লবন যখন নি:শব্দ ঘাতক

রোগের কারণে ডাক্তার যেই পাতে লবন খেতে বারণ করেন, শুরু হয় রান্নায় বেশি লবন দেওয়া কারণ অধিকাংশ মানুষের ধারণা রান্না হয়ে গেলে লবন আর ক্ষতিকর থাকে না৷ যত ক্ষতি পাতে কাঁচা লবন খেলে৷ বলে কেউ লবন ভেজেও খান৷ কিন্তু তাতে কোনও সুরাহা হয় না, তা বলাই বাহুল্য৷ তবে এ কথাও ঠিক যে সুস্থ-স্বাভাবিক মানুষ একটু বেশি লবন খেলে তখনই তেমন ক্ষতি কিছু হয় না৷ কিন্ত্ত কম বয়স থেকে বেশি খেয়ে খেয়ে টেস্টবাড সেভাবে অভ্যস্ত হয়ে গেলে পরে যদি কখনও কমাতে বলা হয়, ব্যাপারটা কঠিন হয়ে যায়৷ জোর করে কমালে খেতে ভালো লাগে না ৷ কমাতে পারেনও না অনেকে৷ ফল, হয় টানাটানি কোয়ালিটি অফ লাইফ নিয়ে, নয়তো একেবারে লাইফ নিয়েই টানাটানি৷ সে জন্যই আজকাল ডাক্তাররা রোগ থাকুন বা না থাকুক, কম বয়স থেকেই লবন একটু কম করে খাওয়ার কথা বলছেন৷

লবন কমানোর উপায়

পাতে লবন খাওয়ার অভ্যেস করবেন না৷ থাকলে কমানোর চেষ্টা করুন৷ ধীরে ধীরে৷ খাওয়ার টেবিলে লবনের পাত্র রাখবেন না৷ ঠিক করুন, যত খারাপ লাগুক, আলাদা করে আর লবন মেশাবেন না৷রেস্টুরেন্টে গেলেও নিয়ম মেনে চলুন৷ কিছু দিনেই দেখবেন জিভ এই নতুন ধারার সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছে৷ পরের ধাপে রান্না করুন কম লবন ৷ ভাবছেন খাবেন কী করে? রান্নার প্যাটার্ন বদলান৷ বেশ কিছু মশলা আছে যা দিয়ে রান্না করলে কম লবনেও টেস্টি খাবার বানানো যায়৷ যেমন, আদা, রসুন, গোলমরিচ, লেবু, লঙ্কা, থাইম, ওরিগ্যানো ইত্যাদি৷ রান্না নিয়ে একটু এক্সপেরিমেন্ট করুন, দেখবেন কিছু দিনেই বাড়িতে লবনের প্রয়োজন অর্ধেক হয়ে যাবে৷ তবে হ্যাঁ, এতেই শেষ নয়, লুকোনো লবনের হদিশ না পেলে এরপরও বিপদ ওত্‍ পেতে থাকবে৷

লুকোনো লবন

রেডি-টু-ইট ফুড হল সব চেয়ে বড় কালপ্রিট৷ গ্রেভিতে এত লবন মেশানো থাকে যে নিয়মিত খেলে বিপদ অনিবার্য৷ ইনস্ট্যান্ট নুডুল ও সস এই একই গোত্রের৷ কাজেই ঘরে রোজ চাওমিন হলে তা সাধারণ নুডুল দিয়ে বানানোই ভালো৷ অকৃপন হাতে সস ঢালার আগে একটু ভাবনা-চিন্তা দরকার৷ চিজ পছন্দ হলে এবং নিয়মিত খাওয়ার অভ্যেস থাকলে শেডার চিজের বদলে মোজারেলা কিলবন৷

আচার, কাসুন্দি, মেয়োনিজও ঠাঁসা থাকে লবনে৷ নেহাত্‍ না খেয়ে থাকতে না পারলে কেনার আগে লেভেল পড়ে দেখুন৷ ‘লো সোডিয়াম’ বা ‘নো অ্যাডেড সল্ট’ লেখা থাকলে তবে কিলবন৷ চিনে বাদাম বা ড্রাই ফ্রুট স্ন্যাকিং-এর জন্য স্বাস্থ্যকর হলেও, সেও এই একই দোষে দুষ্ট৷ কাজেই আনসল্টেড ভ্যারাইটি কিলবন৷ পিত্‍জা, পাস্তা খেতে গিয়ে বেকন টপিংয়ের বদলে ভেজিটেবল টপিং অর্ডার করলে ভালো৷ তবে এক্সট্রা চিজ বা হোয়াইট সস চাইবেন না৷ রাশ টালবন সান্ধ্যকালীন মুড়ি-চানাচুর বা চপ-কাটলেটের অভ্যেসে৷ এক-আধ দিন খাওয়া যাবে না, এমন নয়৷ তবে নিয়মিত নয় কখনওই৷ বিশেষ হাই প্রেশার অন্য কোনও কারণে যদি লবনের কড়াকড়ি থাকে৷

ফিরুন প্রকৃতির কাছে

প্রসেসড বা হাই-সোডিয়াম ফুডের পরিবর্তে কম লবনে ঘরে বানানো খাবার খান৷ খান লো ফ্যাট দুধ-দই-ছানা, ফল, সব রকম শাক-সবজি, মাছ, মাংস, ডিম৷ পটাশিয়ামসমৃদ্ধ খাবার যেমন, কলা, মিষ্টি আলু, রাজমা, ওট খান নিয়মিত৷

সতর্কতা

লো প্রেশারের ধাত থাকলে লবন নিয়ে বেশি কড়াকড়ি করবেন না৷ ওষুধ খাচ্ছেন এমন হাই প্রেশারের রোগীর যদি গরমে ঘেমে-নেয়ে বা এমনিই হঠাত্‍ মাথা ঘুরতে শুরু করে ওআরএস বা লবন-চিনির জল খাওয়ার প্রয়োজন হতে পারে৷ প্রয়োজন হতে পারে লুজ মোশন বা বমি হলে৷ সব চেয়ে ভালো হয়, লবন নিয়ে বিশেষ ভাবনা-চিন্তা শুরু করার আগে একবার ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলে যদি জেনে নেওয়া যায় যে এতে কোনও ক্ষতির আশঙ্কা আছে কি না৷

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top