সংসদে ‘ম্যাগি’ নিষিদ্ধের দাবি, পরীক্ষার প্যারামিটার নেই দেশে

ইতিমধ্যেই ম্যাগি নুডলস নিষিদ্ধ হয়েছে ভারত, নেপাল ও সিঙ্গাপুরে। বিপজ্জনক মাত্রায় সীসার উপস্থিতি পাওয়ায় এ ব্যবস্থা নিয়েছে দেশগুলো। তবে বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত এতে ক্ষতিকর কোন উপাদান পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে বিএসটিআই। ম্যাগিতে ক্ষতিকর উপাদান আছে উল্লেখ করে জাতীয় সংসদে তা নিষিদ্ধের দাবি জানালেন সংরক্ষিত আসনের এক সাংসদ। আর এ দাবির সুনির্দিষ্ট ‘প্রতিফলন’ চাইলেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক।

কিন্তু সংবাদ মাধ্যমের বিভিন্ন খবর বলছে, বাংলাদেশে বিক্রি চললেও নুডলসে সিসা পরীক্ষার কোনও প্যারামিটার নেই। কিন্তু বিএসটিআই-এর পরিচালক বলছেন, ‘দেশি ম্যাগিতে সিসা বা ক্ষতিকারক পদার্থ পাওয়া যায়নি’।

সোমবার সোমবার জাতীয় সংসদে ৭১ বিধিতে মনোযোগ আকর্ষণী নোটিশ নিয়ে আলোচনাকালে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নুরজাহান বেগম বাংলাদেশে ম্যাগি নুডলস নিষিদ্ধের দাবি করেছেন। নুরজাহান বেগম বলেন, ‘ভারত, সিঙ্গাপুর ও নেপালে ম্যাগি নুডলস নিষিদ্ধ হওয়ায় নেসলে কম্পানি ৪০০ কোটি টাকার নুডলস ধ্বংস করেছে। এর পরও আমাদের এখানে ম্যাগি নুডলস বিক্রি হচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। অবিলম্বে ম্যাগি নুডলস নিষিদ্ধের দাবি জানাচ্ছি।’

এ দাবির সাথে একমত প্রকাশ করে মঙ্গলবার সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার প্রিয়.কমকে বলেন, ‘খাদ্য মানুষের মৌলিক অধিকার। এই অধকার সরকারেই নিশ্চিত করতে হবে। ম্যাগি নুডলসে ১ শতাশও শিসা থাকলেও তা নিষিদ্ধ করতে হবে। এখানে আপোষ করার কোনা জায়গা নেই।’

সরকারকে খাদ্য নিরাপত্তা দিতে হবে দাবি করে বদিউল আলম বলেন, অতি সত্বর এ বিষয়ে সরকারকে একটা সিদ্ধান্তে আসতে হবে। সারা দেশে ভেজালবিরোধী অভিযান চালিয়ে অন্যান্য খাদ্যও বিষমুক্ত করার কথাও বলেন তিনি।

সংসদ অধিবেশনে আলোচনায় অংশ নিয়ে নুরজাহান বেগম বলেন, ভারতে ম্যাগি নুডলসে সিসা পাওয়া যাওয়ায় পর বাংলাদেশেও এর দাম ২৫ শতাংশ কমিয়েছে নেসলে। ল্যাবে পরীক্ষার মাধ্যমে ম্যাগি নুডলসে ১৭ শতাংশের বেশি সিসা পাওয়া গেছে। এ নুডলস গর্ভবতী মায়েরা খেলে পেটের সন্তান নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রবল। এমনকি ক্যান্সারের ঝুঁকিও রয়েছে।’

সংবাদ মাধ্যমের খবরে জানা গেছে, বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড (বিডিএস) অনুযায়ী ইনস্ট্যান্ট নুডলসে সিসা পরীক্ষার কোনও প্যারামিটার নেই। ফলে ম্যাগি নুডলসে সিসা আছে কিনা, তা স্পষ্ট করে বিএসটিআই-এর বলতে পারার কথা নয়। যদিও বিএসটিআইয়ের কর্মকর্তারা এবং তাদের সুরে সুর মিলিয়ে নেসলেও দাবি করছে এদেশে বানানো ম্যাগি নুডলস সম্পূর্ণ নিরাপদ।

বিএসটিআই-এর পরিচালক কমল প্রসাদ দাস (সিএম) সংবাদ মাধ্যমকে গেলো মাসের ১৯ তারিখ বলেছিলেন, ‘আমরা পরীক্ষা করে ঝুঁকিমুক্ত সনদ দিয়েছি। দেশি ম্যাগিতে সিসা বা ক্ষতিকারক পদার্থ পাওয়া যায়নি।’

সিসা পরীক্ষার প্যারামিটার তাদের কাছে না থাকলেও কিভাবে তারা এ পরীক্ষা করলেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘পণ্যটিতে সিসা পরীক্ষাসহ আরও কয়েকটি প্যারামিটার যোগ করার ব্যাপারে টেকনিক্যাল কমিটিকে জানানো হয়েছে। আমরা পরীক্ষাগারে কিছু পাইনি।’

বিএসটিআই-এর মহাপরিচালক ইকরামুল হক সংবাদ মাধ্যমকে ঐসময় বলেছিলেন, ‘ইনস্ট্যান্ট নুডলসে সিসা পরীক্ষার প্যারামিটার না থাকার বিষয়টি নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। টেকনিক্যাল কমিটি এ নিয়ে কাজ করবে।’ কীভাবে তাড়াহুড়ো করে ম্যাগিকে ঝুঁকিমুক্ত বলা হচ্ছে প্রশ্ন করা হলে তিনি তা এড়িয়ে গিয়ে বলেন, ‘আমরা ক্রেতাদের ভাল পণ্যটিই নিশ্চিত করি।’

কী কী হতে পারে:

সীসা সব থেকে বেশি ক্ষতি করে বাচ্চাদের। সীসায় লিভার খারাপ হয়, বাচ্চারা দুর্বল হয়ে পড়ে এমনকি অনিদ্রা রোগেও ভুগতে থাকে। আর নিয়মিত সীসা খেলে নার্ভের সমস্যা দেখা দেয়। যা কমিয়ে দেয় স্মৃতিশক্তি। আর এই কারণে, ভারতে প্রশ্ন চিহ্নের মুখে ম্যাগির ভবিষ্যৎ। স্বাস্থ্যের কারণে ম্যাগি বিক্রি বন্ধের জন্য কেন্দ্রের কাছে সুপারিশ করেছে লাখনাউ ফুড সেফটি অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন। এদিকে ম্যাগিতে সীসা ও আজিনামোটো মেশানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছে প্রস্ততকারক সংস্থা নেসলে। তাদের পালটা দাবি, ম্যাগিতে সীসা ও আজিনামোটো মেশানো হয় না।

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top