খাদ্য কী শিশুদেরকে বেশি বুদ্ধিমান ও স্মার্ট করতে পারে?

বর্তমানে শিশুরা বার্গার, পিজ্জা, সফট ড্রিংক, পেস্ট্রি ইত্যাদি জাংক ফুড খেয়ে থাকে। এ খাবারগুলো সহজপ্রাপ্য, সুস্বাদু এবং সাশ্রয়ী মূল্যের বলে পিতামাতাও কিনে দেন তার সন্তানকে। কিন্তু আপনি কী জানেন শিশুর খাদ্যের পছন্দ তার বুদ্ধিমত্তার উপর প্রভাব ফেলতে পারে? শিশুকে অস্বাস্থ্যকর খাবার দিলে তা শুধু তার স্বাস্থ্যের উপরই প্রভাব ফেলে না বরং তার মস্তিষ্কের উন্নয়নের উপর ও প্রভাব ফেলে। জাংক ফুডে পুষ্টি উপাদানের চেয়ে ক্যালোরির পরিমাণ বেশি থাকে। ‘ডোন্ট জাস্ট ফিড…নারিশ ইয়োর চাইল্ড’ বইটির লেখক মোম্বাই এর পুষ্টিবিদ ধভানি শাহ খাদ্যের পছন্দ কীভাবে শিশুর মানসিক স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলে সে বিষয়ে কিছু প্রশ্নের উত্তর দেন।

শিশু যা খায় তা কী তার বুদ্ধিমত্তার উপর প্রভাব ফেলে?

হ্যাঁ, শিশুর খাদ্যাভ্যাস তার মস্তিষ্কের উন্নয়ন এবং বুদ্ধিমত্তার উপর প্রচুর প্রভাব ফেলে। স্মরণশক্তি ধীর হওয়া, একাগ্রতার অভাব, ক্লান্তি, নিদ্রালুতা এ সব কিছুই শিশুর খাদ্যাভ্যাসের ফল। এটি প্রমাণিত যে, খাদ্য মানুষকে গড়তে বা ভাঙতে পারে। ভালো খাদ্যাভ্যাস থেকেই ভালো পুষ্টি পাওয়া যায়। এটি মস্তিষ্কে জ্বালানী সরবরাহ করে এবং সারাদিন সক্রিয় থাকতে সাহায্য করে। সঠিক পুষ্টি মস্তিষ্কের কোষ, স্নায়ু এবং টিস্যুর বৃদ্ধির মাধ্যমে শিশুর মনোযোগ, স্মৃতিশক্তি এবং বুদ্ধিমত্তার বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

কোন খাবারগুলো মস্তিষ্কের বৃদ্ধিকে উৎসাহিত করে?

স্নায়ুতন্ত্র এবং মস্তিষ্কের উন্নয়নের জন্য আপনার সন্তানকে যে খাবারগুলো নিয়মিত খাওয়ানো উচিৎ সেগুলো হচ্ছে

– মধু, শুকনো ফল, কলা, আতা ইত্যাদি প্রাকৃতিক চিনি

– কাঠবাদাম, চিনা বাদাম, কাজু বাদাম, আখরোট ইত্যাদি বাদাম

– দুধ এবং দুগ্ধ জাতীয় পণ্য যেমন- দই, পনির ইত্যাদি

– সবুজ শাকসবজি যেমন- পালং শাক, পিঁয়াজকলি ইত্যাদি

– হলুদ

– সামুদ্রিক খাবার

– ঘি এবং টাটকা সাদা মাখন

কোন খাবারগুলো মস্তিষ্কের বৃদ্ধির উপর বিরূপ প্রভাব ফেলে?

কৃত্রিম মিষ্টিকারক, সাদা চিনি এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক উপাদান সরাসরি মস্তিষ্কের উন্নতিতে এবং স্নায়ুতন্ত্রের উপর প্রভাব ফেলে। মাত্রাতিরিক্ত ক্যান্ডি, চকলেট, ডেজারট, মিষ্টি, মিষ্টি সিরিয়াল, গ্যাস মিশ্রিত ঝাঁঝালো পানীয়, প্যাকেটজাত জুস খাওয়া শিশুর স্মৃতিশক্তি কমা, অলসতা এবং অস্বস্তিবোধ হওয়ার কারণ।

শিশু যাতে এই খাবারগুলো না খায় তা নিশ্চিত করবেন কীভাবে?

কৌশলটি হচ্ছে শিশুকে স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ানো এবং জাংকফুড খাওয়াকে সীমিত করা। ক্ষতিকর জাংকফুড খাওয়াকে সপ্তাহে একদিনে সীমিত করুন, তাহলে সে এই খাবারগুলোর প্রতি আসক্ত হবে না। প্যাকেটজাত খাবারের পরিবর্তে একইরকম মজাদার খাবার ঘরে তৈরি করে দিন।

শিশুর প্রাত্যহিক খাদ্য তালিকায় কী যুক্ত করা উচিৎ?

– কলা, আখরোট এবং মধুর স্মুদি অনেক শিশুর ক্ষেত্রেই পরীক্ষার সময়ে চমৎকার কাজ করে।

– শিশুর মস্তিষ্কের উন্নয়নের জন্য প্রতিদিন কাঠবাদামের দুধ পান করতে দিন।

– স্ন্যাক্স হিসেবে ফল ও বাদাম খেতে দিন।

– রুটি বা পরোটার সাথে সবুজ শাকসবজি খেতে দিন এবং ডাল বা পরোটা তৈরির সময় ঘি ব্যবহার করুন।

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top