স্বাস্থ্য সুরক্ষায় থানকুনি

সৃষ্টিকর্তার অশেষ রহমত রয়েছে এই সুন্দর প্রকৃতিতে, মনমাতানো সৌন্দর্যের পাশাপাশি প্রকৃতিতে রয়েছে সুস্থ থাকার নানা উপাদান। ভেষজ গুণসম্পন্ন এইসব উদ্ভিদের সঠিক ব্যবহার করে আমরা সহজেই পেতে পারি সুস্বাস্থ্য।

তাছাড়া প্রাত্যহিক জীবনে ছোট-বড় নানা অসুখে পড়লে আমরা দ্বারস্থ হই অ্যালোপ্যাথি বা হোমিওপ্যাথি ডাক্তারের কাছে, যার খরচ বহন করা অনেক সময়ই কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে আবার এতে থাকে ভেজালের ভয়। তাই সঠিকভাবে জেনে এই ভেষজ উদ্ভিদ ব্যবহার করে আমরা থাকতে পারি সুন্দর, পেতে পারি সুস্বাস্থ্য।

এমনই একটি অতি ভেষজ গুণসম্পন্ন উদ্ভিদ থানকুনি।এর পাতা আমাদের দেশে বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে একটি অতি পরিচিত নাম। স্যাঁতস্যাঁতে জায়গায়, বাড়ির আনাচে কানাচেতে এরা আগাছার মত জন্মে থাকে। থানকুনি ছোট লতানো উদ্ভিদ,এদের পাতা সাধারণত হৃৎপিন্ডাকৃতি ও কিছুটা খাজকাটা হয়ে থাকে। এতে প্রচুর ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ রয়েছে, গোঁটা গাছটাই ভেষজ গুণসম্পন্ন। এটি বাজারে খুবই সহজলভ্য।

থানকুনি গ্রামাঞ্চলে নানা আঞ্চলিক নামেও পরিচিত যেমন টেয়া, টেকপাতা, মানকি,থুলকুড়ি ইত্যাদি।এর ইংরেজি নাম Indian Pennywort । বৈজ্ঞানিক নামCentella Asiatica, Hydrocotyle Asiatica. আয়ুর্বেদে ত্বাষ্ট্র ও সংস্কৃতিতে ব্রাহ্মী নামে পরিচিত।

ব্যবহারবিধিঃ

ক্ষত সারাতে এর পাতা অনেক কার্যকরী। পুরনো ক্ষতে পাতা সিদ্ধ করে পানিটা ক্ষতের উপর দিলে ক্ষত নিরাময় হয় আর নতুন ক্ষতে পাতা বেটে ক্ষতের উপর লাগাতে হয়। চুলকানি ও খোস পাঁচড়া রোধে এই রস কাঁচাহলুদের রসের সাথে মিশিয়ে শরীরে মাখলে পাঁচড়া ভাল হয়।
প্রায়ই ভুলে যাওয়ার সমস্যা থাকলে স্মৃতিশক্তি বর্ধক হিসেবে দুধে এক চামচ শুকনো থানকুনির গুড়ো গুলিয়ে খেলে অথবা থানকুনি পাতার রস দুই চামচ করে দুপুরের খাবার আগে খেলে উপকার হয়।
চুল পড়া কমাতে ও দেহের তারুণ্য ধরে রাখতে ১ গ্লাস গরুর দুধের সাথে ৫-৬ চা চামচ পাতার রস দিয়ে খেতে হয়।
পেটের নানাবিধ সমস্যায় থানকুনি পাতা ব্যাপক কার্যকরী। ডায়রিয়া, আমাশয়,বদহজম ইত্যাদিতে এই পাতার রসের সাথে চিনি মিশিয়ে দুই চামচ করে দিনে দুইবার খেলে পেট ভাল হয়।
ডায়বেটিস, রক্তাল্পতায় থানকুনির রস দিনে দুইবার খেলে ভাল ফল পাওয়া যায়।
রক্ত দূষণ রোধে ৪ চা চামচ রসের সাথে ১ চা চামচ মধু মিলিয়ে ১ সপ্তাহের মত খেলে রক্ত পরিষ্কার হয় ও রক্ত সঞ্চালন বাড়ে।
দৃষ্টির অস্পষ্টতা রোধে শুকনো গরুর দুধের সাথে থানকুনির গুড়া ১/২ চামচ, ১ চামচ মধু মিশিয়ে খেলে ভাল উপকার পাওয়া যায়।
জ্বর উপশমে থানকুনি পাতার রস অনেক উপকারী। প্রতিদিন সকালে এটি সেবনে জ্বর দ্রুত সেরে যায়।
লিভারের সমস্যায় (বিশেষ করে বাচ্চাদের)থানকুনির ১ চামচ রসের সাথে ৫-৬ ফোঁটা কাঁচা হলুদ, সামান্য চিনি ও মধু মিশিয়ে প্রতিদিন সকালে খেলে সমস্যা দূর হয়।
দাঁত ও মাড়ির রোগে থানকুনি পাতা সিদ্ধ পানি কুলকুচা করলে ভাল ফল হয়।
মাঝেমাঝে দেখা যায় ছোট বাচ্চারা কথা বলাতে দেরী করে, এমতাবস্থায় ১ চামচ পাতার রস গরম করে তা ঠান্ডা হলে সাথে ২০ ফোঁটা মধু দুধের সাথে মিশিয়ে খাওয়ালে কিছুদিনের মধ্যে সমস্যা দূর হয়।

এছাড়াও পাতা শুকিয়ে এই গুড়া দিয়ে চা বানিয়ে প্রতিদিন খেলে শরীর সুস্থ থাকে ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।অবশ্যই প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম। তাই প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় থানকুনি পাতা রাখা খুবই উপকারী।

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top