শিশুদের সামনে সংযত আচরণ

সন্তান আমাদের সেই সম্পদ, যাদের আমরা লালন করি নিজেদেরদের সবটুকুন ব্যয় করে। সন্তানকে সঠিক ভাবে মানুষ করতে, একজন যোগ্য নাগরিক হিশাবে গড়ে তুলতে আমাদের চেষ্টার ত্রুটি থাকে না। নিজের সাধ্যের মাঝে কিংবা সাধ্য অতীত সমস্ত সুযোগ সুবিধাই আমরা পৌঁছে দিতে চাই নিজ নিজ সন্তানকে। কিন্তু কখনও কি ভেবে দেখেছেন যে নিজের অজান্তেই হয়তো আপনি দিয়ে ফেলছেন সেই আদরের সন্তানকে খারাপ কিছু? কিংবা আপনার আচরণের কারণে সে শিখে নিচ্ছে কিছু ঋণাত্মক জীবনভঙ্গি?

যেমন ধরুন, আপনার শিশুটি খেলছে, অথচ পাশেই চলছে অন্যের সমালোচনা। কিংবা চলছে সন্তানের সামনে জীবনসঙ্গীর সাথে আপনার ঝগড়া। আড্ডায় উঠে আসছে প্রতিবেশীকে নিয়ে রসালো মন্তব্য, ফোনে বলছেন অশালীন কথা অথবা খাবার টেবিলে বসে কাজের লোককে ধমক। আমরা না বুঝেই ছোটদের সামনে এমন অনেক আচরণ করে থাকি যা করা একান্তই অনুচিত। বড়রা বেশির ভাগ সময় খেয়াল করেন না ছোটরা তাদের এসব আচরণ ধারণ করছে খুব সহজেই।

শিশুদের সামনে হয়তো অনেকক্ষণ যাবৎ টিভি দেখা হয় রোজ। প্রায় সময়ই দেখা যায় তা শিশুতোষ নয়। প্রাপ্তবয়স্কদের এই নানা অনুষ্ঠান,নাটক তাকে সহজেই প্রভাবিত করছে। মারামারির দৃশ্য,হিংসা,মিথ্যা বলা থেকে শুরু করে আপত্তিকর দৃশ্য তাকে আর্কষিত করে। তার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য সেভাবে গড়ে উঠছে। তাই বলে পরিবারের লোকজন টিভি দেখবে না তা নয়। শিশুরা তো বেশিক্ষণ জেগে থাকে না। রাত ১০টার মধ্যে অবশ্যই ঘুমিয়ে দিতে হবে। তারপর টিভি দেখা যেতে পারে।

শিশুদের সামনে বাসার কাজের লোকটিকে হয়তো মারধর বা গালি দেয়া হয়। এতে শিশুটি তা শিখে ফেলে। হিংস্রতা তার চরিত্রে ঢুকে পড়ে। দেখা গেল সেও গালিটি রপ্ত করে ফেলেছে। শিশুরা অনুকরণ প্রিয়। ভালমন্দ বিচার করতে পারে না। সেকারণে ওদের সামনে সব কথা নম্রভাবে বলা উচিত। আপনি যা বলবেন সে তাই বিশ্বাস করবে। যেসব বিষয় সম্পর্কে পরিবারের সবার বিশেষ করে মা-বাবার সচেতন থাকা উচিত তা হল

কখনোই শিশুর সামনে কারও সমালোচনা করা উচিত নয়। সন্তান পাশে খেলছে। আপনি বসে গল্প করছেন। কিংবা ফোনে কারও সঙ্গে কথা বলছেন। সে সময় কাউকে নিয়ে কটুক্তি বা মন্তব্য করে বসলেন। আপনি হয়তো ভাবলেন ছোট হওয়ায় ও হয়তো বুঝবে না। কিন্তু আপনার কথা বা আচরণ তো সে শুনল , দেখল। এতে তার সেই ব্যক্তিটি সম্পর্কে খারাপ ধারণ াহবে। না বুঝে সেই ব্যক্তির সামনে সে বলতেই পারে। তখন আপনাকে বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হবে। সন্তানের অনুপস্থিতিতে একান্ত কথা কাউকে বলতে পারেন।

বিশেষ দিনে বা অনুষ্ঠানে প্রায়ই আমরা উপহার পেয়ে থাকি। পছন্দ না হলে বা না বুঝেই সেটি নিয়ে মন্তব্য করি। পরে দেখা যায় শিশুটিও তাতে অভ্যস্ত হয়ে যায়। বড়দের সামনে তা বলেও ফেলে। তখন কিন্তু বাবা-মা তাকে শাসন করেন। তাদের নিজেদের আচরণের কারণে শিশুটি তা শিখেছে সেটি তারা বোঝেন না।

বাবা-মার মধ্যে কথা কাটাকাটি বা ঝগড়া হলে তা শিশুর সামনে প্রকাশ না করাই ভালো। স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়া ঘরের দরজা ভালোভাবে বন্ধ করে নিচু গলায় করা উচিত। মাঝে মাঝে দেখা যায় স্বামী স্ত্রী পরষ্পরের সমালোচনা সন্তানের সামনে করে। এতে তাদের সর্ম্পকে সন্তানের বিরুপ মনোভাব গড়ে উঠতে পারে।

প্রতিবেশীকেও নিয়ে কোন কথা সন্তানের সামনে বলবেন না। সেই পরিবার বা ব্যক্তিটি সম্পর্কে তার মনে ভিন্ন ধারণা তৈরি হবে। পরবর্তীতে সে তাকে শ্রদ্ধা করবে না। সুতরাং কোন নেতিবাচক আচরণ বা কথা শিশুর সামনে বলা যাবে না। এছাড়া শিশুদের সামনে অন্যকে অবহেলা, উপেক্ষা বা অন্যের সাফল্যকে ছোট করে দেখা উচিত নয়। এসব আচরণ সে রপ্ত করে ফেলবে। শিশূটির মধ্যে মানবিকতা কমে যাবে। আত্মকেন্দ্রিক হয়ে পড়বে। তাই অন্যের সামাজিক ,সৃজনশীল ও গঠনমূলক কাজের প্রশংসা করুন ওর সামনে।

আপনার ছোট আচরণের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে সন্তানের বিকাশ সঠিকভাবে হবে। এজন্য প্রয়োজন আরেকটু সচেতনতা।

 

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top