আপনার শিশুর সম্পূর্ণ নিরাপত্তায়

শিশু জন্মানোর পর তার জন্য আদর্শ খাবারটি হল মায়ের বুকের দুধ। অকৃত্রিম এই উপহার শিশুর জন্য সবচেয়ে মূল্যবান। তার বেড়ে ওঠা এবং সুস্থ থাকার প্রধান নিয়ামকও এটি। তবে অনেক শিশুই এই মূল্যবান উপহার থেকে বঞ্চিত হয়। কোনো শিশু বুকের দুধ না পেলে বা খেতে না পারলে সে ক্ষেত্রে ফিডারের ওপর নির্ভরশীল হতে হয়। এ সময় বিনা কারণেও শিশুদের ডায়রিয়া ও বমি হতে দেখা যায়। এই সমস্যার জন্য দায়ি রোটা ভাইরাসটি ছড়াই অপরিষ্কার ফিডার ও নিপলের মাধ্যমে। তাই বলে কি শিশুর দুধ খাওয়ানো বন্ধ রাখতে হবে? মোটেও নয়। বাচ্চার দুধ খাওয়ার ফিডারটি পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত রাখলেই সব সমস্যা সমাধান। সম্পূর্ণ নিরাপদ থাকতে জেনে নেয়া দরকার কিছু প্রয়োজনীয় পদ্ধতি।

* ফিডারের দুধ খাওয়া শেষ হয়ে গেলে দ্রুত ধুয়ে রাখতে হবে। ফিডারে দুধ পরিমাণে বেশি থেকে গেলে ফেলে না দিয়ে তা ফুটিয়ে রাখতে পারেন। ফুটিয়ে পরিষ্কার পাত্রে সংরক্ষণ করা যায়।

* ফিডার ও নিপল দুটোই পরিষ্কার করার জন্য বাজারে আলাদা ব্রাশ পাওয়া যায়। ভালোভাবে পরিষ্কার করে পানি ঝরিয়ে, নিপলের ওপরে ঢাকনা দিয়ে রাখুন। নিপল কখনোই খোলা রাখা ঠিক নয়।

* ফিডার প্রতিদিন দুইবার গরম পানিতে ফুটাতে হবে। ফিডার ফুটানোর আগে অবশ্যই পরিষ্কারক দিয়ে পরিষ্কার করে নিতে হবে। দুধ লেগে থাকা ফিডার পানিতে ফুটাবেন না।

* এক ফিডারেই বারবার দুধ খাওয়ালে তা পরিষ্কার রাখা কষ্টকর। তাই একাধিক ফিডার ব্যবহার করতে পারেন।

* কিনে আনা ফিডার না ফুটিয়ে ব্যবহার করা যাবে না। ফিডার, নিপল, ঢাকনা—সবকিছু গরম পানিতে ফুটিয়ে নিতে হবে।

* ফিডার ও নিপল পরিষ্কার করার পর ব্রাশটিও শুকিয়ে ঢাকনাওয়ালা বক্সে ভরে রাখুন। এতে পোকামাকড়ের ভয় থাকবে না।

* ফিডার ও নিপল পরিষ্কার করার জন্য ব্রাশগুলোও দীর্ঘদিন ব্যবহার করা যাবে না। ব্যবহার শুরুর ১০ থেকে ১২ মাসের বেশি হয়ে গেলে ব্রাশগুলো বাদ দিয়ে দিন।

মায়ের বুকের দুধের পরিবর্তে ফিডার খাওয়া বাচ্চাদের পেট খারাপ হওয়ার আশঙ্কা থাকে বেশি। ফিডার পরিষ্কার রাখার পরেও যদি বাচ্চার সমস্যা দেখা দেয় তবে খেয়াল করুন ফিডার, নিপল বা ফ্লাস্কের মুখে মাছি বা তেলাপোকা বসছে কিনা। এগুলোও প্রচুর জীবানু বহন করে এবয় বাচ্চার ডায়রিয়া ও বমির জন্য দায়ি। তাই বাচ্চার যত্নে বিশেষভাবে সতর্ক থাকুন।

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top