চোয়াল নিশ্চল হয়ে যাওয়ার কিছু কারণ ও এর প্রতিকার

মুখের চোয়ালের পেশী কোন কারণে আবদ্ধ হয়ে গেলে চোয়াল নাড়ানো সম্ভব হয়না। আক্রান্ত ব্যক্তি মুখ খোলার চেষ্টা করলে ক্লিক করে শব্দ হয়। এই সমস্যাটি যে কোন মানুষেরই যেকোন সময় হতে পারে। একে লক জ বা দাঁতকপাটি বা ট্রিসমাস বা টেম্পোরোম্যান্ডিবুলার জয়েন্ট ডিজ অর্ডার (TMJ) বলে। চোয়ালের যে পেশী চিবাতে সাহায্য করে তার খিঁচুনির ফলে লক জ হয়। এর ফলে মুখ খুলতে সমস্যা হয় এবং খাওয়া ও কথা বলায়ও সমস্যা হয়। এটি নিরাময়যোগ্য ও অস্থায়ীসমস্যা। চোয়াল নিশ্চল হয়ে যাওয়ার কারণগুলো ও এর প্রতিকার সম্পর্কে জেনে নিই চলুন।

১। পেশীর দুর্বলতা

বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে পেশী ক্রমশ দুর্বল হয়ে যায় এবং লক জ হওয়ার ঝুঁকিও বৃদ্ধি পায়। তাই ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খান।

২। শক্ত খাবার চিবানো

অনেক বেশি শক্ত খাবার চিবিয়ে খেলে বিশেষ করে মুখের একপাশ দিয়ে চিবিয়ে খেলে লক জ এর সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে।

৩। ইনফেকশন

টিটেনাস ইনফেকশনের শেষ পর্যায়ের লক্ষণ হচ্ছে লক জ হওয়া। টিটেনাস হলে পেশী দুর্বল হয়ে যায় ফলে লক জ হওয়ার ঝুঁকিও বৃদ্ধি পায়।

৪। তামাক জাতীয় পণ্য চিবানো

অনবরত তামাক জাতীয় পণ্য যেমন- গুল, খয়ের, সুপারি, মিষ্টি ও সুগন্ধি মসলা ইত্যাদি চিবানোর অভ্যাস আছে যাদের তাদের লক জ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

৫। হাড়ের প্রান্ত মোটা হলে

হাড় যখন লম্বায় বৃদ্ধি পাওয়া বন্ধ হয়ে যায় তখন তাদের ঘনত্ব বৃদ্ধি পেতে থাকে। হাড়ের প্রান্ত মোটা হয়ে গেলে লক জ হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।

৬। টিউমার

টিউমার বা ক্যান্সার সৃষ্টিকারী বৃদ্ধির কারণেও চোয়াল নিশ্চল হয়ে যাওয়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে।

৭। শারীরিক আঘাত

কোন কারণে যেমন- রোড অ্যাক্সিডেন্টে শারীরিকভাবে আঘাত প্রাপ্ত হলে চোয়াল নিশ্চল হয়ে  যাওয়ার সমস্যাটি হতে পারে।

মায়ো ক্লিনিকের মতে, TMJ কোন চিকিৎসা ছাড়া নিজে নিজেই ভালো হয়ে যায়। কিন্তু কিছু ঘরোয়া উপায়ের মাধ্যমে, পেশীর ব্যায়ামের মাধ্যমে এবং ম্যাসাজের মাধ্যমে ব্যথা কমানো যায়। লক জ হলে চোয়ালে প্রচন্ড ব্যথা হয় এবং আশে পাশেও ব্যথা ছড়িয়ে পরে। আক্রান্ত স্থানে উষ্ণ গরম চাপ দিলে এই ব্যথা কমে। আইস প্যাক ব্যবহার করেও লক জ ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। ড্রিহাইড্রেশনের ফলেও শরীরের পেশী শক্ত হয়ে যায় এবং লক জ সৃষ্টি করতে পারে। তাই প্রতিদিন পরিমিত পরিমাণ পানি পান করে হাইড্রেটেড থাকুন।

রসুন ও সরিষার তেলের মিশ্রণ লক জ এর সমস্যার সমাধান করতে পারে। রসুনের প্রদাহরোধী উপাদান লক জ এর ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। রসুন আক্রান্ত স্থানের রক্ত সংবহন বাড়িয়ে দেয়। সরিষার তেলের মধ্যে রসুনের কোয়া থেঁৎলে দিয়ে তাপ দিয়ে গরম করে নিন। দিনে ২/৩ বার আক্রান্ত স্থানে এই মিশ্রণটি মালিশ করুন।

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top