গর্ভবতী নারীরা এড়িয়ে চলুন এই ক্ষতিকর খাবারগুলো

একজন গর্ভবতী নারীর বাড়তি যত্ন নেয়ার প্রয়োজন রয়েছে তা সকলেরই জানা। পুষ্টিকর খাদ্য, সঠিক সময়ের বিশ্রাম, নিয়মিত চেকআপ ইত্যাদির মধ্য দিয়েই যাওয়া উচিত প্রত্যেক গর্ভবতী নারীর। আর তার পাশাপাশি জেনে রাখা উচিত এই সময়ে কোন কাজটি ক্ষতি ডেকে আনতে পারে। এক্ষেত্রে উত্তরা আধুনিক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে কর্মরত মেডিসিনের ডাক্তার, এসোসিয়েট প্রোফেসর ডঃ হালিমা বেগম প্রিয়.কমকে বলেন, ‘গর্ভবতী নারীদের সাধারণ সময়ের তুলনায় একটু বেশী খেতে হয়। কিন্তু এরই মাঝে কিছু ধরণের খাবার খাওয়া নিয়ে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কারণ অনেক ক্ষেত্রেই কিছু খাবারের কারণে গর্ভবতী নারীদের সমস্যা সম্মুখীন হতে দেখা গিয়েছে এবং নানা জটিলতায় পড়তে হয়েছে’। সুতরাং গর্ভবতী নারীদের কিছু খাবার সতর্কতার সাথে এড়িয়ে চলা উচিত।

চীজ

পুরু করে চীজ দেয়া খাবার খাওয়ার মজাই আলাদা। গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে হরমোনের তারতম্যের দরুন নানা ধরণের খাবার খেতে ইচ্ছে হয়। কিন্তু ইচ্ছে হলেও চীজ জাতীয় এবং চীজ দেয়া কোনো খাবার খাওয়া উচিত নয় কখনোই। কারণ চীজের মধ্যে লিস্টারিয়া নামক ব্যাকটেরিয়া রয়েছে যা ফুড পয়েজনিংয়ের সৃষ্টি করে।

কাঁচা বা আধা কাঁচা প্রাণীজ প্রোটিন

গর্ভবতী নারীদের প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় মাছ মাংস, ডিম দুধ ধরণের পুষ্টিকর খাবার রাখা অত্যন্ত জরুরী। কিন্তু এই সকল প্রাণীজ প্রোটিন গর্ভবতী নারীর জন্য যতোটা ভালো ঠিক ততোটাই খারাপ হতে পারে। বিশেষ করে মাংস এবং ডিম জাতীয় খাবার কাঁচা এবং আধা কাঁচা খাওয়া মারাত্মক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। কারণ কাঁচা থাকার সময় এইসকল প্রাণীজ প্রোটিনে নানা ব্যাকটেরিয়া থাকে যা জ্বর, বমি ভাব, পয়েজনিং এবং ডায়রিয়ার সৃষ্টি করতে পারে। তাই যেসকল খাবারে কাঁচা ডিম থাকে যেমন সালাদ ড্রেসিং, ঘরে তৈরি আইসক্রিম, আধা সেদ্ধ ডিম এবং আধা কাঁচা মাংস ধরণের খাবার এড়িয়ে চলতে হবে গর্ভবতী নারীদেরকে।

কলিজা

গর্ভবতী নারীদের এড়িয়ে চলতে হবে কলিজা এবং কলিজার তৈরি যে কোনো খাবার। কারণ কলিজায় রয়েছে অনেক বেশী পরিমাণে ভিটামিন এ এর রেটিনল ফর্ম যা গর্ভের শিশুর সঠিক বৃদ্ধিতে বাঁধা প্রদান করে। সুতরাং গর্ভাবস্থায় কখনোই কলিজা খাবেন না।

সামুদ্রিক মাছ ও সীফুড

গর্ভাবস্থায় কখনোই সামুদ্রিক মাছ এবং সীফুড ধরণের খাবার খাওয়া উচিত নয় গর্ভবতী নারীদের। অয়েস্টার, সুশি, টুনা অন্যান্য সামুদ্রিক মাছ এবং সীফুড ধরণের খাবারে রয়েছে অরিতিক্ত মাত্রায় মারকিউরি। যা গর্ভকালীন জটিলতার সৃষ্টি করতে পারে। সুতরাং সাবধান।

কফি

কফির ব্যাপারে ডঃ হালিমা বেগম প্রিয়.কমকে বলেন, ‘কফির ক্যাফেইন স্টিমুলেন্ট হিসেবে কাজ করে যা হৃদস্পন্দন বাড়ায়, উচ্চ রক্তচাপের সৃষ্টি করে যা গর্ভবতী নারীদের জন্য বেশ ক্ষতিকর’। এছাড়াও কফি পানের ফলে প্রস্রাব বেশী হয় যার প্রভাবে দেহ পানিশূন্য হওয়ার আশংকা দেখা দেয়। সুতরাং কফি পান করা থেকে বিরত থাকুন।

অ্যালকোহল সমৃদ্ধ খাবার

সরাসরি অ্যালকোহল পান না করলেও প্রতিটি খাবারের লেবেল দেখে নেয়া উচিত। কারণ আমাদের দৈনন্দিন অনেক খাবারেই অ্যালকোহল উপকরণ হিসেবে থেকে থাকে তা সে যতো কম মাত্রারই হোক না কেন। এইসকল খাবার থেকে দূরে থাকতে হবে। কারণ অ্যালকোহল সমৃদ্ধ খাবার খেলে তা গর্ভের শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে বাঁধা প্রদান করে।

আরও তথ্যসূত্র: হেলথডাইজেস্ট

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top