যে খাবারগুলো আপনাকে করে তুলছে ক্লান্ত

পালাপার্বণে অথবা অনুষ্ঠানে ভরপেট খাওয়া দাওয়ার পর একটু আরামদায়ক ঘুম-ঘুম ভাবটার সাথে আমরা সবাই পরিচিত। কিন্তু যখন আমাদের শরীর চাঙ্গা থাকার দরকার, তখন স্বাস্থ্যকর কিছু খেয়েও শরীরটা ক্লান্ত লাগতে থাকে- এমন ঘটনা কি কখনো ঘটেছে আপনার জীবনে? দেখা যায়, বেশ কিছু খাবার আমরা খেয়ে থাকি যেগুলো খাওয়ার ফলে বরং ক্লান্তি, ঘুম ঘুম ভাবটা আরও বেড়ে যায়। The Hunger Fix: The Three-Stage Hunger and Recovery Plan for Overeating and Food Addiction বইটির লেখক পামেলা পিক এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী দেখে নিন কী সেসব খাবার।

১)নুডলস বা পাস্তা

কার্বোহাইড্রেট থেকে আমরা ঝটপট শক্তি পেয়ে থাকি সত্যি। কিন্তু পাস্তার মতো রিফাইন্ড কার্বোহাইড্রেট খাওয়ার ফলে আমাদের রক্তের সুগার লেভেল হঠাৎ করে বেড়ে যায়। এর পর পরই কমে যায় ইনসুলিন লেভেল, যার থেকে আসে ক্লান্তি ও দুর্বলতা। একই ঘটনা ঘটে পাউরুটি, প্যাস্ট্রি, মাফিন এবং প্রক্রিয়াজাত অন্যান্য খাবারের ক্ষেত্রে। এদের মাঝে থাকা ময়দা এবং চিনি ঘুম ঘুম ভাব তৈরি করতে পারে।

২) কলা

পটাসিয়ামের ভালো উৎস বলে কলার খ্যাতি আছে। এই পটাসিয়াম স্নায়ু এবং হৃৎপিণ্ড ভালো রাখে। কিন্তু কলায় আরও একটি খনিজ থাকে, তা হলো ম্যাগনেসিয়াম। ম্যাগনেসিয়াম এমন একটি জরুরি উপাদান যা শরীরকে ঘুমাতে সাহায্য করে। ম্যাগনেসিয়ামকে এ কারণে “রিলাক্সেশন মিনারেল” বলা হয়ে থাকে।

৩) রেড মিট

রেড মিট থেকে আমরা পাই আয়রন, যা শক্তি বৃদ্ধি করে। কিন্তু রেড মিটে বেশি পরিমাণে ফ্যাটও থাকে। বেশি পরিমাণে ফ্যাটযুক্ত মাংস, দুগ্ধজাত খাবার, পিজ্জা এসব খাওয়ার পর শরীরটা ভারী লাগতে পারে। ফ্যাট ভেঙ্গে শক্তি তৈরি করাটা শরীরের জন্য কষ্টকর। এ কারণে ক্লান্তি লাগাটাই স্বাভাবিক।

৪) চেরি

মেলাটোনিন হরমোনের একটি প্রাকৃতিক উৎস হলো চেরি। মেলাটোনিন সেই হরমোন যা ভালো ঘুমের সহায়ক। রাত্রে ভালো ঘুমের জন্য চেরি খাওয়াই যেতে পারে। নিয়মিত চেরি খাওয়ার ফলে শরীরের প্রাকৃতিক ঘুমের সময়সীমা ঠিক হয়ে যায়। তবে দিনের বেলা চেরি খাওয়া হলে ঘুম ঘুম পেতে পারে।

৫) লেটুসপাতা

বিশ্বাস করুন আর নাই করুন, আপনাকে ঘুম পাড়ানোর এমন বৈশিষ্ট্য লেটুসের আছে , যার সাথে আফিমের তুলনা করা চলে। ল্যাকটুসিন নামের এক রাসায়নিক ধারণ করে লেটুস যার ফলে এমন প্রশান্তিকর, অবসন্ন ভাব দেখা যায় আমাদের শরীরে।

 

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top