শিশুর সাধারণ যেসব স্বাস্থ্য সমস্যা জটিল আকার ধারণ করতে পারে

গর্ভাবস্থা সত্যিই বিস্ময়কর একটি বিষয়। শিশু যখন মাতৃ জঠরে নিরাপদে বড় হতে থাকে তখন তার কোন অভিজ্ঞতা বা নির্দেশনার প্রয়োজন হয়না। শিশু যখন জন্ম গ্রহণ করে তখন এই প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ পরিবর্তিত হয়ে যায়। শিশুর সামান্যতম সংকেতের মাধ্যমেই পিতামাতাকে তার প্রয়োজন ও যন্ত্রণা সম্পর্কে বুঝতে হয় ও তার প্রতিটি বিষয়েই হস্তক্ষেপ করতে হয়। আপনি যদি নতুন মা (বা বাবা) হয়ে থাকেন তাহলে আপনাকে আপনার সন্তানের সুস্থতা ও ভালো থাকা নিয়ে প্রায়ই দুশ্চিন্তায় পড়তে হয়। ছোট শিশুকে সামলানো আসলেই অনেক চ্যালেঞ্জিং কাজ। কারণ তারা তাদের সমস্যার কথা বলতে পারেনা। তাই শিশুর সমস্যার মুল কারণ চিহ্নিত করা অনেক কঠিন। তাই শিশুর কিছু সমস্যার ব্যপারে জেনে রাখা ভালো যা শিশুর ক্ষেত্রে স্বাভাবিক ভাবেই হয় কিন্তু আস্তে আস্তে সেটিই দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। শিশুর সেই রকম কিছু স্বাস্থ্য সমস্যা সম্পর্কে জেনে নিব আজ।

১। কানের সংক্রমণ

শিশুর কানের অভ্যন্তরের গঠন উন্নয়নশীল অবস্থায় থাকে। তাই কানে যেকোন ধরণের তরলের আধিক্য ইনফেকশন সৃষ্টি করে। এই প্রকার ইশনেকশনের জন্য কানে ব্যথা হতে পারে ও ফুলে যেতে পারে। যদি এই সমস্যাটি সময় মত চিহ্নিত করা না যায় তাহলে শিশুর জন্য মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। কানের সংক্রমণের সমস্যা হলে যে লক্ষণ গুলো প্রকাশ পায় তা হল- কানে ব্যথা হয়, যন্ত্রণা অনুভব করে, ক্রমাগত কান টানে এবং জ্বর আসে। এই ধরণের ইনফেকশন প্রতিরোধের জন্য এবং কোন ক্ষতি যেন না হয়ে যায় তার জন্য চিকিৎসার প্রয়োজন। শিশু বিশেষজ্ঞ এই সমস্যাটি সঠিক ভাবে সনাক্ত করে অ্যান্টিবায়োটিক বা অ্যান্টিইনফ্লামেটরি ঔষধ প্রদান করবেন। গরম সেঁক দেয়ার মাধ্যমেও কানের ব্যথা ও ফুলা কমানো যায়।

২। আনডিসেন্ডেড টেস্টিকলস

ছেলে শিশুর উদরের মধ্যে অণ্ডকোষ বা টেস্টিকল বিকশিত হয় এবং জন্মের কয়েক সপ্তাহ আগে বা জন্মের কিছুদিন পর টেস্টিকল স্ক্রোটাম বা অন্ডথলিতে অবতীর্ণ হয়। অনেক সময় একটি অথবা উভয়টিই জায়গামত আসেনা, একেই “আনডিসেন্ডেড টেস্টিকলস” বলে। আবার অনেক সময় টেস্টিকল স্ক্রোটাম থেকে উদরে চলে আসতে চায়, একে রিট্রেকটাইল টেস্টিকল বলে। ওক্লোহামা বিশ্ববিদ্যালয়ের হেলথ সাইন্স সেন্টারের পেড্রিয়াট্রিক ইউরলজি বিভাগের অধ্যাপক ও এমডি William Reinerএই বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন। একশো জনের মধ্যে একজন ছেলে শিশুর “আনডিসেন্ডেড টেস্টিকলস” সমস্যাটি হয় এবং বেশি হয় প্রিম্যাচিউর  ছেলে শিশুদের। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই জন্মের ৬-১২ মাসের মধ্যে টেস্টিকল সঠিক স্থানে চলে যায়। Dr. Reiner বলেন, যদি এরা সঠিক স্থানে না যায়, তাহলে শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ হরমোন থেরাপি বা সাধারণ অপারেশনের পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

৩। ঘন্টার পর ঘন্টা কাঁদা

ছোট শিশু অনেক কাঁদে এতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই। শিশুর কান্নার স্পষ্ট কোন কারণ থাকে। কিন্তু যদি আপনার শিশু সন্তান আপনার কোলে থেকেও অনবরত কেঁদে চলে তাহলে তা চিন্তিত করে বৈকি। যদি আপনার শিশু সন্তানের পেট ভরা থাকে, ঠিক ভাবে বাতাস পায়, পরিষ্কার ডায়াপার পড়ানো থাকে তারপরও যদি কাঁদে তাহলে তাকে শান্ত করার সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে, বাহিরে ঘুরিয়ে নিয়ে আসা বা আস্তে আস্তে দোলানো। Seattle Children’s Hospital  এ অবস্থিত Odessa Brown  Children’s Clinic এর Dr. Benjamin Danielson   বলেন, শিশুর এনার্জি লেভেল ও প্রাকৃতিক ছন্দের কারণে শিশু যতই শান্ত হোকনা কেন, বিকাল ৪ টা থেকে সন্ধ্যা ৭ টার মধ্যে শিশুর মেজাজ খিট খিটে হয়। এই ধরণের কান্না ২ মাস বয়স থেকে শুরু হয়, এবং সাধারণত তৃতীয় মাসেও এটা চলে। পঞ্চম ও অষ্টম সপ্তাহের মধ্যে বৃদ্ধি পায়। এই কান্না যদিও দুঃখজনক ও অসুবিধাজনক তথাপি এটা স্বাভাবিক। শিশুর কান্নার ধরণের ব্যাপারে আপনি অভ্যস্ত হয়ে যাবেন। যদি কখনো তার কান্নার শব্দ আপনার কাছে অন্যরকম মনে হয় যেমন- ব্যথায় চিৎকার করে কাঁদে বা ক্রমাগত কান্না করে থাকে তাহলে স্বাস্থ্যগত কোন সমস্যার জন্য কাঁদছে বুঝতে হবে। এবং একজন শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে।

এরকম আরো কিছু সমস্যা হল – কফ ও থুথু দেয়া, রাতে না ঘুমানো, শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া, জ্বর, ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্য হওয়া, পুষ্টির ঘাটতি হওয়া, ইঙ্গুইনাল হার্নিয়া, ইউটিআই ইত্যাদি।

 

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top