বাচ্চা প্রযুক্তিতে অাসক্ত নয় তো?

বাবা মায়ের ব্যস্ততার কারণে বাচ্চাদেরকে ব্যস্ত রাখেন নানা জিনিস দিয়ে। তাদের সময়টা আনন্দের করতে হাতে তুলে দেন স্মার্টফোন, ট্যাব, ভিডিও গেমস। ব্যস্ত থাকার এসব উপকরণ পেয়ে বাচ্চারাও খুব খুশি। এমনকি অনেক সময় বাচ্চারা এসব জিনিসে আসক্ত হয়ে পড়ে। পড়াশুনা বা অন্যদের সঙ্গে স্বাভাবিক মেশা বন্ধ হয়ে যায়। হাতের কাছে এসব জিনিস না পেলে কান্নাকাটিও শুরু করে দেয়। আর এ অভ্যাস বাচ্চার জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে।

বিখ্যাত প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ স্টিভ জবসকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল তার বাচ্চারা অ্যাপল এর আইপ্যাড পছন্দ করে কিনা। তখন তিনি বলেছিলেন- ‘তারা আইপ্যাড ব্যবহার করেনা এবং বাচ্চারা কোন কোন প্রযুক্তি ব্যবহার করবে তা আমরাই ঠিক করে দিই’।

জ্ঞান বিজ্ঞানের উৎকর্ষতার হাতিয়ারই যেখানে প্রযুক্তি সেখানে বাচ্চাদের এগিয়ে রাখতে তাদের ব্যবহারের সুযোগ দিতে হবে। তা না হলে তারা পিছিয়ে পড়বে। তবে এক্ষেত্রে অবশ্যই ব্যবহারের নির্দিষ্ট সীমা থাকতে হবে। একই সঙ্গে প্রযুক্তিকে তারা কী কাজে ব্যবহার করছে সেদিকেও বাবা মায়ের নজর রাখতে হবে। বাচ্চাদের ল্যাপটপের পরিবর্তে ডেস্কটপ ব্যবহার করতে দিলে আপনার নজরদারিতে সুবিধা হবে। কারণ ডেস্কটপ খোলা জায়গায় রেখে কাজ করতে হয়, সহজে বাচ্চা কিছু লুকাতে পারবে না। কিন্তু ল্যাপটপ আপনাকে টপকে যাবে সহজে।

দিনের কত সময় বাচ্চারা প্রযুক্তি ব্যবহার করবে তাও ঠিক করে দেয়া উচিৎ। অধিক সময় ধরে প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে বাচ্চাদের স্থুলতা এবং মেরুদণ্ডে ব্যথার ঝুঁকি বেড়ে যায়। এছাড়া তাদের মানসিক ক্ষমতারও ধীরে ধীরে অবনতি ঘটে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক সম্পর্কে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের সহকারী অধ্যাপক ড.হেলাল উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘ফেসবুকে একজন মানুষ সাধারণত সুন্দর ও সুখময় মুহূর্তের ছবি রাখে। বাচ্চারা এসব দেখে ভাবে সবার জীবন হয়তো শুধুই সুখে ভরা। নিজের জীবনের ব্যর্থতা, কষ্টের কথা মনে করে তারা একাকীত্ব অনুভব করে। যা আমাদের সবার ক্ষেত্রেই সত্যি’।

শিশুদের গঠনমূলক এবং সৃজনশীল চিন্তার বিকাশ ঘটাতে বাবা মায়ের উচিৎ সময় দেয়া। তবে আজকাল বাচ্চাদের উপযোগী পার্ক কিংবা খেলার মাঠও পর্যাপ্ত নেই। যা অনেক অভিভাবকেরই ক্ষোভের কারণ।

প্রযুক্তির আসক্তি দূর করতে বাচ্চাকে ভালো বই পড়তে দিতে হবে, সৃজনশীল কাজে যুক্ত রাখতে হবে। প্রকৃতির কাছে নিয়ে যেতে হবে। প্রযুক্তি পণ্যে বাচ্চা যা দেখছে তা যেন তাদের বয়স উপযোগী হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। সঠিক সচেতনতা, পর্যবেক্ষণ এবং কার্যকর বিকল্প মাধ্যম ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা নিশ্চিত হতে পারবো যে, আমরা এমন একটি প্রজন্ম তৈরি করবোনা যারা হবে স্মার্টফোনের প্রজন্ম তবে কম আধুনিক।

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top