সন্তানটি কার? বাবার না মায়ের?

অনেক কষ্ট আর ত্যাগের পরে মা বাবার কোল আলো করে আসে সন্তান। পরম যত্নে মমতায়, লালিত পালিত হতে থাকে শিশুটি। তাদের সব স্বপ্ন গড়ে ওঠে প্রিয় সন্তানটিকে কেন্দ্র করে। কিন্তু জীবনের কোন কোন মুহূর্তে মা এবং বাবা দুজনেই দাবি করে বসে সন্তানটি শুধুই তার। আবার কখনও উল্টোটাও হয়। মা বাবা কেউই যেন সন্তানের ভুলের দায়িত্ব নিতে চান না। তাহলে প্রশ্ন থেকে যায় সন্তানটা আসলে কার? মায়ের বা বাবার? এ প্রসঙ্গে প্রিয়.কমের সাথে কথা বলেছেন সাইকোলোজিস্ট এবং সেভ দ্যা চিলড্রেনের ম্যানেজার (চাইল্ড প্রোটেকশন) ফ্লোরা জেসমীন দীপা। প্রথমেই জেনে নিই সন্তানকে নিয়ে মা বাবার দ্বন্ব নিয়ে। এরপর জেনে নিব সাইকোলোজিস্টের বক্তব্য।

মা বাবার দ্বন্দ্ব:

আপনি সন্তানকে মাঝে মাঝে শাসন করেন। মাঝে মাঝে কোন কারণ ছাড়াই করেন। তখন আপনার সঙ্গী যদি এ বিষয়টা নিয়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখায়, তখন আপনি জোর গলায় বলে বসেন, “আমার সন্তানকে আমি মেরেছি, তাতে তোমার কী?” তখন আপনার ভাব ভঙ্গি এমন হয়ে পড়ে যে সন্তানটা আপনার একার ব্যক্তিগত সম্পত্তি। আবার যখন আপনার সন্তান খারাপ ফলাফল করে তখন আপনি বলে বসেন, “তোমার সন্তান রেজাল্ট খারাপ করেছে।” এ সময় আপনি আগের অবস্থান থেকে ৩৬০ ডিগ্রি এঙ্গেলে ঘুরে গেছেন। এছাড়া অনেক ক্ষেত্রে মা সন্তানকে পড়াতে চান ইংলিশ মিডিয়ামে, বাবা পড়াতে চান বাংলা মাধ্যমে। আবার বাবা তাকে বানাতে চান ডাক্তার, মা বানাতে চায় ইঞ্জিনিয়ার। অর্থাৎ সার্বিকভাবে আপনাদের বিরূপ আচরণে বলির পাঁঠা হয় প্রিয় সন্তানটি।

সাইকোলোজিস্টের বক্তব্য:

সাইকোলোজিস্ট এবং সেভ দ্যা চিলড্রেনের ম্যানেজার (চাইল্ড প্রোটেকশন) ফ্লোরা জেসমীন দীপা এ প্রসঙ্গে প্রিয় ডট কমকে বলেন, “সত্যি বলতে সন্তান আপনার ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। জাতিসংঘের শিশু সনদেও এই কথা বলা হয়েছে। বরং আপনি সন্তানের Duty Bearer. এ প্রসঙ্গে যেসব জিনিস মনে রাখতে হবে তা হল-

প্রথমত, সন্তানকে শারীরিক নির্যাতন করার কোন অধিকার আপনার নেই। সে যখন কোন খারাপ আচরণ করে তখন তাকে বুঝিয়ে বলুন। তার বন্ধু হওয়ার চেষ্টা করুন।

দ্বিতীয়ত, তার ফলাফল খারাপ হলে তার মূল সমস্যাটা বোঝার চেষ্টা করুন। কারো উপর দোষ চাপিয়ে দেওয়া কোন সমাধান নয়।

তৃতীয়ত, সন্তানকে আগে ভাগে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার বানানোর স্বপ্ন দেখবেন না। আগে বোঝার চেষ্টা করুন তার আগ্রহ ও মেধা কোনদিকে। তারপর তার সাথে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিন।

চতুর্থত, সন্তান আপনাদের কারো একার নয়। আবার সন্তানকে ৫০-৫০ শেয়ারে ভাগ করে নেওয়ারও কোন উপায় নেই। আসল সত্যটা হচ্ছে সন্তান পুরো ১০০ ভাগ আপনাদের দুজনের। এই ১০০ ভাগের কথা চিন্তা করেই সন্তানের ভুলে, বিপদে, সমস্যায়, অন্যায়ে মা বাবা দুজনকেই তার পাশে থাকতে হবে। মনে রাখবেন এখানে জেদের কোন স্থান নেই। এখানে কেউ পরাজিত নয়, সবাই জয়ী।”

বিশেষজ্ঞঃ

ফ্লোরা জেসমীন দীপা,
সাইকোলোজিস্ট
এবং ম্যানেজার (চাইল্ড প্রোটেকশন)
সেভ দ্যা চিলড্রেন ।

ফটো ক্রেডিটঃ Azim Alahi‎

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top