ডায়াবেটিসের রোগীরা কী তরমুজ খেতে পারেন?

তরমুজ একটি জনপ্রিয় ফল যা গ্রীষ্মের সময় বেশীরভাগ মানুষই খেতে পছন্দ করেন। কিন্তু যাদের ডায়াবেটিস আছে তারা তরমুজ খেতে বেশ চিন্তায় পড়ে যান যেহেতু এটি মিষ্টি ফল। তরমুজ পুষ্টি উপাদানে সমৃদ্ধ এবং এটি লাইকোপিনের চমৎকার উৎস। লাইকোপিন এমন একটি উদ্ভিজ রাসায়নিক যা কার্ডিওভাস্কুলার ডিজিজ এবং ক্যান্সারের ঝুঁকি কমানোর সাথে সম্পর্কিত।

কিন্তু তরমুজ কার্বোহাইড্রেটের উৎস এবং এর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (এর দ্বারা খাবার ও রক্তের চিনির প্রতিক্রিয়াকে পরিমাপ করা হয়) বেশি।  তাই অনেকেই এটি এড়িয়ে চলেন। যদিও আমেরিকান ডায়াবেটিক এসোসিয়েশন (ADA) ফল খেতে উৎসাহিত করেন, এর পাশাপাশি  খাদ্য পরিকল্পনায় কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবারের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখার পরামর্শ দেন।

তরমুজের পুষ্টিগুণ

এই বড় ফলটি গোর্ড বা লাউ পরিবারের অন্তর্ভুক্ত যার সবুজ ও শক্ত খোসার ভেতরে লাল, মিষ্টি এবং রসালো মজ্জা থাকে। ১ কাপ তরমুজে ৫০ এর কম ক্যালোরি থাকে এবং এটি ভিটামিন এ, ভিটামিন সি ও পটাসিয়ামের ভালো উৎস। লাল তরমুজ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট লাইকোপিন এ সমৃদ্ধ যা হৃদরোগ এবং নির্দিষ্ট ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। যদি আপনার ডায়াবেটিস থাকে তাহলে আপনার ডায়েট অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ এবং বেশি বেশি ফল ও সবজি খাওয়া অন্য স্বাস্থ্যসমস্যার ঝুঁকি কমায়।

গবেষণা

ADA এর মতে, ডায়াবেটিস রোগীদের ৩ জনের মধ্যে ২ জনের ক্ষেত্রেই তরমুজের উপাদান  উপকারী হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে এবং রক্তচাপের উন্নতিতেও সাহায্য করে। একটি ছোট গবেষণা প্রকাশিত হয় আমেরিকান জার্নাল অফ হাইপারটেনশন এ ২০১১ সালের জানুয়ারিতে,  যাতে বলা হয় –  প্রিহাইপারটেনশন আছে যাদের তাদের রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে তরমুজের নির্যাস।  ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত অন্য একটি গবেষণা প্রতিবেদনে জানা যায় যে, ডায়াবেটিস আছে এমন ইঁদুরদের তরমুজের খোসার রস খাওয়ানো হলে তাদের রক্তের চিনির মাত্রা কমে। ২০০৮ সালে লাইফ সায়েন্স এ প্রকাশিত গবেষণায় ইঁদুরে লাইকোপিনের দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারের ফলে ডায়াবেটিস সম্পর্কিত বুদ্ধিবৃত্তিক দক্ষতা কমে যাওয়ার হার কমায় বলে জানায়। তরমুজের এই উদ্ভিজ রাসায়নিকটি উপকারী যদিও মানুষের ক্ষেত্রে  আরো বড় ট্রায়াল হওয়া প্রয়োজন।

তরমুজ এবং রক্তের চিনির মাত্রা

ADA এর মতে, সারাদিনে কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ খাবার অল্প থেকে সীমিত পরিমাণে গ্রহণ করলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। আপনার লক্ষ্য অর্জনে সাহায্য করতে পারে খাদ্য পরিকল্পনায় কার্বোহাইড্রেটের সীমিতকরণ। সোয়া এক কাপ তরমুজ কুচিতে ১৫ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট থাকে, যা একটি তাজা ফলের সমান (অর্ধেক কলা বা ১ কাপ জাম)।

তরমুজের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স

তরমুজ রক্তের চিনির পরিমাণ বৃদ্ধি করতে পারে বলে দোষারোপ করা হয়। কারণ প্রথমত বলা যায়  যে, এটি গরমের সময়ে সীমিত পরিমাণে খাওয়াটা বেশ কঠিন। দ্বিতীয়ত এর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (GI) বেশি, আর উচ্চমাত্রার GI খাবার বেশি খেলে রক্তের চিনির মাত্রা বৃদ্ধি পায়। যদিও GI একটি জটিল পদ্ধতি যা পরিবর্তনশীল এবং কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণের সাথে সম্পর্কিত নয়। গ্লাইসেমিক লোড (GL) হচ্ছে খাদ্যে কার্বোহাইড্রেটের গুণগত মান এবং পরিমাণ উভয়কেই পরিমাপ করে। GL পরিমাপ করা হয় গ্লাইসেমিক ইনডেক্সের সাথে খাদ্যে কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণকে গুণ দিয়ে। তরমুজের গ্লাইসেমিক লোড কম থাকে, ৫ এর মত। তাই বলা যায় যে, এই ফলটি সঠিক পরিমাণে গ্রহণ করা ডায়াবেটিসের রোগীদের জন্য গ্রহণযোগ্য।

সতর্কতা

তরমুজ ডায়াবেটিসের রোগীদের জন্য পুষ্টিকর হলেও বেশি পরিমাণে খাওয়া রক্তের চিনির পরিমাণকে বৃদ্ধি করতে পারে। তাই আপনি কী পরিমাণ তরমুজ খেতে পারবেন তা আপনার ডায়েটিশিয়ান বা চিকিৎসকের সাথে কথা বলে জেনে নিন।

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top