধ চলতে থাকলে সেসব ওষুধ অবশ্যই নিতে হবে। এ ছাড়া আরও কিছু প্রয়োজনীয় ওষুধ সঙ্গে নিয়ে গ্রামের বাড়ির দিকে রওনা দেয়া ভালো। কারণ, গ্রামে প্রয়োজনের সময় প্রয়োজনীয় ওষুধ না-ও পাওয়া যেতে পারে। খাওয়ার স্যালাইন, অ্যান্টাসিড সিরাপ, রেনিটিডিন বা ওমিপ্রাজল জাতীয় ওষুধ, প্যারাসিটামল, বমির ওষুধ, অ্যান্টিহিস্টামিন, স্যাভলন, অ্যান্টিবায়োটিক মলম, ব্যান্ডেজ ইত্যাদি সঙ্গে নিতে হবে। হাত ধোয়ার সাবান কিংবা হ্যান্ড স্যানিটাইজারও নিতে হবে।
যাত্রাপথে ‘মোশন সিকনেস’
বাস, ট্রেন, নৌকা, লঞ্চ, স্টিমার—যেকোনো বাহনে চড়ার পর অনেকেরই বমি হতে পারে। এ সমস্যার নাম ‘মোশন সিকনেস’। মোশন সিকনেস পুরোপুরি প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। তবে কিছু নিয়ম মেনে চললে উপকার পাওয়া যাবে। যেমন গাড়ির ভেতরে তাকিয়ে না থেকে গাড়ির বাইরে তাকিয়ে থাকলে বমি বমি ভাব কম হবে। চলন্ত গাড়িতে বই-পত্রিকা পড়তে থাকলেও অনেক সময় বমির উদ্রেক হয়। এমন হলে গাড়িতে বই-পত্রিকা না পড়ে বাইরের দিকে তাকিয়ে থাকলে বমি বমি ভাব কমে যেতে পারে। জানালার পাশে সিট নিয়ে জানালা একটু খুলে রাখলেও ভালো ফল পাওয়া যাবে। হালকাভাবে দুচোখ বন্ধ করে একটু তন্দ্রাচ্ছন্ন ভাব আনলেও উপকার পাওয়া যাবে। কিছু ওষুধ আছে যেগুলো বমি হওয়া প্রতিরোধ করতে পারে। চিকিৎসকের পরামর্শে তা সেবন করতে হবে গাড়িতে ওঠার আগে।

সর্দি–জ্বর
এই সময়ে স্থান পরিবর্তনের কারণে এবং গরমে অতিরিক্ত ঘাম শুকিয়ে ঠান্ডা লেগে সর্দি-জ্বর হতে পারে। তবে চিন্তার কিছু নেই। এসব সর্দি-জ্বর এমনিতেই ভালো হয়ে যায়। প্রচুর পানি পান করতে হবে। এর সঙ্গে সর্দির জন্য অ্যান্টিহিস্টামিন জাতীয় ওষুধ এবং জ্বরের জন্য প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ খাওয়া যেতে পারে।

পেট খারাপ
যাত্রার সময় রাস্তার পাশের দোকানের খাবার বা অপরিচিত লোকের কাছ থেকে কোনো খাবার না খাওয়াই ভালো। বাসি খাবারও খাওয়া ঠিক নয়। বাসা থেকে পানি নিয়ে বের হওয়া উচিত। বাইরের পানি নিরাপদ না-ও হতে পারে। এরূপ খাবার বা পানীয় থেকে ডায়রিয়া বা আমাশয় হয়ে উৎসবের আনন্দই মাটি হয়ে যেতে পারে।

বুকজ্বালা
খাবারে তারতম্যের কারণেই অনেক সময় পেট জ্বালা করে। আর যাদের আগে থেকেই এই সমস্যা আছে, তাদের তো যেকোনো সময় একটু তারতম্যেই হতে পারে পেটজ্বালা। তৈলাক্ত খাবার, ভাজা পোড়া, চা-কফি, ধূমপান বাদ দিতে হবে। পেট জ্বালা করলে অ্যান্টাসিড বা ওমিপ্রাজল জাতীয় ওষুধ খাওয়া যেতে পারে। তবে খুব জ্বালা করলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারেন।

মাথাব্যথা
মাথা ব্যথার কারণ অনেক। দুশ্চিন্তা ও মাইগ্রেন শতকরা ৯০ ভাগ মাথাব্যথার জন্য দায়ী। শতকরা ৫ ভাগ মাথাব্যথা চক্ষুজনিত। চোখের দৃষ্টিশক্তি কম থাকলে মাথাব্যথা হতে পারে। অনেকক্ষণ পড়াশোনা করা, সেলাই করা, সিনেমা দেখা বা কম্পিউটার স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলে মাথাব্যথা হতে পারে। দুশ্চিন্তামুক্ত থাকতে হবে। পর্যাপ্ত ঘুমাতে হবে। অল্প ব্যথায় প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ খাওয়া যেতে পারে।

পুড়ে গেলে বা গরম পানি গায়ে পড়লে
এ ক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তিকে যত দ্রুত সম্ভব আগুন বা গরম জায়গা থেকে সরিয়ে নিতে হবে। পুড়ে যাওয়া পোশাক খুলে দিতে হবে। অযথা ডিম, টুথপেস্ট ইত্যাদি লাগাবেন না। এতে কোনো উপকার নেই। দ্রুত ঠান্ডা বা সাধারণ তাপমাত্রার পানি ঢালুন। অনেকক্ষণ ধরে পানি ঢালতে হবে¦এক-দুই ঘণ্টা পর্যন্ত। ফোসকা গলানোর চেষ্টা করবেন না। প্রাথমিক চিকিৎসার পর চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
বাড়িতে বা সঙ্গে প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জামাদি রাখুন।
লেখক: চিকিৎসক

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top