সোনামনি অতিরিক্ত অস্থির

ঘরময় দৌড়ানো আর বাড়ির সবাইকে অস্থির করে রাখা তার একমাত্র কাজ। ঠিকমতো খাওয়া-ঘুমানোয় চরম অনীহা। সামান্যতে খিটখিটে আচরণ আপনার ছোট্ট সোনামনির। শিশুর অতিরিক্ত চঞ্চলতা ও অমনোযোগিতাকে বলা হয় অ্যাটেনশন ডেফিসিট হাইপার অ্যাকটিভিটি ডিসঅর্ডার (এডিএইচডি)। সাধারণত এক থেকে পাঁচ শতাংশ শিশুর মধ্যে এই সমস্যা দেখা যায়। শিশু অতিরিক্ত চঞ্চলতা ও অস্থিরতা পরিবারের সদস্যদের জন্য বেশ বড় রকমের সমস্যার কারণ। এই স্বভাব শিশুটির পরবর্তী জীবনে আচরণগত সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়।

শিশুর আচরণে মনোযোগের অভাব, মাত্রাতিরিক্ত অস্থিরতা এবং হঠাৎ করেই কিছু ফেলার ইচ্ছা থাকলে তাকে এডিএইচডি এর আওতায় ফেলা যায়। এসব সমস্যার কারণে শিশুটি কোনো কাজই করতে পারে না। বেশির ভাগ সময় হাত-পা নাড়তে থাকে। কখনো দেখা যায়, অন্য শিশুর সঙ্গে খেলতে গেলে ঝগড়া করে, অপর শিশুটিকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়, দীর্ঘসময় কোনো কিছুর জন্য অপেক্ষা করতে পারে না বা কোনো কাজের জন্য লাইনে দাঁড়াতে দিলে অপেক্ষা করতে পারে না, ক্লাসে এক জায়গায় বসে থাকতে পারে না, পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে না পারার মতো সমস্যা করতে থাকে।

শিশুর মধ্যে এই ধরনের আচরণ দেখা দিলে তাকে শারীরিক পরিশ্রম হয় এমন কাজ করানো যেতে পারে। যেমন : সাঁতার কাটা, দৌঁড়ানো, সাইকেল চালানো, ক্রিকেট বা ফুটবল খেলা ইত্যাদি। এসব শিশুর মনোযোগ বার বার অন্যদিকে চলে যায়, তাই  নিরিবিলি পরিবেশে শিশুর পড়ার স্থান নির্বাচন করতে হবে।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শিশুর এসব সমস্যা ভালো হয়ে যায়। তবে অল্প বয়সে চিকিৎসা করালে ভালো উপকার পাওয়া সম্ভব। ছোটবেলা থেকে এসব সমস্যা বয়ে বেড়ালে বাচ্চা সঠিক সামাজিক আচরণ শিখে না। লেখাপড়ায় ভালো না করলে পরবর্তী জীবনে শিশুটি হতাশায় ভুগতে পারে। সামাজিকভাবে অবস্থা খারাপ হয়ে যেতে পারে। তাই শিশুকে প্রাথমিক অবস্থাতেই চিকিৎসকের কাছে নিতে হবে। এই সমস্যা আস্তে আস্তে ভালো হয়। তাই পরিবারের সদস্যদের এ বিষয়ে ধৈর্য ধরে শিশুটিকে সাহায্য করতে হবে।

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top